ঝালকাঠিতে সরিষা চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষকরা,

প্রকাশিত: ১২:২৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ৭, ২০১৯ | আপডেট: ১২:২৫:অপরাহ্ণ, মার্চ ৭, ২০১৯

ঝালকাঠি জেলায় সরিষা চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষকরা। যে কারণে কৃষি বিভাগের সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। পাইকারী ক্রেতা না আসা বা প্রক্রিয়াজাত করণের সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনা না থাকার কারণে সরিষা চাষকে অলাভজনক ফসল হিসেবে তারা ধরে নিয়েছেন। কৃষকদের অভিযোগ,জমি কর্ষণ, বীজ বপণ, পরিচর্যা, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ সব মিলিয়ে যে পরিমাণ খরচ হয়, তাতে ফসল উৎপাদনের পর তা বাজারে নিয়ে খুচরা বিক্রি করে লাভ হয় না। তাই কৃষকরা আগের মতো সরিষা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন না।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, সরিষা বা সরষে ব্রাসিকা (ইৎধংংরপধ) বা ক্রুসিফেরি (ঈৎঁপরভবৎধব) গোত্রের কয়েক প্রজাতির তেল প্রদায়ী দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ। এর ডিম্বক বক্রমুখী। সরিষা একবর্ষজীবি উদ্ভিদ। এর উৎপত্তিস্থল এশিয়া। ভারতীয় উপমহাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে শীতকালীন রবি শস্য হিসেবে সরিষার চাষ করা হয়। সরিষার গাছ দৈর্ঘ্যে প্রায় ১ মিটার মত হয়, তবে রাই সরিষা ২ মিটারও উঁচু হতে পারে। সরিষার দানা মূলত ভোজ্য তৈল হিসাবে ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া সরিষার দানা মসলা, সরিষার শাক সবজি হিসাবে খাওয়া হয়। সরিষা দিয়ে কাসুন্দি তৈরি করা হয়। সরিষার দানা পানির সাথে মিশিয়ে ভিনেগারসহ বিভিন্ন তরল তৈরি করা হয়, দানা পিষে সরিষার তেল তৈরি করা হয়, যা রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়।
সরিষার চাষের জন্য মাটি হতে হবে এঁটেল দোআঁশ, বেলে দোআঁশ বা দোআঁশ মাটি উপযুক্ত। সরিষার বীজ বপনের উপযোগী সময় অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত। সরিষার চাষের জন্য জমি তৈরি করার সময় জমিতে ৩-৪ টি ভালো করে চাষ ও মই দিয়ে বীজ বপন করতে হবে। হেক্টর প্রতি ইউরিয়া ২৭০-২৮০ কেজি, টিএসপি ১৮০-১৯০ কেজি, মিউরেট অব পটাশ ৬০-৭০ কেজি, জিপসাম ২৬০-২৮০ কেজি সার দিতে হয়। এছাড়াও প্রয়োজনে অন্যান্য সার দেওয়া যেতে পারে। মাটির প্রকারভেদে অনেক সময় এই পরিমাণের চেয়ে সার কম-বেশি লাগতে পারে। অর্ধেক পরিমাণ ইউরিয়া এবং সব টিএসপি, এমপি ও জিপসাম সার জমি তৈরি করার সময় মাটির সঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে দিতে হবে। বাকি অর্ধেক ইউরিয়া বীজ বপনের ৩০-৩৫ দিন পর ছিটিয়ে দিতে হবে। আমাদের দেশে সাধারণত বীজ ছিটিয়ে বোনা হয়। বর্তমানে সরিষা সারিতে ও বোনা হয়। জমিতে বীজ ছিটিয়ে বুনলে বীজগুলো মই দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। যাতে করে পাখিতে নষ্ট না করতে পারে। বীজ বোনার সময় খেয়াল রাখতে হবে বীজ যেন বেশি ঘন করে বোনা না হয়। হেক্টর প্রতি জমিতে ৬-৮ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়। সারিতে বুনলে ৪-৫ কেজি বীজ লাগতে পারে। সরিষার ক্ষেতের জমিতে আগাছা দেখা দিলে বীজ গজানোর ২৫-৩০ দিনের মধ্যে আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। এবং মাটির অবস্থা বুঝে কয়েকটি সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। সরিষা ক্ষেতের প্রধান শত্র“ জাব পোকা। এ পোকার আক্রমনে সরিষার ফলন অনেক কম হয়। ফুলের কুঁড়ি আসা শুরু হলে এ পোকার আক্রমণ দেখা যায়। এ পোকা দমনের জন্য বিভিন্ন কীটনাশক ব্যবহার করে দমন করতে হবে। জমিতে কীটনাশক বিকালের দিকে দেয়া ভাল। এতে যদি পোকা দমন না হয় তাহলে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার নিকট হতে পরামর্শ নিতে হবে। সরিষা গাছের ফল হলুদ রঙের হলে ফসল তোলা যায়। গাছের গোড়া টেনে বা কাঁচি দিয়ে কেটে সরিষা গাছ সংগ্রহ করা যায়। এরপর ভালো করে ৪-৫ দিন রোদে শুকিয়ে সরিষার বীজ সংগ্রহ করতে হয়।
ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শাহ জালাল জানান, ঝালকাঠি জেলায় সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৪৩৮ হেক্টর জমির চাষাবাদ করা হয়েছে ৩৭০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ঝালকাঠি সদর উপজেলায় ১৯০, নলছিটি উপজেলায় ১৯০, রাজাপুর উপজেলায় ৩০ ও কাঠালিয়া উপজেলায় ২৮ হেক্টর জমিতে চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো। চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে ঝালকাঠি সদর উপজেলায় ১৯০, নলছিটি উপজেলায় ১২৫, রাজাপুর উপজেলায় ৩৫ ও কাঠালিয়া উপজেলায় ২০ হেক্টর জমিতে। জেলায় চাষাবাদে মোট ঘাটতি রয়েছে ৬৮ হেক্টর জমি। কাঙ্খিত চাষাবাদ অর্জিত না হবার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, পাইকারী ক্রেতা না আসা বা প্রক্রিয়াজাত করণের সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনা না থাকার কারণে অলাভজনক ফসল হিসেবে তারা ধরে নিয়েছেন কৃষকরা।