ন্যূনতম ‘সমঝোতা’ চায় বিএনপি

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৭, ২০১৯ | আপডেট: ১০:০৯:পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৭, ২০১৯

কোনো একটা রাজনৈতিক ‘সমঝোতা’ ছাড়া সংসদে যাবে না বিএনপি। বিদ্যমান পরিস্থিতির মধ্য থেকে রাজনৈতিকভাবে কিছুটা হলেও ‘সুবিধা’ আদায় করে নিতে চায় দলটি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দিক থেকে তারা এমন একটা উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছে, যার ফলে বিএনপির জন্য সামনের সময়টা কিছুটা হলেও ‘স্বস্তিদায়ক’ হয়ে উঠবে। ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদেরও শান্ত করার মতো সান্ত্বনার জায়গা তৈরি হবে। নূ্যনতম ‘সমঝোতা’ ছাড়া সংসদে যাওয়ার কথা ভাবছেন না বিএনপি নেতারা। তাদের মতে, শুধু শুধু সংসদে গিয়ে ‘একতরফা’ নির্বাচনে বিজয়ী সরকারকে ‘বৈধতা’ দেওয়ার চেয়ে একটা সমঝোতার চেষ্টা করা ভালো। এ ক্ষেত্রে দলটির প্রধান শর্ত হবে কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি। অন্যান্য শর্তের মধ্যে দলের অসংখ্য নেতাকর্মীর কারামুক্তি ও ‘গায়েবি’ মামলা প্রত্যাহার, নির্বিঘ্নে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন এবং গণতান্ত্রিক ও ইতিবাচক রাজনীতির চর্চার দ্বার উন্মোচন করা অন্যতম। অনানুষ্ঠানিকভাবে হলেও এসব ইস্যুতে একটি কার্যকর ফয়সালা চায় জাতীয় নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যানকারী বিএনপি। শর্তপূরণ সাপেক্ষেই কেবল চলতি সংসদে যোগ দেওয়ার কথা ভাবার পক্ষে দলটির নেতারা। বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করলেও শপথ নেওয়া বা না নেওয়ার ব্যাপারে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বিএনপি। দলের একটি অংশ সংসদে গিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করার পক্ষে; অপর অংশ, কারচুপির নির্বাচন বাতিল করে আবার সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে। তবে ভোটে নির্বাচিত বিএনপির ছয় এমপি শপথ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাবেন আরও ৫৬ দিন। এ সুযোগ কাজে লাগিয়েই নির্বাচনে অকল্পনীয় বিপর্যয়ের পরও রাজনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছে বিএনপি। তাই এখন পর্যন্ত শপথ নেওয়ার বিষয়ে কৌশলে উত্তর দিচ্ছেন বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। যদিও দল ও জোটের সিদ্ধান্ত না মেনে ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত গণফোরামের দুই নেতা সুলতান মো?হাম্মদ মনসুর ও মোকাব্বির খানের আজ বৃহস্পতিবার শপথ নেওয়ার কথা ছিল। তবে গতকাল বুধবার বিকেলে গণফোরামের প্রেসিডিয়ামের এক বৈঠক শেষে সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার মোকাব্বির খান শপথ নিচ্ছেন না। বৈঠকে উপস্থিত মোকাব্বির খানকে বলা হয়েছে, শপথ নেওয়ার এখনও সময় আছে, অপেক্ষা করুন? দল ও জোট কি সিদ্ধান্ত নেয়- সেটা দেখুন। তবে সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন সুলতান মনসুর। তিনি আজ শপথ নিচ্ছেন।

এদিকে বিএনপি তাদের নির্বাচিত এমপিদের শপথ না নেওয়ার বিষয়ে প্রকাশ্যে অনড় মনোভাব দেখালেও কূটনীতিকদের মাধ্যমে সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বিএনপিকে সংসদে নেওয়ার পাশাপাশি খালেদা জিয়াকে জামিনে মুক্ত করার বিষয়ে দূতিয়ালি করছেন প্রভাবশালী কয়েকটি দেশের কূটনীতিকরা। তারা বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক, অনানুষ্ঠানিক বৈঠক ও চা-চক্রের মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। গতকালও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের একজন সদস্যের সঙ্গে কয়েকজন কূটনীতিক বৈঠক করেন।

বিএনপির উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের পরপরই দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিনিয়র নেতাদের আপাতত শপথ না নেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। একইসঙ্গে নির্বাচন বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে সোচ্চার হওয়ার নির্দেশনা দেন। দেশে-বিদেশে নির্বাচনের ‘গ্রহণযোগ্যতা’ নিয়ে জনমত গড়ে তোলারও নির্দেশনা দেন। দলের হাইকমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছেন সিনিয়র নেতারা।

প্রকাশ্যে শপথ না নেওয়ার কঠোর মনোভাব দেখিয়ে সরকারকে চাপের মুখে ফেলে দলের চেয়ারপারসনকে জামিনে মুক্ত করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল বুধবার মানববন্ধন কর্মসূচিতে একাদশ সংসদ নির্বাচন বাতিল করে দ্রুত নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করেছেন। একইসঙ্গে আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার ঘোষণা দেন তিনি।

বিএনপি সূত্র জানায়, বেশ কিছুদিন ধরেই দেশি-বিদেশি শুভাকাঙ্ক্ষীরা সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে গণতান্ত্রিক ও ইতিবাচক রাজনীতির স্বার্থে বিএনপিকে সংসদে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের বাসভবনে সম্প্রতি এক বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা কয়েকটি দেশের কূটনীতিকরা সংসদে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি নেতাদের মনোভাব জানতে চান। ওই বৈঠকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে ড. মঈন খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

সূত্র জানায়, ওই বৈঠকে ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি নেতারা সংসদে যোগ দেওয়ার মতো অবস্থায় তারা নেই বলে জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, এ ক্ষেত্রে সরকারকে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। নির্বাচনের অনিয়ম ও কারচুপির চিত্র তুলে ধরে তারা বলেন, বিএনপির মতো একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল মাত্র ছয়টি আসন পেতে পারে না। তারা প্রশ্ন তোলেন, প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে লোক দেখানো নির্বাচনে বিজয়ী সরকারকে কেন তারা স্বীকৃতি দিতে যাবেন? খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে কেন সংসদে যাবেন তারা?

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যাওয়ার কথা বললেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রেও গিয়েছিলেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। ওই সব বৈঠকেও বিএনপির ভবিষ্যৎ গন্তব্য সম্পর্কে তারা জানতে চেয়েছেন। মির্জা ফখরুল সেখানে নির্বাচনের অনিয়ম ও খালেদা জিয়ার কারাবন্দি থাকা এবং দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার গায়েবি মামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। বিএনপি মহাসচিব যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের কাছে দলের রাজনৈতিক অবস্থান অবহিত করেন।

অন্যদিকে, সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিদেরও কেউ কেউ বিএনপিকে সংসদে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। বিএনপি নেতাদের তারা বলছেন, যে ধরনের নির্বাচনেই বিজয়ী হোক, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এখন আওয়ামী লীগই। আর জাতীয় পার্টি বিরোধী দলের আসনে বসলেও জনগণ বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্টকেই বিরোধী দল মনে করে। এ পরিস্থিতিতে সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সত্যিকারের বিরোধী দলের ভূমিকা রাখতে পারেন বিএনপির এমপিরা।

নাম প্রকাশ না করে বিএনপির একজন নেতা জানান, খালেদা জিয়াকে যে কোনো প্রক্রিয়ায় মুক্তি দিলেই বিএনপি চলতি সংসদে যাওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক চিন্তাভাবনা করতে পারে।

সবার আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি :দলীয় সূত্র জানায়, রাজনৈতিক সমঝোতার ক্ষেত্রে সবার আগে খালেদা জিয়াকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিএনপি নেতারা। এ ক্ষেত্রে অন্তত সরকারের নির্বাহী আদেশে প্যারোলে মুক্তি দিয়ে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো অথবা তার বাসভবনকে সাবজেল হিসেবে ঘোষণা করে সেখানে তাকে রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার বর্তমান ভাড়া করা বাসভবনের পরিবর্তে গুলশান-২-এর নিজস্ব বাড়িকেও বেছে নেওয়া যেতে পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে মঙ্গলবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের বৈঠকেও খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার পাশাপাশি মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে। ঢাকা বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করানোর দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে বিদেশে পাঠিয়ে উন্নত চিকিৎসার দাবি জানান বিএনপি নেতারা।

বর্তমানে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৪টি মামলা রয়েছে। গতকাল বুধবার হাইকোর্ট কুমিল্লার হত্যা মামলায় তাকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় জামিন পেলেই মুক্ত হতে পারবেন বলে আশা করছেন তার আইনজীবীরা। কুমিল্লার মামলায় জামিনের পর গতকাল সন্ধ্যায় গুলশানে দলের সিনিয়র নেতারা আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন সমকালকে বলেন, মিথ্যা অভিযোগে দুটি মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়া হয়েছে। সরকার হস্তক্ষেপ না করলে তিনি অনেক আগেই জামিনে মুক্তি পেতেন। এখন জামিন পাওয়ার আগ পর্যন্ত বাসভবনকে সাবজেল করে তাকে সেখানে রেখে চিকিৎসা দেওয়া যেতে পারে। তিনি আশা করছেন, খালেদা জিয়াকে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে শিগগিরই মুক্ত করা সম্ভব হবে।

গুরুত্ব দেবে নেতাকর্মীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারও :সূত্র জানায়, দলের চেয়ারপারসনের মুক্তির পর সারাদেশে লাখ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ‘গায়েবি’ মামলা প্রত্যাহার ও কারাবন্দিদের মুক্তির দাবিকেও প্রাধান্য দেবে বিএনপি। বিএনপির দাবি অনুযায়ী ২০০৯ থেকে এযাবৎ মামলার সংখ্যা ৯৮ হাজার এবং আসামি ২৬ লাখ নেতাকর্মী। এসব মামলায় গ্রেফতারের সংখ্যা ১৫ হাজার ৮৯৮ জন। এ সময়ে হামলার সংখ্যা চার হাজার ১১৬টি, আহত ১৭ হাজার ৩১৩ এবং নিহতের সংখ্যা ১৭ জন বলে দাবি করেছে দলটি।

বিএনপির একজন নেতা জানান, যে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতা হলে তারা খালেদা জিয়ার মুক্তির পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টিও গুরুত্ব দেবেন। মামলার জাল থেকে নেতাকর্মীদের বের করাই বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

নির্বিঘ্নে কর্মসূচি পালন ও গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ফেরা :দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপি রাজনৈতিকভাবে লাভ-ক্ষতির হিসাব কষেই সংসদে যাওয়া-না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে। এ ক্ষেত্রে দাবি হচ্ছে, তাদের নির্বিঘ্নে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে দিতে হবে। গণতান্ত্রিক ও ইতিবাচক রাজনীতির চর্চা করার সুযোগ থাকতে হবে। বিষয়টি মাথায় রেখেই অসুস্থ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে হাসপাতালে দেখতে যায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনের হুমকি-ধমকি দিলেও নিজ থেকে ইতিবাচক রাজনৈতিক চর্চা প্রদর্শন করেন বিএনপি নেতারা। সরকারি দলের কাছ থেকেও তারা গণতান্ত্রিক ও ইতিবাচক রাজনীতির চর্চা প্রত্যাশা করেন বলে জানান দায়িত্বশীল নেতারা।

দলের একজন শীর্ষ নেতা জানান, যে ধরনের সমঝোতাই হোক না কেন- রাজনৈতিকভাবে বিএনপি কিছুটা হলেও লাভবান হতে হবে। গণতান্ত্রিক চর্চার পথ উন্মুক্ত করতে হবে। সবাই দেখেছে, এবারের নির্বাচন আদতে কোনো নির্বাচনই নয়। এই নির্বাচন নিয়ে সরকারি দলও অস্বস্তিতে রয়েছে। এই অস্বস্তি থেকে বের হওয়ার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে।

 

  • সমকাল