এগিয়ে থেকেও চাপা উদ্বেগে রিয়াল

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১০:০৭ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৫, ২০১৯ | আপডেট: ১০:০৭:পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৫, ২০১৯

চার দিনের মধ্যে দুই হার। দুটিই ঘরের মাঠ বার্নাব্যুতে; দুটিই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার কাছে। তাতেই দুই শিরোপার স্বপ্ন ধুয়েমুছে যায় রিয়াল মাদ্রিদের। কোপা দেল রে’র সেমিফাইনাল থেকে তো বাদই পড়েছে। আর সর্বশেষ হারে স্প্যানিশ লা লিগায় বার্সার চেয়ে ১২ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকায় সে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন এখন অসম্ভবের প্রতিশব্দ।

তাহলে? মৌসুমের বাকিটা সময় রিয়াল মাদ্রিদের স্বপ্ন একটি শিরোপা ঘিরেই— চ্যাম্পিয়নস লিগ। গেল এক সপ্তাহে দুই শিরোপা বিসর্জন দেওয়া দলটি আজ লড়বে সম্ভাবনার শেষ সীমান্তে। ইউরোপসেরা প্রতিযোগিতার নক আউট পর্বের প্রথম লেগে আয়াক্স আমস্টারডামের মাঠ থেকে ২-১ গোলে জিতে ফিরেছে তারা। আজ দ্বিতীয় লেগে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিতের লড়াইয়ে বার্নাব্যুতে নামবে সান্তিয়াগো সোলারির দল।

প্রতিপক্ষের মাঠে প্রথম লেগের এগিয়ে থাকা, তার ওপর আজ ঘরের মাঠে খেলা—দুয়ে মিলে ফেভারিটের তকমা রিয়াল মাদ্রিদের গায়েই। কিন্তু এই বার্নাব্যুতেই যেভাবে দু-দুবার বার্সেলোনার কাছে আত্মসমর্পণ করেছে, তাতে নিজেদের মধ্যে সংশয় তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক না। আর আয়াক্সের বিপক্ষে প্রথম লেগের জয়টাও যে দাপটে এসেছিল, তা তো নয়। বহিষ্কারাদেশের কারণে আজ খেলতে পারছেন না অধিনায়ক সের্হিয়ো রামোসও। সব মিলিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে তিন শিরোপার স্বপ্ন শেষ হয়ে আশঙ্কা সঙ্গী করেই আজ তাই মাঠে নামবেন মডরিচ-ক্রোস-বেনজিমারা।

চ্যাম্পিয়নস লিগ বরাবরই দুহাত ভরে দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদকে। গতবারও তো স্প্যানিশ লা লিগায় চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনার চেয়ে ১৭ পয়েন্ট কম ছিল তাদের। টেবিলে তিন নম্বরে। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছে ঠিকই। গতবার কেন, সর্বশেষ তিন আসরেরই ট্রফি এসেছে বার্নাব্যুতে। সর্বশেষ পাঁচবারের মধ্যে চারবার। তবে এর মূল কারিগর যে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, তিনি এ মৌসুমের শুরুতে রিয়াল ছেড়ে চলে গেছেন জুভেন্টাসে। মৌসুমের কমবেশি ৫০ গোলের গ্যারান্টি উধাও তাতেই। গ্যারেথ বেল পারেননি মশাল জ্বালাতে। বেনজিমা প্রত্যাশার চেয়ে ভালো খেললেও কত গোলই-বা করার সামর্থ্য আছে তাঁর! আর ১৮ বছরের ব্রাজিলিয়ান তরুণ ভিনিসিয়াস জুনিয়র তো কোনোভাবেই তৈরি নন ক্লাবের মূল ফরোয়ার্ড হওয়ার জন্য। রোনালদোর অভাবটা তাই প্রতি ম্যাচেই প্রকট হয়ে উঠছে।

ব্যালন ডি’অর জয়ী লুকা মডরিচও তা মানেন। তবু অন্য সতীর্থদের প্রতি পুরনো সতীর্থের অভাব পুষিয়ে দেওয়ার আহ্বান তাঁর, ‘ক্রিস্তিয়ানো এমন এক ফুটবলার, যাকে প্রত্যেক দল মিস করবে। ওর বিকল্প কাউকে খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। অবশ্যই আমরাও ওকে মিস করি। ও মৌসুমে ৫০টির মতো গোল করে। অমনটা করার মতো কেউ তো নেই। কিন্তু আমাদের এগিয়ে আসতে হবে যেমন ১৫-২০ গোল, নিদেনপক্ষে ১০ গোল করে যেন করতে পারি। সেটিও তো হচ্ছে না এখন আমাদের। এটিই এ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের সবচেয়ে বড় সমস্যা বলে মনে হচ্ছে আমার কাছে।’ সে সমস্যার সমাধানে সতীর্থদের দিকেই তাকিয়ে মডরিচ, ‘ক্রিস্তিয়ানো এখানে আর নেই। সে জন্য আগামী ১০ বছর তো আর আমরা ঘ্যানঘ্যান করে যেতে পারি না। অন্য ফুটবলারদের ওপর ক্লাব আস্থা রেখেছে। গ্যারেথ বেল, মার্কো আসেনসিও, করিম বেনজিমারা রয়েছে; কিনেছে মারিয়ানো দিয়াস, ভিনিসিয়াসদের। কিন্তু কখনো কখনো আমাদের পরিকল্পনা কাজে লাগছে না।’

শেষ ষোলোর অন্য দ্বৈরথের দ্বিতীয় লেগে আজ মুখোমুখি হবে টটেনহাম হটস্পার ও বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। ইংলিশ ক্লাবটি প্রথম লেগ ৩-০ গোলে জেতায় কোয়ার্টার ফাইনালে এক পা দিয়েই রেখেছে। আজ ঘরের মাঠের প্রেরণাই জার্মান ক্লাবটির আশার একমাত্র আলো। এএফপি, মার্কা