৩৫ বছরের নারীর জন্য ১৭ বছরের কিশোরকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৪:২২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৯ | আপডেট: ৪:২২:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৯

১৭ বছরের কিশোরকে বিয়ের দাবিতে তার বাড়িতে অবস্থান করছে ৩৫ বছরের এক নারী। দু’জন ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের উপস্থিতিতে টাকার বিনিময়ে উদ্ভূত ঘটনার নিরসন করা হলেও সুযোগ সন্ধানী কয়েকজন ইউপি সদস্যের প্ররোচনায় মেয়েটি বাড়ির বাইরে অবস্থান নেয়ায় ওই কিশোর পালিয়ে বেড়ানোর পাশাপাশি তার পিতা-মাতা, ভাই-বোন ও আত্মীয়-স্বজন অস্বস্তিকর পরিবেশে অসহায় হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি অজানা আতঙ্কের মধ্যে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েও পাওয়া যাচ্ছে না।

গতকাল দুপুরে পঞ্চগড় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিতভাবে ওই কিশোরের পিতা জয়নুল ইসলাম এসব অভিযোগ করেন। এ সময় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান নুরু উপস্থিত ছিলেন।

সদর উপজেলার কামাত কাজলদীঘি ইউনিয়নের ফুলপাড়া গ্রামের ওই কিশোরের পিতা জয়নুল ইসলাম লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমার ছেলে মো: বাবু (১৭) একই উপজেলার পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের দেওয়ানহাট এলাকার ডুডুমারী গ্রামের জনৈক মোবারক হোসেনের দুই একর জমি চুক্তিতে নিয়ে হাইব্রিড টমেটো আবাদ করেছে। জমিতে টমেটোর চারা লাগানোর পর থেকে ডুডুমারী গ্রামের ফজিরত আলীর মেয়ে রেহেনা বেগম (৩৫) কুচক্রি মহলের সহযোগিতায় জমিতে লাগানো টমেটো আত্মসাৎ ও বাবুর জীবন ধ্বংস করার জন্য তার সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক রয়েছে বলে এলাকায় রটিয়ে বেড়ায়। গত ১৬ই ফেব্রুয়ারি বিকাল ৫টার দিকে বাবু পার্শ্ববর্তী দেওয়ানহাট বাজারে জমিতে কাজ করা শ্রমিকদের টাকা দেয়ার সময় অজ্ঞাত ৪-৫ জন যুবককে দিয়ে রেহেনা বেগম বাবুকে তার বাড়িতে নিয়ে যায়।

এ সময় বাবুর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও কাছে রক্ষিত ৫৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে রেহেনা বেগম বাবুকে তার বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখে। তিনদিন পর গত ১৯শে ফেব্রুয়ারি আমাকে মোবাইল ফোনে বলা হয় ‘আপনার ছেলে রেহেনার কাছে আটক আছে। তাকে বাঁচাতে চাইলে দুই ঘণ্টার মধ্যে ২ লাখ টাকা নিয়ে আসতে হবে।’

ছেলের এমন বিপদের কথা জানতে পেরে আমি তৎক্ষণাৎ বিষয়টি অমরখানা ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান নুরু, পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের মেম্বার সেরাজুল ইসলাম, রেজাউল করিম রেজা ও নজরুল ইসলামকে জানাই। পরে ছেলেকে উদ্ধারের জন্য চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের নিয়ে আমি রেহেনার বাড়িতে যাই। সেখানে যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে পঞ্চগড় সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহেদুল হকের বাড়িতে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে সবার সিদ্ধান্ত মোতাবেক রেহেনা বেগমকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি আপস নিষ্পত্তি করা হয়। কিছু কুচক্রি লোকের পরামর্শে অতিরিক্ত সুবিধা লাভের আশায় পরের দিন ২০শে ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টার দিকে রেহেনা বেগম আমার বাড়িতে গিয়ে আমার ছেলে বাবুর সঙ্গে তার বিয়ে দেয়ার চাপ দিয়ে বাইরের আঙ্গিনায় অবস্থান নেয়। সে এখনো সেখানে অবস্থান করছে। সেখানে থেকেই বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতিসহ হুমকি দিচ্ছে।

এ ব্যাপারে পঞ্চগড় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে জানালে তিনি বলেন, আপনাদের অভিযোগ আমার এখতিয়ারের বাইরে।

সংবাদ সম্মেলনে অমরখানা ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান নুরু বলেন, পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের তিনজন মেম্বারের সহযোগিতায় রেহেনা বেগম এর আগেও কয়েকজন ছেলের সঙ্গে ভালোবাসার অভিনয় করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল। কিশোর ছেলে বাবুর জীবন ধ্বংস করার জন্যই টাকা নিয়ে আপস নিষ্পত্তির পর রেহেনা আবারো অতিরিক্ত টাকার আশায় জয়নুলের বাড়ির বাইরে অবস্থান করেছে।

আমি ওসি সাহেবকে বলেছি, রেহেনাকে সেখান থেকে নিয়ে আসার জন্য। কিন্তু আমার কাছেও তিনি তার অপারগতা প্রকাশ করেন। আইনের আশ্রয় না পেলে অসহায় এ মানুষগুলো কোথায় যাবে। সূত্র: মানবজমিন।