২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেন -আমির হোসেন আমু এমপি

প্রকাশিত: ৩:৪৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৯ | আপডেট: ৩:৪৩:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৯

ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসনের এমপি ও আওয়ামীলীগের জ্যেষ্ঠ নেতা আমির হোসেন আমু বলেছেন,‘পাঠ্য বইয়ের বাইরেও যে সমস্ত বইগুলো রয়েছে সেগুলো অধ্যায়নের মাধ্যমে জ্ঞানের পরিধি বিস্তার করতে হবে। পড়াশুনার পাশাপাশি খেলাধুলার দিকেও মনোনিবেশ করাতে হবে, বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করাতে হবে। যার মাধ্যমে আমাদের দেশের তরুণ-নতুন প্রজন্ম ব্যস্ত সময় পার করে তাদের অলস জীবনে মাদকাসক্ততা হয়, বিপথগামী হয় তার জন্য এসমস্ত কর্মসূচীতে তাঁদের অন্তর্ভূক্ত হতে উৎসাহিত করতে হবে।’
কলেজের অবকাঠামো দেখে গৌরব বোধ করে তিনি বলেন,‘১৯৭৩ সালের নির্বাচনে জয়ী হবার পর তৎকালীন অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান রাত সাড়ে ১২ টার দিকে আমাকে ফোন করে বলেন কলেজ (পুরাতন কলেজ ভবন) নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। পরের দিন আমি ঝালকাঠিতে এসে নতুন স্থান নির্বাচন করে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে কাজ শুরু করেছিলাম। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করার পর ক্ষমতার পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যারা ক্ষমতায় আসীন ছিলেন তারা এই কলেজটিতে মাস্টার প্লান ছাড়াই এমনভাবে নির্মাণ করলো বাইরে থেকে দেখলে মনেই হয় না এখানে একটি সরকারী কলেজ আছে। তাই ২০১০ সালে সিদ্ধান্ত নেই বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের দিকে মুখ করে পরবর্তি ভবনগুলো তৈরী করতে হবে। তাতে দর্শনীয় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঝালকাঠিতে রয়েছে তা সবার দৃষ্টি গোচর হবে। এ কলেজটিতে বর্তমানে ৭টি বিষয়ে অনার্স কোস চালু এবং ৩টি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স প্রস্তাবনা রয়েছে। জেলার এ শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ উচ্চ শিক্ষার আসনে অধিষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করে জানান, আমাদের প্রধানমন্ত্রী চান দৃষ্টি নন্দন ভবনে, সুন্দর পরিবেশে প্রফুল্ল মন নিয়ে আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া করুক।’
শিক্ষানীতির কথা উল্লেখ করে এমপি বলেন,‘এই দেশে কোন শিক্ষানীতি ছিলো না। ১৯৭২ সালে সর্বপ্রথম জাতির জনক মহাবিজ্ঞানী ড. কুদরত এ খুদা’র নেতৃত্বে একটি শিক্ষা কমিশন করেছিলেন। সেই শিক্ষা কমিশন প্রণিত শিক্ষানীতি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাস্তবায়ন দূরের কথা আলোর মুখ দেখেনি। পরবর্তিতে ২০০৯ সালে তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেন। বিভিন্ন দেশের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের ছেলে-মেয়েরা যাতে শিক্ষা যুগোপযোগী শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। সেই সাথে তার ঘোষিত ডিজিটাল বাংলা বাস্তবায়ন হয়েছে।’ ঝালকাঠি সরকারী কলেজ চত্ত্বরে সোমবার দুপুরে বার্ষিক ক্রিড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ হামিদুল হক, পুলিশ সুপার মোঃ জোবায়েদুর রহমান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি সরদার মোঃ শাহ আলম, সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির। কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর আনছার উদ্দিনের সভাপতিত্বে শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক মোঃ ইলিয়াস ব্যাপারীর সঞ্চালনায় বক্তৃতা করেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সম্পাদক ও সরকারী কলেজ ছাত্রসংসদের সাবেক জিএস কাউন্সিলর রেজাউল করীম জাকির। এসময় ৩১ টি ইভেন্টে ৯৩ জন বিজয়ীকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। এর পূর্বে প্রধান অতিথি আমির হোসেন আমু এমপি সরকারী কলেজের ১শ শয্যা বিশিষ্ট ফিরোজা আমু ছাত্রী নিবাসের ভিত্তিফলক উম্মোচন করে নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন করেন।