গর্ভ থেকে বের করে ভ্রূণের অস্ত্রোপচার!

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১:০২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৯ | আপডেট: ১:০২:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৯

গর্ভের ভ্রুণে সমস্যা দেখা দেখায় মায়ের গর্ভ থেকে বের করে ওই ভ্রুণের অপারেশন করা হয়েছে। অপারেশনের পর আবারো মায়ের গর্ভেই রেখে দেয়া হয় ভ্রুণটিকে। গর্ভে অপারেশন করা ভ্রুণ থেকে জন্ম নেয়া সন্তানটি পৃথিবীর আলো দেখবে এপ্রিলে। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আনা হয়েছে এই অস্ত্রোপচারের ঘটনা। খবর বিবিসির।

এসেক্সের বিথান সিম্পসনের গর্ভে থাকা ভ্রূণের বয়স যখন ২০ সপ্তাহ, তখন পরীক্ষায় ধরা পড়ে তার মস্তিষ্কের গঠন ঠিকমতো হচ্ছে না। এরপরই গর্ভবতী বিথানকে ইংল্যান্ডের এসেক্সের ব্রুমফিল্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সেখানকার চিকিৎসকেরা জানান, গর্ভস্থ ভ্রূণটি জটিল স্নায়ুরোগের শিকার, যার নাম ‘স্পাইনা বিফিডা’। ভ্রূণের স্নায়ুনালি (নিউরাল টিউব) থেকে ভবিষ্যতে সুষুম্নাকাণ্ড (স্পাইনাল কর্ড) এবং মস্তিষ্ক তৈরি হয়। ‘স্পাইনা বিফিডা’ থাকলে স্নায়ুনালির গঠন ঠিকমতো হয় না। তাই সুষুম্নাকাণ্ড ও মস্তিষ্কের বৃদ্ধিও যথাযথ হয় না। এর ফলে জন্মের পর সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যেতে পারে শিশুটি।

ব্রুমফিল্ড হাসপাতালের চিকিৎসকেরা সিম্পসন দম্পতিকে জানিয়ে দেন, হয় ভ্রূণটিকে নষ্ট করে ফেলতে হবে নয়তো ওই স্নায়ুনালির অস্ত্রোপচার করতে হবে। বিথান গর্ভস্থ সন্তান নষ্ট করতে চাননি। তিনি বলেন, ‘আমি শুনেছি লন্ডনে যে সব গর্ভস্থ শিশুর এই রোগ হয়, তাদের শতকরা ৮০ ভাগের কপালেই জোটে মৃত্যুদণ্ড। কিন্তু যখন জানলাম, ওকে বাঁচিয়ে রাখার উপায় রয়েছে, আমরা অস্ত্রোপচারেই রাজি হয়ে গেলাম।’

ভ্রূণের বয়স যখন ২৪ সপ্তাহ, লন্ডনের গ্রেট অরমন্ড স্ট্রিট হাসপাতালে ভর্তি হন বিথান। ব্রিটেন এবং বেলজিয়ামের একদল সার্জন বিথানের গর্ভ থেকে ভ্রূণটিকে বার করে নিয়ে আসেন। তার পরে সেটিকে কৃত্রিম ভাবে বাঁচিয়ে রেখে হয় অস্ত্রোপচার। বিথান বলেন, ‘আমরা জানতাম, ওই অস্ত্রোপচারে ঝুঁকি রয়েছে। কিন্তু সন্তানকে স্বাভাবিক জীবন দিতে ঝুঁকিটা নিয়েছিলাম।’

বর্তমানে গর্ভস্থ ভ্রূণের বয়স ৮ মাস। বিথানের কথায়, ‘আমার পেটের ভেতরে ও ক্রমাগত লাথি মেরে চলেছে। একটা ইতিহাস সৃষ্টি করতে চলেছে ও।’ তবে বিথানই প্রথম নন, ব্রুমফিল্ড হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এসেক্সের ওই মহিলা ব্রিটেনের চতুর্থ মা, যার গর্ভস্থ ভ্রূণের এই অস্ত্রোপচার হয়েছে।