মামলা বিরোধে ক্ষেতে পাকা ধান ক্ষেতেই ঝরে যাওয়ার শঙ্কা

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৭:৫০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১০, ২০১৯ | আপডেট: ৭:৫০:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১০, ২০১৯

মনিরুল ইসলাম কুয়াকাটা প্রতিনিধি॥

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার হয়রানিমুলক মামলা বিরোধের কারণে প্রান্তিক কৃষক হাতেম মোল্লার প্রায় আড়াই একর জমির আমন ধান ক্ষেতেই ঝড়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এসএ, বিএস জরীপসহ দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে চাষাবাদসহ জমি ভোগ দখল করে আসলেও একই এলাকার বশির মৃধা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মালিকানা দাবি করে একটি মামলা ঠুকে দিলে এমন ভোগান্তিতে পড়েছে ওই কৃষক। এ ঘটনায় হাতেম মোল্লার চেয়ে হতবাক বনে গেছেন এলাকার লোকজন। হাতেম মোল্লা জানান, তাকে অযথা হয়রানির জন্য এ মামলাটি করা হয়েছে।

জানা যায়, এ জমির ইতোপূর্বে মালিক ছিলেন তাজেম আলী তালুকদার। দীর্ঘ বছরের পর বছর এই জমি চাষাবাদ করছেন হাতেম মোল্লা। কেনার পরে আগে আর কখনও এর দাবিদার ছিলেন না। তার ছেলে আবুল বাশার জানান, তার বাবার বিক্রির পর থেকে হাতেম মোল্লা চাষাবাদ করছেন। এবছর চাষাবাদ কিংবা কোন সময় বাধা-বিপত্তি না করলেও রহম আলী মৃধার ছেলে বশির মৃধা একটি মামলা করে জমি নিজে চাষবাদ করার দাবি করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের এক কর্মকর্তা আদালতের নির্দেশে তদন্ত করে রিপোর্ট দিয়েছেন হাতেম মোল্লা ওই জমি চাষাবাদ করেনি। সরেজমিন পরিদর্শন না করেই পুলিশ অফিসার এ প্রতিবেদনটি দাখিল করেছেন। এ প্রতিবেদনের আপত্তি ওঠায় বিজ্ঞ আদালত ফের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের কানুনগোর কাছে ফের তদন্তের নির্দেশ দেন।

ওই জমি চাষাবাদ করা আব্দুস সাত্তার জানান, তিনি নিজে এই জমি হাতেম মোল্লার মেশিন দিয়ে চাষাবাদ করেছেন। জমি সংলগ্ন বাড়ি আব্দুস সালাম হাওলাদার ও এলাকার ইউপি সদস্য বাদল হাওলাদার জানান, ৪০ বছর ধরে হাতেম মোল্লাকে এ জমি চাষাবাদ করতে দেখছি। স্থানীয় বাসীন্দা আলতাফ হোসেন জানান, কুড়ি বছর ধরে এ জমি হাতেম মোল্লা চাষাবাদ করে আসছেন। শাহআলম খান জানায়, ৭০ সাল থেকে এ জমি চাষাবাদ করছেন হাতেম মোল্লা।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তানভীর রহমানের আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য ভূমি অফিসের কানুনগো মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে তদন্ত শেষে আদালতে দেয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন সরেজমিনে প্রাপ্ত স্বাক্ষ্য, রেকর্ড সার্বিক পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয় তফসিলভূক্ত দুই একর ৩০ শতক জমি হাতেম আলী এবছর বর্ষা মৌসুমে এ জমি চাষাবাদ করে ধান উৎপাদন করেছেন। বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফের সহকারী কমিশনার ( ভূমি) কে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।