ভূমি দখলের মতো ব্যাংকও দখল হচ্ছে

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৭:২৪ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৮, ২০১৭ | আপডেট: ৭:২৪:পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৮, ২০১৭
ভূমি দখলের মতো ব্যাংকও দখল হচ্ছে

পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেছেন, ‘দেশে নদী দখল ও ভূমি দখলের মতো ব্যাংকিং খাতেও দখলদারি চলছে, যার কোনো বিচার হচ্ছে না। এ ধরনের ঘটনা সমাজের সর্বত্র বিরাজমান, এর প্রভাব পড়ছে সমাজব্যবস্থায়। দিনে দিনে সমাজে অসমতা তৈরি হচ্ছে, বৈষম্য বাড়ছে।’

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলনের শেষ দিনে গতকাল সোমবার একটি অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন কাজী খলীকুজ্জমান।

সাম্প্রতিক সময়ে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক ও সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা এবং ব্যবস্থাপনায় হঠাৎ পরিবর্তন আসে। চট্টগ্রামভিত্তিক একটি শিল্প গ্রুপ ব্যাংক দুটির কর্তৃত্ব নেয়। ওই গ্রুপের হাতে বেসরকারি খাতের আরও বেশ কয়েকটি ব্যাংকের কর্তৃত্ব রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে যে ব্যবস্থায় ব্যাংকের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এসেছে, তাতে পুরো ব্যাংক খাতে অস্থিরতা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে গতকাল এমন মন্তব্য করেন খলীকুজ্জমান।

দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের শেষ দিনে গতকাল উদ্বোধনী অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন। প্রবন্ধ উপস্থাপনায় খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ পাচার ও অবৈধ আর্থিক লেনদেন বৃদ্ধি এখন উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে এখন বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ইব্রাহিম খালেদ আরও বলেন,  অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণ করা বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যতম দায়িত্ব।

প্রধান অতিথি কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা খুবই ব্যয়বহুল। এ মাধ্যমে অর্থ পাঠাতে এখন হাজারে ২০ টাকা খরচ হয়, প্রতিবেশী দেশ ভারতে এ খরচ ৫ টাকা। মোবাইল ব্যাংকিং সেবার ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ বিকাশ ও ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের দখলে রয়েছে। এখানে যে একাধিপত্য (মনোপলি) চলছে, তা দিয়ে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, দরিদ্র লোকদের কিছু হাজার টাকা দান করলেই আর্থিক অন্তর্ভুক্তি হয় না। স্বাস্থ্য, শিক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।

ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী বলেন, ইতিমধ্যে আন্তব্যাংক লেনদেনে মোবাইল ব্যাংকিং যুক্ত হয়েছে। এর ফলে প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীও ব্যাংকিং সেবার আওতায় আসছে। মোবাইল ব্যাংকিংকে বাংলাদেশ ব্যাংক আরও গ্রাহকবান্ধব করতে চায়। এতে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে। এ জন্য স্কুল ব্যাংকিং ছাড়াও আর্থিক খাতের বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

দুই দিনের এই সম্মেলনে ১০টি করে মোট ২০টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। গতকাল উপস্থাপিত প্রবন্ধের বিষয়বস্তুর মধ্যে ছিল আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, ব্যাংকিং খাতে নারীদের ভূমিকা, এসএমই ব্যাংকিংয়ে তথ্যপ্রযুক্তির ভূমিকা, বাংলাদেশে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের চ্যালেঞ্জ ইত্যাদি।

  • প্রথম আলো