বরিশাল-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী সান্টুর নেতৃত্বে গুলি বর্ষণ || আহত-১০

প্রকাশিত: ১০:৫৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৮ | আপডেট: ১০:৫৫:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৮

বরিশাল-২ আসনে (বানারীপাড়া- উজিরপুর) বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস.সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর নেতৃত্বে অর্তকিত গুলি ও হামলায় যুবলীগ-ছাত্রলীগের ১০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছে। এদের মধ্যে উপজেলা যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম দুলাল তালুকদার(৪০),মশিউর রহমান সুমন(৩৫),সবুজ খান (৪০),রাজু খান (২৮) ও ছাত্রলীগ কর্মী ইব্রাহিম(২৪)কে আশংকাজনক অবস্থায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত অন্যরা হলেন যুবলীগ নেতা শাহিন সরদার(৩৩), ছাত্রলীগ নেতা রাহাত মাল(২৬),যুবলীগ কর্মী সুজন খান,আনোয়ার হোসেন(৩৩) ও সুমন মোল্লা(৩০)।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতরা জানান সোমবার বিকাল ৪টার দিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস.সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু দু’টি মাইক্রোবাস ও ৪/৫ টি মাহেন্দ্র-আলফা গাড়িতে ৪০/৫০ জন বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী ও ক্যাডারদের নিয়ে বানারীপাড়া পৌর শহরের বাসষ্ট্যান্ড থেকে বন্দর বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাহমুদ মাহাবুব মাষ্টারের বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন বাড়ির সামনের সড়কে বিপরীত দিক থেকে আসা ২০/২৫ জন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের দেখতে পেয়ে এস.সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু রিভলবার দিয়ে ৪/৫ রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এক পর্যায়ে তার গাড়ি বহরে থাকা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী ও ক্যাডাররা নেমে রড ও লাঠি সোটা নিয়ে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বেধরক পিটিয়ে জখম করে।

এসময় সেখানে রাস্তার পাশে থাকা নৌকার প্রতিক ভাংচুরও করে তারা। পরে তারা উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের নারায়ণপুর বাজারে গিয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাংচুর করে দু’জন কর্মীকে বেদম মারধর করে। আহতদের প্রথমে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয় পরে সেখান থেকে গুরুতর আহত ৫ জনকে বরিশালে শেবাচিম হাসপাতালে রেফার করা হয়। এদিকে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ওপর গুলি ও হামলার খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার নেতা-কর্মী হাসপাতালের সামনে এসে জড়ো হয়ে সান্টু ও তার লোকজনকে গ্রেফতারের দাবীতে বিক্ষোভ প্রদর্শণ করতে থাকে।

হামলার খবর পেয়ে সহকারী রির্টানিং কর্মকর্তা ও ইউএনও শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদ এবং ওসি খলিলুর রহমানসহ বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে যান। পৌর শহরে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ জানান, নৌকার পক্ষে গণজোয়ার দেখে নিজের পরাজয় আচ করতে পেরে বিএনপি প্রার্থী সন্ত্রাস ও সহিংসতার পথ বেছে নিয়ে নির্বাচন ভন্ডুল করার পায়তারা চালাচ্ছেন। বিএনপি প্রার্থী এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর মোবাইল ফোন (০১৭১৩….০৮) নম্বর বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে হামলার প্রতিবাদে ও হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবীতে সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে।