ভিকারুননিসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ ৩ জনকে খুঁজছে পুলিশ

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১১:০১ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৬, ২০১৮ | আপডেট: ১১:০১:পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৬, ২০১৮

শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষককে গ্রেপ্তারের জন্য খুঁজছে পুলিশ।

ওই তিন শিক্ষক হলেন- ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, অরিত্রীর শ্রেণি শিক্ষক হাসনা হেনা এবং ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রভাতি শাখার প্রধান জিনাত আখতারকে । এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে র‌্যাব-পুলিশকে বলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বুধবার বিকেলে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে এ চিঠি দিয়েছে।

এর আগে অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী তিনজনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার রাতে পল্টন থানায় মামলা করেন। ওই মামলাটি তদন্তের জন্য গোয়েন্দা পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মামলা হওয়ার পর বুধবার দিনভর স্কুলে দেখা যায়নি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীনসহ অন্য তিন শিক্ষককে। তবে আগের দিন শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চললেও স্কুলে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।

মামলা দায়েরের পর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, শুনেছি আমাকেসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণায়ের পাঠানো চিটিতে বলা হয়, অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, শাখা প্রধান জিনাত আখতার এবং শ্রেণি শিক্ষিকা হাসনা হেনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হল।

এদিকে এই তিন শিক্ষককে বরখাস্ত করাসহ তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া এই তিন শিক্ষকের বেতনভাতা বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককেও চিঠি দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ।

অরিত্রির বাবা দিলীপ অধিকারী অভিযোগ করে বলেন, অরিত্রি ক্লাস পরীক্ষায় মোবাইলে উত্তরপত্র লিখে নিয়ে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। তাকে পরীক্ষায় অংশ নিতে না দিয়ে স্কুল থেকে সোমবার আমাকে ডেকে পাঠানো হয়। আমি স্কুলের প্রিন্সিপালের রুমে দুঃখ প্রকাশ করতে গেলে তারা অরিত্রিকে টিসি দিয়ে দেবে বলে জানান এবং আমাকে অনেক কথা শোনান।

তিনি বলেন, এ সময় আমি মেয়ের সামনেই কেঁদে ফেলি। অরিত্রি হয়তো আমার ওই কান্না-অপমান মেনে নিতে পারেনি। বাসায় ফিরে সে তার ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয় এবং ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করে। বাহির থেকে অনেক ডাকাডাকি করেও দরজা না খোলায়, দরজা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক আমার মেয়েকে মৃত ঘোষণা করেন।