আলোচনায় বরিশাল-৪ আসন

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১১:২৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১, ২০১৮ | আপডেট: ১১:২৪:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১, ২০১৮

নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে, ভোট নিয়ে জনগণের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী সম্ভাব্য প্রার্থীরা এরই মধ্যে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। কেউ দলীয় ব্যানারে, আবার কেউ স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

তফসিল অনুযায়ী গত ২৮ নভেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের পর জেলার ৬টি আসনের মধ্যে ৫টির পরিস্থিতি ভালো ছিল। ৬টির মধ্যে ভিন্নতর নদী বেষ্টিত হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল-৪ আসন। আসনটিতে বড় দুটি দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন প্রকাশ্যে।

রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারে প্রায়ই প্রতিপক্ষের ওপর হামলা আর নেতাকর্মীদের দলবদলের খবরে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এই আসনটি। ফলে দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে সর্বদাই উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। আর নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এর মাত্রাও বৃদ্ধি পাচ্ছে দ্বিগুণ হারে।

গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মেজবাউদ্দীন ফরহাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে ক্ষমতাসীন সংসদ পংকজ নাথের অনুসারীরা। এতে উত্তর জেলা বিএনপির নেতাসহ প্রায় ২০ জন কর্মী আহত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দলীয় নেতারা। এর আগেও বেশ কয়েকবার রাজনৈতিক অবস্থান ঠিক রাখতে বিএনপির নেতাকর্মীর ওপর হামলা চালিয়েছে ক্ষমতাসীনরা।

আর এ নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) সংবাদ সম্মেলনও করেন বিএনপির প্রার্থী মেজবাউদ্দীন ফরহাদ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘বরিশাল-৪ আসনে এখনো নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। এরই মধ্যে বর্তমান সাংসদ পংকজ নাথ তার ইচ্ছে মতো প্রিসাইডিং অফিসার, পুলিং এজেন্ট বাছাই করছে। তিনি তার ক্যাডার বাহিনীর হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচনে অংশ নিয়েছে বিএনপি। কিন্তু নির্বাচনের শুরুতেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী তার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে।’

সংবাদ সম্মেলনে পঙ্কজ নাথ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার অভিযোগের পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনে রদবদলের জোর দাবি জানান তিনি।

তবে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী পংকজ নাথ জানান, বিএনপির নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল দীর্ঘদিনের। তারাই নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে আওয়ামী লীগের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে। কারণ তারা বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং নৌকার পক্ষে গণজোয়ার মেনে নিতে পারছে না।

এদিকে, নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দুই দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের দল বদলের হিড়িক পড়েছে। গতকাল শুক্রবার (৩০ নভেম্বর) সকালে নিজদলের প্রভাবশালী নেতার অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি ও এবারের মনোনীত প্রার্থী মেজবাউদ্দীন ফরহাদের হাতে ফুল দিয়ে দলটিতে যোগ দিয়েছেন উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা জলিল সিকদার, জালাল সিকদার, নুর নবী বিশ্বাস, কাজী নাজিম উদ্দিনসহ প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী।

এর ২ দিন আগে গত বুধবার (২৮ নভেম্বর) উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য ও জেলা (উত্তর) ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি মো. দেলোয়ার দুলাল শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে বর্তমান সাংসদ পংকজ নাথের হাতে নৌকা তুলে দেন। এ সময় তারা বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগদানের ঘোষণা দেন।

আসনটির নির্বাচনী ইতিহাসে দেখা গেছে, ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বরিশাল-৪ আসন ছিল বিএনপির দখলে। তবে বর্তমানে আসনটিতে আধিপত্য ক্ষমতাসীনদের। এর ফলে হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীরা এক প্রকার কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে। যদিও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এখানে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের অবস্থান খুবই নাজুক। স্বেচ্ছাসেবক লীগের একক আধিপত্যের কারণে প্রতিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিদ্রোহী হয়েছে স্বেচ্ছাসেবক লীগ। শুধু বিরোধী দলই নয়, নিজ দলের প্রতিপক্ষ নেতাকর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ আছে বর্তমান সাংসদ ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পংকজ নাথের অনুসারীদের বিরুদ্ধে।

প্রসঙ্গত, ২টি উপজেলা, একটি পৌরসভা এবং ২১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বরিশাল-৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৪ হাজার ১২৮ জন। যার মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৬৫ হাজার ৪১৭ এবং নারী ১ লাখ ৫৮ হাজার ৭১১ জন।