নির্বাচন পর্যন্ত বিশ্ব ইজতেমার কার্যক্রম বন্ধ

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১১:০৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১, ২০১৮ | আপডেট: ১১:০৫:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১, ২০১৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করা হবে। সে সময় পর্যন্ত ইজতেমার কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি ইজতেমার মাঠ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। আগামি এক মাস কোনো পক্ষ সেখানে তাবলিগ সংক্রান্ত কার্যক্রম চালাতে পারবেন না। এছাড়াও সংঘর্ষের ঘটনায় ফৌজদারি মামলা হবে। এরপর তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবার বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের মুরব্বিদের সঙ্গে বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

বিশ্ব ইজতেমায় আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার ঘটনার পর ‘বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে’ ডাকা হয় এ বৈঠক। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সেতু বিভাগের সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. জাবেদ পাটোয়ারী, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন বীরবিক্রম পিএসসি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, সচিব ধর্ম সচিব মো. আনিছুর রহমান, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া, শোলাকিয়া মসজিদের ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দীন মাসউদসহ তাবলিগের দুই পক্ষের মুরব্বিরা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘টঙ্গীর মাঠ নিয়ে সংঘর্ষে একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এর আগে আমরা সভা করেছিলাম, সেই সভায় কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছিল। যারা সেই সভায় ছিলেন তাদের বেশিরভাগ সদস্যই সভায় ছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘আগামী ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। সেজন্য আগেও বলেছিলাম নির্বাচনের আগে কোনো ধরনের ইজতেমা হবে না। সেটাকেই আবার বলা হয়েছে। নির্বাচন পর্যন্ত ইজতেমার জন্য সারাদেশব্যাপী সকল ধরনের প্রস্তুতি সভা কিংবা জোড় ইজতেমা কিংবা ইজতেমার জন্য সব ধরনের কার্যকলাপ বন্ধ থাকবে। নির্বাচনের পর ইজতেমার তারিখের বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। ইজতেমার তারিখ শুধু পরিবর্তন হচ্ছে। নির্বাচনের পর যে কোনো সময় এটা হতে পারে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এখন থেকে ইজতেমার মাঠ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। প্রশাসন সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করবে। সেখানে কেউ অবস্থান করতে পারবে না। ইজতেমা ময়দানের ভেতরে মসজিদ ও মাদ্রাসাও প্রশাসনের দায়িত্বে থাকবে। এক মাস ইজতেমা মাঠে কোনো পক্ষই থাকতে পারবে না।

তিনি বলেন, সংঘর্ষে নিহত হওয়ার ঘটনায় সকলেই নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়েছেন। এ বিষয়ে ফৌজদারি মামলা হবে। ফৌজদারি মামলায় যেভাবে তদন্ত হয় সেভাবেই তদন্ত হবে। তদন্তে চিহ্নিত দোষী ব্যক্তিদের আইন অনুযায়ী বিচার হবে।

বিভিন্ন কারণে অন্যান্য দেশ চাচ্ছে ইজতেমা বাংলাদেশ থেকে চলে যাক। এই বিবাদ সেটার অংশ কিনা- জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘না না, এটা কোনো অংশ হতে পারে না। তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেই ভুল বোঝাবুঝি যাতে দূর হয় বা কমে যায়। তারা একটা উপায় বের করবেন।’

সভায় অংশ নেওয়া কারওয়ানবাজার শাহী মসজিদের খতিব মাজহারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইজতেমা বাংলাদেশে হবে এটা নিশ্চিত। নিজেদের মধ্যে আশা করি একটা সমঝোতায় পৌঁছাবে। দুই পক্ষের কেউ রাস্তায় নামার পক্ষে নয়, আজকে এটা কাকতালীয়ভাবে হয়ে গেছে। দু’পক্ষকে এক করার চেষ্টা চলছে। ভারতে একটি প্রতিনিধি দল অচিরেই যাবে।’

কওমী মাদ্রাসা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিলের যুগ্ম-মহাসচিব ও তাবলিগের সাদ বিরোধীপন্থী মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, ‘বৈঠকে আজকের ঘটনাটি বর্ণনা করেছি। ইজতেমার প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলছিল, অপরদিকে ওয়াসিফুল ইসলাম সাহেবের জোড় ইজতেমা ছিল ৩০ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। জোড় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ওনারা সারাদেশ থেকে লোক একত্রিত করে রড, বাঁশ ইত্যাদি নিয়ে গেট ভেঙে মানুষের ওপর আক্রমণ করে শত শত মানুষ আহত করেছে।’

প্রশাসন ও সরকারের মধ্যস্ততায় নির্বাচন পরবর্তী দ্রুততম সময়ে একটা স্থায়ী সমাধানে তারা পৌঁছাতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।