বরিশাল-২ আসন হারানোর আশঙ্কায় আ.লীগ

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১০:২৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৯, ২০১৮ | আপডেট: ১০:২৬:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৯, ২০১৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনটি বিএনপির কাছে হারানোর আশঙ্কা করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

স্থানীয় নেতাকর্মীর আশঙ্কা শেষ পর্যন্ত মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টিকে আসনটি ছেড়ে দেবে আওয়ামী লীগ। এ কারণে বিএনপির কাছে আসনটি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এবার বরিশাল জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে ৫১টি মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়। এর মধ্যে বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে সর্বাধিক ১২ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

বরিশাল-২ আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা শাহে আলম। এছাড়া আওয়ামী লীগের ৩ বিদ্রোহী যথাক্রমে শের-ই বাংলা এ কে ফজলুল হকের দৌহিত্র ফাইয়াজুল হক রাজু, শেখ হাসিনা পরিষদের নেতা ক্যাপ্টেন এম. মোয়াজ্জেম হোসেন ও ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী সৈয়দা রুবিনা আক্তার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

এছাড়া বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এস সরফুদ্দিন সান্টু ও সাবেক হুইপ সৈয়দ শহীদুল হক জামাল মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

barishal-----Awami-League-is-af

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের কাছে এ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিল জাতীয় পার্টি। বরিশাল-২ আসনে চিত্রনায়ক মাসুদ পারভেজ সোহেল রানাকে মনোনয়ন দিয়েছে দলটি। শেষ পর্যন্ত মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে চিত্রনায়ক সোহেল রানাকে এ আসনটি ছেড়ে দেবে আওয়ামী লীগ। এর ফলে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। তাদের ধারণা, বিএনপির কাছে আসনটি হারাবে আওয়ামী লীগ।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, আসনটিতে একসময় বিএনপির আধিপত্য ছিল। ২০০৮ সাল থেকে আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে আসনটি। তবে জাতীয় পার্টি প্রার্থী দিলে আসনটি হাতছাড়া হয়ে যাবে।

আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, ২০০৮ সালে বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী এস শরফুদ্দিন আহম্মেদ সান্টুকে প্রায় ১২ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের মনিরুল ইসলাম মনি। সংসদীয় আসন পুনর্গঠনের আগে এখান থেকে বিএনপির সৈয়দ শহীদুল হক জামাল এবং বিএনপির বর্তমান কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল নির্বাচিত হয়েছিলেন। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে এ আসনে বিজয়ী হন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস। তালুকদার মো. ইউনুসের বাড়ি গৌরনদী উপজেলায়। এরপরও আওয়ামী লীগের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে তিনি জয় পেয়েছিলেন। এবার শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী রাখা না হলে বিএনপির কাছে আসনটি হাত ছাড়া হয়ে যেতে পারে। যা আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের জন্য আত্মঘাতী হবে।

barishal-----Awami-League-is-af

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী সৈয়দা রুবিনা আক্তার মীরা বলেন, আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্গ। এখানে জাতীয় পার্টির প্রার্থী দিলে আসন হারানোর আশঙ্কা ১০০ ভাগ। কারণ আমি প্রচারণাকালে এ দুই উপজেলার আওয়ামী লীগ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশেছি, তাদের মনের ভাব বুঝতে পেরেছি। এখানে তারা নৌকার বিকল্প লাঙল চান না।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী সোহেল রানা বলেন, জনপ্রতিনিধি হয়ে জনগণের সেবা করতে চাই। চিত্রনায়ক হিসেবে দর্শকরা যেভাবে ভালোবেসেছেন সেভাবে ভোট দিয়েও জনগণ আমাকে জয়যুক্ত করবেন। নির্বাচনে জয়লাভ করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানকে বরিশাল-২ আসনটি উপহার দিতে চাই।