পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএপি’র মনোনয়ন দাখিল

আলোচিত-সমালোচিত গোলাম মাওলা রনি’র

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৬:০৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৮, ২০১৮ | আপডেট: ৬:০৩:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৮, ২০১৮

ফয়েজ আহমেদ , দশমিনা প্রতিনিধি
আলোচিত-সমালোচিত ভাইয়া বাহিনী খ্যাত আ’লীগের সাবেক এমপি আলহ¦াজ গোলাম মাওলা রনি পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএপি’র মনোনয়ন দাখিল
নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা । জানা যায়, গত সোমবার সন্ধ্যায় গুলশানের বিএনপি চেয়ারপারসনে’র রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে তিনি বিএনপি’তে যোগদান করেন। পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনে’র বিএপি’র মনোনয়ন দাখিল নিয়ে চলছে রাজনীতি অঙ্গনসহ তৃণমূলে আ’লীগের সাবেক এই সাংসদ গোলাম মাওলা রনি তার নিজ এলাকায় নানা কর্মকান্ড এবং আ’লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে মনোনয়ন বাগিয়ে নেওয়ায় তাঁকে নিয়ে নানান ধরনের আলোচনা সমালোচনা চলছে।
২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে আ’লীগের মনোনয়ন লাভ করেন । ওই নির্বাচনে জয়ী হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী গোলাম মাওলা রনি। সাবেক এ সাংসদ ভাইয়া বাহিনীর প্রধান রনি ভাইয়া নামেই পরিচিত। গলাচিপা উপজেলার সুতা বাড়িয়া খান বাড়িতে বিবাহের সূত্রে ভাইয়া নামে খ্যাত হয় এই গোলাম মাওলা রনি । শুধু নিজ এলাকায় নন, জেলা, বিভাগীয় শহর থেকে শুরু করে দেশব্যাপী তিনি আলোচিত সমালোচিত । অনেকটা শূণ্য মাঠে গোল করার মতো, তিনি ‘উড়ে এসে’ই আ’লীগের ও বিএপি’র মনোনয়ন বাগিয়ে নিয়েছেন। সাংসদ রনি তার নির্বাচনী এলাকা গলাচিপা উপজেলার রামনাবাদসহ দু’টি নদী ভরাটকে কেন্দ্র করে তাঁকে জড়িয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে ২০০৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে স্থানীয় (প্রথম আলো ও আমার দেশ গলাচিপা প্রতিনিধি)দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজী ও ধর্ষনের চারটি মামলা দায়ের করা হয়। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলাসহ নদী দখলের তথ্য সংগ্রহ করতে পটুয়াখালীর জেলা সদরে কর্মরত ৬ সাংবাদিক গলাচিপা গেলে তাদের উপরও হামলার ঘটনা ঘটে। সাংসদের কর্মকান্ড তুলে ধরে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে সাংসদ নিজে বাদি হয়ে ২০০৯ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকার একটি আদালতে প্রথম আলো, সমকাল, যুগান্তর ও মানবজমিন পত্রিকার সম্পাদক, প্রকাশক ও স্থানীয় প্রতিনিধিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করে । এতে প্রতিবাদের ঝড় উঠে পটুয়াখালীসহ সারাদেশে। একাধিক জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় গনমাধ্যমে উঠেছিল তার এই কর্মকান্ড। সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার ৯ মাসের মধ্যেই জেলা ও উপজেলার সাংবাদিক নির্যাতনের মধ্য দিয়ে সংবাদপত্রের শিরোনাম হন গোলাম মাওলা রনি।
২০০৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর তৎকালীন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী পটুয়াখালী-৪ আসনের সাংসদ মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদারের গলাচিপার পানপট্টি আসবেন। তাই সেখানে মঞ্চ নির্মান করা হয়। কিন্তু সেই মঞ্চ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগ এ ঘটনার জন্য সাংসদ রনি ও তার দলবলকে দায়ী করেছিলেন। সংসদ নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে সরকারের কর্মকান্ডের সমালোচনার জের ধরে আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কার হন রনি। একটি টিভি চ্যানেলে’র অনুসন্ধানকারী প্রতিনিধিদের ওপর হামলা করে মামলায় এক পর্যায়ে কারাবরন করে আলোচিত হন এই সেই রনি।
পরবর্তীতে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হন রনি। নিজ দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতিরোধের মুখে তিনি পাঁচ বছর ধরে এলাকায় রাজনীতির মাঠে তার কোন দেখা মিলেনি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি আ’লীগের দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন কিন্তু পাননি। এরপর তিনি স্বতন্ত্র ভাবে নির্বাচন করবেন বলে আভাসও দিয়েছিলেন। এদিকে আ’লীগের মনোনয়ন না পাওয়ার পর তিনি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে লিখেছেন‘ মানুষের কান্নায় গলাচিপা-দশমিনার আকাশ বাতাস ভারী হয়ে গিয়েছে।‘অনেকে অসুস্থ হয়ে পরেছেন। উপরোক্ত অবস্থার প্রেক্ষিতে আমি নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মহান আল্লাহর ওপর নির্ভর করে নির্বাচনের মাঠে নামবো। দেখা হবে সবার সঙ্গে এবং দেখা হবে বিজয়ে।’
এদিকে রনি’র বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর ওই রাতেই তাকে পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। রনি’র দলীয় মনোনয়ন পাওয়া খবরে উপজেলা বিএনপিসহ জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের মধ্যে এই নিয়ে আলোচনা চলছে। দশমিনা উপজেলা যুবদলের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, রনি আ’লীগের সাংসদ থাকাকালীন আমাদের নেতাকর্মীদের নামে ১৯ টি মামলা দিয়ে হয়রানী করেছিলেন। তবে উপজেলা যুবদলের সভাপতি আঃ মোমিন তালুকদার বলেন, আসলে রনি’র যোগদান কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত তবে কেন্দ্র যাকে মনোনয়ন দিবেন, তার পক্ষেই আমরা কাজ করবো। দশমিনা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আঃআলীম তালুকদার বলেন, কেন্দ্র যাকে দশীয় ভাবে মনোনয়ন দিবেন তার হয়েই আমরা মাঠে কাজ করবো।###