মনোনয়ন, সতর্ক বিএনপি

তালিকায় আছেন যারা, বেশির ভাগ আসনেই বিকল্প প্রার্থী

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১০:০০ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৭, ২০১৮ | আপডেট: ১০:০০:পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৭, ২০১৮

বেশিরভাগ আসনে বিকল্প রেখে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া শুরু করেছে বিএনপি। গতকাল দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়নের চিঠি হস্তান্তরের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া শুরুর দিনে রাজশাহী, রংপুর ও বরিশাল বিভাগের প্রার্থীদের হাতে মনোনয়নের চিঠি তুলে দেয়া হয়। রাতে অন্যান্য বিভাগের কিছু প্রার্থীও দলীয় মনোনয়নের চিঠি বুঝে পেয়েছেন। আজ বাকি তিন বিভাগের প্রার্থীদের মনোনয়নের চিঠি তুলে দেয়া হবে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০দলের শরিকদের জন্য আসন রেখে বাকি আসনগুলোতে দলীয় মনোনয়ন দিচ্ছে বিএনপি।

সতর্কতার অংশ হিসেবে দু’একটি আসন ছাড়া প্রায় সব আসনেই একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। দলের কৌশল হিসেবেই একাধিক প্রার্থী দেয়ার কথা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এদিকে, দলীয় মনোনয়নের চিঠি হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে গতকাল দিনভর উৎসবমুখর ছিল বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়।
বিকালে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার জন্য তিনটি আসনের মনোনয়নের চিঠি তার প্রতিনিধিদের হাতে হস্তান্তরের মধ্যদিয়ে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার কার্যক্রমের সূচনা হয়। খালেদা জিয়া এবার মনোনয়ন নিয়েছেন ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ আসন থেকে। তার প্রতিনিধি হিসেবে বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুর হাতে প্রত্যয়নের চিঠি তুলে দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশে থাকায় এই প্রত্যয়নপত্র দেয়া হয়েছে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরে। খালেদা জিয়ার মনোনয়নের চিঠি হস্তান্তরের পর বিকাল ৪টা থেকে বিভাগ ধরে ধরে আলাদাভাবে প্রত্যয়নপত্র দেয়া শুরু হয়।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, “নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা প্রত্যেকটি আসনে দুইজন করে প্রার্থীকে প্রাথমিক মনোনয়ন দিচ্ছি। কোনো কারণে একজনের না হলে পরেরজন যাতে সুযোগ পান। আর আমাদের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ যেখানে যারা আছেন, সেখানে তারাই মনোনয়ন পেয়েছেন।

বরিশাল বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছেন যারা: বরিশাল-১ আসনে জহিরউদ্দিন স্বপন ও আবদুস সোবহান, বরিশাল-২ সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শরফুদ্দিন শান্টু ও শহিদুল হক জামাল, বরিশাল-৩ অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন ও সেলিমা রহমান, বরিশাল-৪ মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ ও রাজীব আহসান, বরিশাল-৫ মুজিবুর রহমান সারোয়ার, বরিশাল-৬ আবুল হোসেন খান ও অধ্যাপক রশীদ খান, ভোলা-২ হাফিজ ইব্রাহিম ও রফিকুল ইসলাম মনি, ভোলা-৩ মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও কামাল হোসেন, ভোলা-৪ নাজিমুদ্দিন আলম ও নুরুল ইসলাম, বরগুনা-১ মতিউর রহমান তালুকদার ও নজরুল আসলাম মোল্লা, বরগুনা-২ নুরুল ইসলাম মনি, পটুয়াখালী-১ এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, পটুয়াখালী-২ শহিদুল আলম তালুকদার ও সালমা আলম, পটুয়াখালী-৩ গোলাম মওলা রনি, হাসান মামুন ও মো. শাহাজান, পটুয়াখালী-৪ আলহাজ এবি এম মোশাররফ হোসেন ও মনিরুজ্জামান মনি, ঝালকাঠি-১ ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, ঝালকাঠি-২ রফিকুল ইসলাম জামাল, ইসরাত জাহান ইলেন ভুট্টো ও জেবা আলম খান, পিরোজপুর-৩ রুহুল আমিন দুলাল।

রাজশাহী বিভাগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন যারা: জয়পুরহাট-১ ফয়সাল আলিম ও ফজলুর রহমান, জয়পুরহাট-২ ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা ও আবু ইউসুফ খলিলুর রহমান, চাঁপাই নবাবগঞ্জ-১ শাহজাহান মিয়া ও বেলাল ই বাকী, চাঁপাই নবাবগঞ্জ-২ আনোয়ারুল ইসলাম, চাঁপাই নবাবগঞ্জ-৩ আবদুল ওয়াহেদ ও হারুনুর রশীদ, নওগাঁ-১ ডা. ছালেক চৌধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-২ সামসুজ্জোহা খান ও খাজা নজীবুল্লাহ চৌধুরী, নওগাঁ-৩ পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি ও রবিউল আলম বুলেট, নওগাঁ-৪ শামসুল আলম প্রামাণিক ও ডা. ইকরামুল বারি টিটো, নওগাঁ-৫ জাহিদুল ইসলাম ও নাজমুল হক, নওগাঁ-৬ আলমগীর কবির ও শেখ রেজাউল ইসলাম, রাজশাহী-১ ব্যারিস্টার আমিনুল হক, রাজশাহী-২ মিজানুর রহমান মিনু ও সাঈদ হাসান, রাজশাহী-৩ শফিকুল হক মিলন ও মতিউর রহমান মন্টু, রাজশাহী-৪ আসনে আবু হেনা ও আবদুল গফুর, রাজশাহী-৫ এডভোকেট নাদিম মোস্তফা ও নজরুল মন্ডল, রাজশাহী-৬ আবু সাঈদ চাঁদ ও নুরুজ্জামান খান মানিক, নাটোর-২ সাবিনা ইয়াসমিন ও রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সিরাজগঞ্জ-১ কনক চাঁপা ও নাজমুল হাসান রানা, সিরাজগঞ্জ-২ রোমানা মাহমুদ ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

রংপুর বিভাগে মনোনয়ন পেলেন যারা: দিনাজপুর-১ মঞ্জুরুল ইসলাম ও মামুনুর রশীদ, দিনাজপুর-৩ জাহাঙ্গীর আলম এবং মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, দিনাজপুর-৪ হাফিজুর রহমান সরকার ও আক্তারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর-৫ এজেডএম রেজওয়ানুল হক ও এসএস জাকারিয়া বাচ্চু, দিনাজাপুর-৬ মো. লুৎফর রহমান ও সাহিদুল ইসলাম শাহীন, লালমনিরহাট-২ সালাউদ্দিন হেলাল, লালমনিরহাট-৩ আসাদুল হাবিব দুলু, রংপুর-১ মোশাররফ হোসেন সুজন, রংপুর-২ ওয়াহিদুজ্জামান মামুন ও মোজাফফর আলী, রংপুর-৩ রিটা রহমান ও মোজাফফর আহমদ, রংপুর-৪ এমদাদুল হক ভরসা, রংপুর-৫ সোলায়মান আলম ও ডা. মমতাজ, রংপুর-৬ সাইফুল ইসলাম, পঞ্চগড়-১ ব্যারিস্টার নওশাদ জমির ও তৌহিদুল ইসলাম, পঞ্চগড়-২ জাহিদুর রহমান ও ফরহাদ হোসেন আজাদ, ঠাকুরগাঁও-১ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ঠাকুরগাঁও-২ মো. আবদুস সালাম ও জুলফিকার মুর্তাজা চৌধুরী তুলা, ঠাকুরগাঁও-৩ জাহিদুর রহমান ও জিয়াউল ইসলাম জিয়া, কুড়িগ্রাম-৩ তাজভীরুল ইসলাম ও আবদুল খালেক, কুড়িগ্রাম-৪ আজিজুর রহমান ও মুখলেছুর রহমান।

আরো যারা মনোনয়ন পেলেন: কক্সবাজার-১ হাসিনা আহমেদ, কক্সবাজার-৩ লুৎফর রহমান কাজল, কক্সবাজার-৪ শাহজাহান চৌধুরী, পার্বত্য খাগড়াছড়ি আবদুল ওদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটি দীপেন দেওয়ান/ মনি স্বপন দেওয়ান, নোয়াখালী-১ ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন/ মামুনুর রশিদ মামুন, নোয়াখালী-২ জয়নুল আবেদিন ফারুক/ কাজী মফিজুর রহমান, নোয়াখালী-৩ বরকত উল্লাহ বুলু, নোয়াখালী-৪ মো. শাহজাহান, নোয়াখালী-৫ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নোয়াখালী-৬ ফজলুল আজিম। নীলফামারী-৪ বেবী নাজনীন, পিরোজপুর-১ সরোয়ার হোসেন, যশোর-৪ টিএস আইয়ুব, খুলনা-৩ রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-৪ আজিজুল বারী হেলাল।