মৎস্যজীবিদের জীবনমান উন্নয়নে সেমিনার অনুষ্ঠিত

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৮:৫৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০১৮ | আপডেট: ৮:৫৪:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০১৮

মর্জিনা বেগম/ এইচ এম ইমরান।।

“জলবায়ু পরিবর্তনে বিপদাপন্ন উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্যজীবি সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ” শীর্ষক এক সেমিনার গতকাল বরিশাল নগরীর একটি রেঁস্তোরায় অনুষ্ঠিত হয়।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হরিদাস শিকারীর সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামীগীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হোসেন মোহাম্মদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন আইসিডিএ’র নির্বাহী পরিচালক আনোয়ার জাহিদ এবং ধারনা পত্র উপস্থাপনা করেন,কোস্ট ট্রাস্ট ‘র প্রকল্প প্রধান ডি এম নাজমুল আলম। সেমিনারে ভূক্তভোগী জেলে সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ বলেন, ৮ মাস জাটকা ধরা নিষিদ্ধকালীন সময় কার্ডধারী জেলেদের জন্য সরকার যে ৪০ কেজি প্রদান করেন তা যথেষ্ট নয়। তাছাড়া এই ৮ মাসের মধ্যে তাদেরকে ৪ মাস সরকার চাল প্রদান করে। তাই দাবী করেন, ৬ মাস প্রদান ও চালের পরিমান বৃদ্ধিসহ ডাল,তেল,লবন প্রদানের জন্য। তারা আরও বলেন, অনেক জেলে নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে ভিটা-মাটি হারিয়ে নিঃস্ব। তাদের জন্য ২০ শতাংশ খাস জমি বন্দোবস্ত দেয়ার দাবী জানান। এটা তাদের দীর্ঘ দিনের দাবী বলে উল্লেখ্য করেন।

 

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল দাস জেলেদের উদ্দেশ্যে বলেন,যারা আইডি কার্ড পেয়েছেন ভবিষ্যতে তারা এর সুফল পাবেন। তিনি আরও বলেন, মৎস্য আহরোণে আধুনিকায়ন আনতে হবে। জেলেদের উন্নয়নে সমুদ্র প্রকল্প হাতে নেয়া হবে। ইতোমধ্যে এ প্রকল্প একনেক বৈঠকে পাশ হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ্য করেন। আগামীতে নদী থেকে তিন মাস জেলেরা মাছ ধরতে পারবে বাকি নয় মাস নদী থেকে মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। তাই সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর না হয়ে নিজেদের জীবনমান উন্নয়নে তাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। সরকার ঘোষিত নিষিদ্ধকালীন সময়ে মা ইলিশ ও জাটকা নিধন করা না করার জন্য তিনি জেলেদের প্রতি আহবান জানান। এছাড়া সেমিনারে অন্যান্য সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা,জনপ্রতিনিধি এবং উন্নয়ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, ঘূর্ণিঝড় ও নদী ভাঙ্গনের ফলে উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাচ্ছে।

 

তাই জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি, সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ প্রদান,প্রকৃত জেলেদের তালিকা প্রনয়ন ও তাদের আইডি কার্ড প্রদান এবং জেলে পল্লীর নারী ও যুবকদের সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষণ প্রদান করা । যাতে তারা বেকার না থাকে। এ সময় জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল লতিফ,যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সন্তোষ ঘোষ,প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার বখতিয়ার উদ্দিন,সমাজ কল্যান কর্মকর্তা শ্যামল সেন গুপ্ত, বাকেরগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জাহানারা পারভীন,সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহাতাব হোসেন ম্যাপ নির্বাহী প্রধান শুভংকর চক্রবর্তী,সুরুজ, মৎস্যজীবি মোঃ শাজাহান,আলম চাপরাশি, মোঃ কালাম হাওলাদার প্রমুখ।