ভোলার স্বাধীনতা জাদুঘরে ৮০ বছরের ইতিহাস জানতে দর্শনার্থীদের ভিড়

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২২, ২০১৮ | আপডেট: ১০:০৩:পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২২, ২০১৮

ইমতিয়াজুর রহমান।।

ভোলা প্রতিনিধি : বাঙালির বাঙালিয়ানা, কী বাঙালির স্বাধীনতা ইতিহাস, কীভাবে বাঙালি পেয়েছিল ব্রিটিশ ও পাকিস্তানীদের হাত থেকে স্বাধীনতা। তা জানার আগ্রহ নিয়েই দর্শনার্থীর ভিড় বাড়ছে ভোলার স্বাধীনতা জাদুঘরে। প্রতিদিন এখানে ছুটে আসছে নানা শ্রেণি পেশার মানুষ।

৩ তলা বিশিষ্ট জাদুঘরের প্রত্যেক তলাতেই রয়েছে একটি করে গ্যালারি যেখানে ঠাঁই পেয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পেছনের ৮০ বছরের ইতিহাসের ধারাবাহিক দুর্লভ সংরক্ষণ।

প্রথম তলায় এক পাশে রয়েছে নানা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, ইতিহাস ঐতিহ্য, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, ৪৭ এর দেশভাগ ও ভাষা আন্দোলনের দুর্লভ ছবি ও তথ্য। অপর পাশে রয়েছে লাইব্রেরি ও গবেষণাগার। এছাড়া একই তলায় রয়েছে মাল্টিমিডিয়া ডিসপ্লে হলরুম। যেখানে প্রদর্শিত হয় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র ও চলচ্চিত্র।

দ্বিতীয় তলায় আছে ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধের পূর্ব পর্যন্ত ইতিহাসের চিত্রকল্প। আর তৃতীয় তলায় রয়েছে ৫৮ ও ৬৬ এর আন্দোলনের ছবি, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০ এর সাধারণ নির্বাচন, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ, ৭-ই মার্চের ভাষণসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের আত্মত্যাগের আলোকচিত্র।

জাদুঘরটির একটি অংশে বাঙালির লোকজ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়েছে দর্শনার্থীদের জন্য। এখানে প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে জাদুঘর খোলা সময়ে ভোলাসহ দেশের নানা স্থান থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করে ইতিহাস জানতে। দর্শনার্থীরা ডিজিটাল টাচ স্ক্রিন ব্যবহার করে যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ও তথ্য জানতে পারছেন। প্রবেশেও নেই কোনো টিকেট।

ঢাকার গাজীপুর থেকে নানার বাসায় ঘুরতে আসা মাহমুদা রহমান জানান আমার জন্ম ৭১ এর পরে তাই প্রত্যেকের মতো আমারও জানার ইচ্ছে যে ৭১ এ কী হয়েছিল। কীভাবে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। পেয়েছি লাল সবুজের পতাকা। এখানে এসে শুধু স্বাধীনতা সংগ্রাম নয় ব্রিটিশ আমলের ও নানা তথ্য জানতে পেরেছি।

ভোলা পৌরবালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী সানজিদা রহমান বলেন, এখানে এসে অনেক কিছু জানতে পেরেছি, যে কেউ এখানে আসলে তার বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রাম সংক্রান্ত সকল কৌতূহল দূর হয়ে যাবে।

পরিবার নিয়ে জাদুঘরে আসা আপেল মাহামুদ শাওন বলেন, আমি নিজেও মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি। তাই পরিবারকে নিয়ে এখানে আসলাম ৭১ সম্পর্কে জানার জন্য।

ভোলা টাউন কমিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেদী হাসান বলেন, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জানার আগ্রহ প্রবল। এই জাদুঘরে শিক্ষার্থীরা আসলে তাদের মনে থাকা সকল প্রশ্নের জবাব পেয়ে যায়। যা তাদের লেখাপড়ার ক্ষেত্রেও উপকার হয়। তাদের জ্ঞান সমৃদ্ধ হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে স্বাধীনতা জাদুঘরটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ২০১৮ এর ২৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আনুষ্ঠানিকভাবে জাদুঘরটি উদ্বোধন করেন। এরপর থেকে জাদুঘরটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। যে কেউ বিনা মূল্যে প্রবেশ করেতে পারে এখানে। প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ড. মুনতাসীর মামুনসহ বেশ কয়েকজন গবেষকের নিরলস পরিশ্রমে জাদুঘরটি অন্যতম সংগ্রহশালায় পরিণত হয়েছে।