বরিশালে সাংবাদিকের মামলায় পুলিশ হাজতে

প্রকাশিত: ১১:৩৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১, ২০১৮ | আপডেট: ১১:৩৩:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১, ২০১৮

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিতর্কিত ডিবি’র সাবেক ও বর্তমান বন্দর থানার এসআই নূরে আলম কর্তৃক দৈনিক আজকের সময়ের বার্তা পত্রিকার সংবাদকর্মীকে মারধর, ক্রসফায়ারের হুমকী ও জিম্মি করে ঘুষ আদায়ের অভিযোগে হাইকোর্ট থেকে ১ মাসের জামিন শেষে আজ বরিশাল কোর্টে জামিনের জন্য হাজির হলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন এসআই নুরে আলমকে।

বরিশাল মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের বির্তকিত এসআই নূরে আলমের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে ২৭ এপ্রিল বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন সময়ের বার্তা’র স্টাফ রিপোর্টার কাওসার মাহমুদ মুন্না।

বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। দীর্ঘদিন তদন্ত শেষে বরিশাল সমম্বিত জেলা কার্যালয়ের দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক এ.বি.এম আবদুস সবুর, ঘুষ গ্রহণ দন্ডবিধির ১৬১ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ১৯৪৭ সনের ৫ (২) ধারায় বরিশাল কাউনিয়া থানায় গতকাল বাদী হয়ে মামলা করেন।

মামলা নং-২২। উল্লেখ, ২০১৭ সনের বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সময়ের বার্তা পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার কাওছার মাহমুদ মুন্না (২৫) বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

আদালতের বিচারক মোঃ আনোয়ারুল হক মামলা আমলে নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরিশাল’কে তদন্তের নির্দেশদেন। এসময় বাদীর আইনজীবী ছিলেন এ্যাড. ফারুক মিয়া ও জসিম উদ্দিন নকিব। আদালত সূত্রে জানা গেছে, নগরীর কাউনিয়া পেছনের স্কুল সংলগ্ন আবদুল্লাহ্ আল মামুনের বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির মৌখিক অভিযোগ এনে তার বসতঘরে গত বছরের ১৭ এপ্রিল বিকেলে একদল ডিবি পুলিশ অভিযান চালায়।

দায়েরকৃত মামলার আসামী নূরে আলম এসে মামুনের পক্ষে সুপারিশ করতে থাকে। মামুন এসময় ডিবি পুলিশের উপস্থিতিতে তার ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন তালুকদার ও ভাবীকে মারধর করে এবং স্বর্ণের চেইন ও ঘড়ি নিয়ে যায়। এ ঘটনা শোনা মাত্র পত্রিকা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলার বাদী তথ্য সংগ্রহ করতে ঘটনাস্থলে যায়।

কিন্তু দৈনিক আজকের সময়ের বার্তা পত্রিকার পরিচয় শোনা মাত্রই আসামী নূরে আলম সংগীয় ডিবি পুলিশের সদস্যদের সহায়তায় বাদীকে আটক করে ঘটনাস্থলের বসতঘরের একটি কক্ষে নিয়া বেদম মারধর করে। ওই সময় ছিনিয়ে নেয় সাংবাদিকের মুঠোফোন, তল্ল¬াশি করে বাদীর শরীর। আসামী পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে সাংবাদকর্মী মুন্না পত্রিকার ভিজিটিং কার্ড দিয়ে অফিস কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে বলে। কিন্তু আসামী নূরে আলম মুন্নার হাতে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে ছবি তোলে এবং ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করে। ঘুষ না পেলে বাদীকে ‘ইয়াবা’ দিয়ে চালান কিংবা মুঠোফোনে ‘পর্নোগ্রাফি’ দিয়ে মামলা দেয়ার হুমকি দেয়। বাদী বহু অনুরোধ করেও কোন সুরাহা করিতে পারেনি।

আসামী তখন সময়ের বার্তার স্টাফ রিপোর্টার মুন্নার মোবাইল দিয়ে ৫নং স্বাক্ষীর সাথে কথা বলায়। ৫নং স্বাক্ষী আটকের বিষয় শুনে ১ ও ৪নং স্বাক্ষীদের ঘটনাস্থলে পাঠায়। তখন বাদী ১নং ও ৩নং স্বাক্ষীর কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা এবং তার সাথে থাকা ৩ হাজার টাকা মিলিয়ে সর্বমোট ১৮ হাজার টাকা আসামীকে ঘুষ দিয়ে মুক্ত হতে বাধ্য হয়। আসামী টাকা নেয়ার কথা না বলার জন্য শেষে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আটক হওয়া এই সংবাদকর্মীকে ক্রসফায়ারের হুমকী দেয়। এমনকি ভবিষ্যতে পত্রিকার কর্মরত সকলকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয় নূরে আলম।

উল্লেখ্য গতবছরের ২৬ ফেব্র“য়ারী নগরীর ইছাকাঠী, কাশীপুরস্থ এসআই নূরে আলমের ভাড়া বাসা থেকে তার ২য় স্ত্রী সুরভী’র ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ। এ বিষয়ে নিহতর স্বজনরা জানিয়েছিল ‘সুরভীকে যৌতুকের দাবীতে হত্যা করিয়া লাশ ঝুলানো হয়েছে’।

এছাড়াও নূরে আলমের মামা শশুর জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রী তাদের ভাগ্নি (নূরে আলমের ২য় স্ত্রী) সুরভীকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখে এসআই নূরে আলম মর্মে বক্তব্য প্রদান করেন। এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ওইসময়ে ২৭ ফেব্রয়ারী দৈনিক আজকের সময়ের বার্তা-সহ বেশ কিছু গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার ও প্রকাশিত হয়। আদালতের নির্দেশ মোতাবেক র্দীঘদিন দুদক কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধান করে মামলার সাক্ষীদের স্বাক্ষ্য শেষে দদুক কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত এসআই নূরে আলমের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রথমিকভাবে প্রোমিনত হওয়ায় দুদকের উপপরিচালক এ.বি.এম আবদুস সবুর, দুর্নীতি দমন আইনে বরিশাল কাউনিয়া থানায় বাদী হয়ে মামলা করেন।

মামলা নং-২২। মামলা হবার পর হাইকোর্ট থেকে একমাসের জামিন নিয়ে আসে। আজ বরিশাল কোর্টে জামিনের জন্য হাজির হলে আদলত জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে দেন