সংলাপ নিয়ে দুশ্চিন্তায় বিএনপি

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৭:৩৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩১, ২০১৮ | আপডেট: ৭:৩৮:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩১, ২০১৮

সাত দফা দাবি নিয়ে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপে বসবেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ। তবে এই সংলাপ কতটা ফলপ্রসূ হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে বিএনপি। দলটির ভাষ্য, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধি, অপরদিকে সরকারের সংলাপে রাজি হওয়া-এর মধ্যে সংলাপের আন্তরিকতা বহন করে না। আর এর ফলে সংলাপ এবং নির্বাচন ফলপ্রসূ হবে না।

গত মঙ্গলবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বেগম জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। ওই মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ে খালেদা জিয়ার ৫ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হয়েছিল।

এবিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বেগম জিয়াকে কারাগারে রেখে সংলাপ ও নির্বাচন কখনো ফলপ্রসূ হবে না। সরকার একদিকে সংলাপে রাজি হয়েছে, অরপদিকে খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধি করেছে। এই দুইটা সাংঘর্ষিক। এটা কখনোই গণতান্ত্রিক আচারণ নয়। এতে সংলাপের আন্তরিকতা বহন করে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, কোন সংঘাতের পথে না গিয়ে আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। একারণে সরকার সংলাপে করতে রাজি হয়েছেন। আমরা ৭ দফা দাবির ওপরে সংলাপ করবো। এছাড়া সংলাপ, আন্দোলন ও নির্বাচন এক সাথে চলবে।

এদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, প্রধানমন্ত্রী কী আমাদের সংলাপের জন্য ডেকেছেন? না কী আমাদের ডেকে নিয়ে গিয়ে ধাপ্পা দিবেন? আলোচনার নামে তিনি লোক দেখানো সংলাপের আয়োজন করছেন কী, না সেটাও ভাবার বিষয়। সুতরাং সংলাপের আগে বেড়াজাল দিলে সংলাপ সফল হবে না। ৭ দফা দাবি নিয়েই আলোচনা হবে। আগেই সংবিধানের দোহাই দিলে সংলাপ সফল হবে না।

গত ২৮ অক্টোবর সংলাপের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দিয়েছে ড. কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এই পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার সংলাপের জন্য বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণভবনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের বাসায় চিঠি পৌঁছে দেন আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল। গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপে বসতে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্ব ১৬ জনের নাম চূড়ান্ত করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

এবিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা মওদুদ আহমদ বলেন, সংলাপের আহ্বানের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। অপরদিকে ২০১৩ সালে ডিসেম্বর মাসে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে তৈরী হওয়া রাজনৈতিক সংকট সমাধানে তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সংলাপ করেছিল জাতিসংঘের বিশেষ দূত অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো। তবে ওই সংলাপের ফলাফল শূন্য ছিল- বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এবারও সংলাপের ফলাফল শূন্য হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক বিএনপির এক শীর্ষ নেতা এই প্রতিবেদককে বলেন, সময়ক্ষেপনের, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দৃষ্টিকে ভিন্নদিকে প্রভাবিত করতে কিংবা বিদেশি কূটনৈতিকদের বুঝানো যে, আমরা তো আলোচনা করেছি। এটাই হচ্ছে, সংলাপের মূল বিষয়বস্ত। এছাড়া অন্য কিছু নয়।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, আমি বিএনপির নেতাদেরকে বলতে চাই, সংলাপের ফলাফলে নিয়ে আসুন। বলুন, বেগম জিয়াকে ছাড়া আমরা নির্বাচনে যাবো না এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। আপনারা সংলাপ সফল করুন।