রাবি’তে ছাত্রলীগ নেতাকে মারধর করলেন ছাত্রলীগ নেতারা

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৮:১৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০১৮ | আপডেট: ২:২৭:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৩০, ২০১৮

ভর্তি জালিয়াতির বিষয়ে অডিও ফাঁসের পর দুইজনের নাম প্রকাশ করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রলীগ নেতাকে মারধর করেছেন ছাত্রলীগের নেতারা। মারধরের শিকার তারেক আহমেদ খান শান্ত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক। তিনি মার্কেটিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

সোমবার দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতারা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের উপ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক হাসিবুল হাসান শান্ত ও সহ-সম্পাদক কাউসার ইসলাম, ছাত্রলীগ কর্মী শামিম শিকদার, জুয়েল ও শুভ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে চারুকলার একটি খাবার দোকান থেকে শান্ত বের হওয়ার সময় মোটরসাইকেল নিয়ে বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা সেখানে আসেন। এরপর শান্তকে মারধর করেন তারা। পরে মারধরকারীরা মোটরসাইকেল নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। এরপর মারধরের শিকার শান্তকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়।

মারধরের শিকার তারেক আহমেদ খান শান্ত বলেন, ভর্তি জালিয়াতি নিয়ে হাসিবুল হাসান শান্ত, কাউসার আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে। পরে একটি অডিও ফাঁস হয়। তা নিয়ে আমি সাংবাদিকদের কাছে শান্ত ও কাউসারের নাম প্রকাশ করি। এ ঘটনার জেরে দুপুরের খাবার শেষে চারুকলায় অতর্কিত হামলা চালায় শান্ত, কাউসার, শামীম, শুভ, জুয়েলসহ আরও ১০-১৫ জন। আমাকে কাঠের চালা দিয়ে মারধর করে তারা।

রাবি মেডিকেল সেন্টারের অর্থোপেডিক্স বিভাগের চিকিৎসক এসএম আসজাদ হাসান আশরাফ বলেন, তার পায়ের মাংস থেঁতলে গেছে। বাকি সব স্বাভাবিক আছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রামেকে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসিবুল হাসান মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, সাংবাদিকদের কাছে একটি ব্রিফ নিয়ে তার কাছে জানতে চাইছিলাম কেন আমাদের নাম বললেন? এ ঘটনায় হাতাহাতি হয়। কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি।

গত ১৩ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি জালিয়াতির চুক্তি নিয়ে সাংবাদিকদের হাতে আসে একটি অডিও। সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয় মারধরের শিকার তারেক আহমেদ খান শান্ত সেই অডিওর সঙ্গে জড়িত।

এরপর জানতে চাইলে তারেক আহমেদ খান শান্ত ওই দুই ছাত্রলীগ নেতা তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে বলে দাবি করেন। সেই ঘটনার জেরে এই ছাত্রলীগ নেতাকে মারধর করা হলো।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।