৪ যুবককে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে

নাজমুল হক নাজমুল হক

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ৩:৪৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০১৮ | আপডেট: ৩:৪৩:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০১৮
নাজমুল হক, মাদারীপুর প্রতিনিধি । ০১৭৭২৩২৭৭৯৯
  দারীপুরের ডাসারে পুলিশের এএসআই ইয়ার মাহমুদের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দেয়ায় চার যুবকের নামে ছাত্রী হয়রানির ‘মিথ্যা মামলা’ দিয়ে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এই চার যুবক নির্দোষ। এএসআই’র বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়ার কারণেই তাদের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুরের ডাসার থানার এএসআই ইয়ার মাহমুদের সাথে ডাসার এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে এমন অভিযোগ এনে এলাকার কয়েক যুবক মাদারীপুর পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে পুলিশ সুপার সেই এএসআই ইয়ার মাহমুদকে ডাসার থানা থেকে প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেন। এরপরই ইয়ার মাহমুদের প্ররোচনায় দক্ষিণ ডাসারের প্রবাসী দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে যুথী আক্তারকে দিয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করানো হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার গ্রেপ্তার করা হয় চার যুবককে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এএসআই ইয়ার মাহমুদ বলেন, যুথীর বাবা বিদেশ থাকে। এই কারণে তাদের কোন অভিভাবক নেই। সে কারণে শুধু আমার সাথে নয় আরো অনেক পুলিশের সাথেই যুথীর মায়ের ভালো সম্পর্ক। ভালো সম্পর্ক মানেই তো আর পরকীয়া সম্পর্ক নয়। তার সাথে কোন অবৈধ সম্পর্ক নেই আমার। এমনিতেই তাদের বাড়িতে যাওয়া-আসা করতাম। মামলার ব্যাপারে তিনি বলেন, যুথীকে উত্ত্যক্ত করেছে, তাই সে মামলা করেছে। মামলার কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা তানভীর মাহমুদ বলেন, এলাকায় ওই দিন ছাত্রী হয়রানির কোন ঘটনা ঘটেনি। যুথীর মায়ের সাথে এএসআই ইয়ার মাহমুদের পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। এটা এলাকার অনেকেই জানে। পরকীয়ার বিষয় নিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে ক্ষিপ্ত হয় ইয়ার মাহমুদ এবং যুথীর মা। এ কারণেই যুথীকে দিয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়ায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মফেজ মেম্বার বলেন, দারাগোর পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় অনেক কানা-ঘুষা হয়েছে। আমরা স্থানীয়রা অনেক নিষেধ করেছি। পরে কয়েক যুবক এসপির কাছে অভিযোগ দিয়েছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দারোগা আর ওই প্রবাসীর বউ দুজনে মিলে মিথ্যা মামলা দিয়েছে।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, মামলায় ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার যে ঘটনা বলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। যে স্থানে উত্ত্যক্ত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করা হলে প্রকৃত সত্য জানা যাবে। এছাড়াও মামলায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর উত্ত্যক্ত করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ থানায় মামলা দিয়েছে চলতি মাসের ২৬ তারিখে। এটাও রহস্যজনক।
ডাসার থানার ওসি নাসির উদ্দিন বলেন, সেই এএসআই ইয়ার মাহমুদকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। উপরের চাপের কারণে মামলা নেওয়া হয়েছে দাবি করে বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হননি ওসি।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বদরুল আলম মোল্লা বলেন, হয়রানিমূলক মামলার বিষয়টি আমার জানা নেই। জেনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।