কিছু ব্যর্থতা কিছু সফলতা নিয়ে শেষ হলো ২২ দিনের অবোরধ

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০১৮ | আপডেট: ১০:১৮:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০১৮
ফয়েজ আহমেদ,দশমিনা প্রতিনিধি।।
পটুয়াখালীর  উপকুলীয় এলাকা দশমিনা উপজেলা এবং বাউফল উপজেলা। এ  দুই উপজেলার পুর্ব দিকে রয়েছে ভোলা জেলার পশ্চিম সীমানা। অর্থাৎ পুর্ব পশ্চিমে প্রায় ৫০ কিঃ মিঃ। যার পূূবাংশের নাম তেঁতুলিয়া এবং পশ্চিংশের নাম বুড়াগৌরাঙ্গ নদী।অবোরধ চলাকালীন সীমানা নির্ধারন করা হয়,উত্তরে দশমিনা- বাউফলের মধ্যবর্তী বগীর খাল হইতে দক্ষিনে উলানিয়া চৌমহনী নদীর মোহনা পর্যন্ত। যার দুরত্ব প্রায় ৮০ কিঃ মিঃ বা তারও বেশী।  নিয়ন্ত্রনকারী সংস্থা বলতে বিগত দিনে ছিল শুধু উপজেলা মৎস্য বিভাগ,বর্তমানে যুক্ত হয়েছে নৌ পুলিশ।
বর্তমানে দশমিনা হাজীর হাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ি নামে বেশ পরিচিতি লাভ করেছ সল্প সময়ের ব্যাবধানে। জেলেদের মাঝে আতংক মনে হলেও,জনগণের কাছে নৌ পুলিশ ফাঁড়িটি অনেকটাই আশার আলো ছড়াতে সক্ষমতা অর্জনে স্বাক্ষরও রেখেছেন হাজীর হাট নৌ পলিশ। যার ইন চার্জে রয়েছেন এস আই মোঃ সোহাগ ফকির। জানাগেছে তাকে যোগ্য সাহস,সহযোগিতা এবং সাপোর্ট দিয়েছেন এ এস আই মোঃ সাইফুল ইসলাম এবং তাদের সঙ্গীয় ফোর্সরা। অপবাদ কিংবা ব্যর্থার গ্লানীও ঢেড় জুটেছে এদের ললাটে। কারো কারো মতে,নৌ পুলিশকে টাকা দিয়ে কতিপয় জেলেরা নদীতে জাল পাতা,বিভিন্ন জেলেদের কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহন ইত্যাদী।
এমর্মে কি বলছেন নৌ পুলিশ?  ব্যার্থতাটা আপনারা যে ভাবে জেনেছেন,মুলত সেরকম কিছুই আমার চোখে পরেনি। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে ফাঁড়ি ইন চার্জ সোহাগ আরো বলেন,যার জাল নৌকা কিংবা লোক ধরা পরেছে,তাদের চোখে নৌ পুলিশের বদনাম ছাড়া প্রশংসার আশা করাটা আমার মনে হয় বোকামির লক্ষন ছাড়া আর কিইবা হতে পারে? তাই তারা বললে বলতেই পারে। আমি বা আমার বাহীনি যে নদীতে জীবন বাজী রেখে কাজ করেছে,তার যথেস্ট প্রমান আমার হাতেই রয়েছে। যেমন- চলতি মাসের ০৭ অক্টোবর থেকে ২৮অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২দিনে ৫৫হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল,যার মূল্য প্রেয় ১১,১৬,০০০টাকা,সুতার জাল ২৬হাজার মিটার,যার মূল্য প্রায় ৯,৪০,০০০ টাকা,মা ইলিশ আটক ২৫০ কেজি,যার মূল্য প্রায় ১,৩৮,০০০টাকা,ট্রলার আটক ০৯টি,জেলে আটক ৩২ জন। যার মধ্যে ০৮ জনকে ৩৫,০০০টাকা জরিমানা,২১জনকে ০১ বছর করে কারা দন্ড এবং ০৩ জনকে এক মাস করে কারাদন্ড প্রদান।আমার এ কাজে সার্বিক ভাবে ২৪ ঘন্টা সাপোর্ট দিয়েছেন দশমিনা উপজেলা মৎস্য বিভাগ।
 অবোরধ কালীন সময় আতংকের আর এক নাম উপজেলা মৎস্য বিভাগ। যার কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন মাহাবুব আলম তালুকদার ঝান্টা। যাহাকে সর্বত্বক ভাবে সহায়তা করেছেন,জনাব ঝান্টার সহযোদ্ধা মোঃ আনিছুর রহমান এবং অফিস সহায়ক। অভিযোগের তীর তাদের দিকেও কম যায়নি। টাকার বিনিময়ে জেলেদের জাল নৌকা ছেড়ে দেয়া,সময়মত নৌযান নিয়ে নদীতে টহলে না যাওয়া অন্যতম।এ বিষয় জানতে চাইলে জনাব ঝান্টা এ প্রতিনিধিকে বলেন,প্রায় ১০০ কিলোমিটারের নৌ পথ মাত্র দু’ চারজন লোকবল আর হলার ইঞ্জিন চালিত নৌযান দিয়ে পাহারা দেয়া সত্যিই বড় কঠিন কাজ। তারপরও আমরা সাধ্যমত চেস্টা করেছি। দিনের বেলায় তেমন কিছু মনে না হলেও, রাতের আধারে নদী নিরাস্র টহল দেয়া যে কতটা ঝুকিপুর্ন,তা ভুক্তভোগী ছাড়া অন্যের বুঝা বা বুঝানো বর- ই কঠিনতম কাজ।
তিনি আরো বলেন,আমাদের পাশা পাশি সর্বস্তরের জনগন যদি এগিয়ে আসে এবং আমাদেরকে নৌ পুলিশসহ দ্রুত গতির নৌযান সর্বোরাহ করা হয়,তবে আরো ভাল ফল আশা করা যায়।তার উপরে আপনারা জানেন,আমাদের ইউএনও মহোদয় একজন নারী হয়েও বেশ কয়েকদিন তিনি নিজে আমাদের সাথে নদীতে ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পাশা পাশি তার  নির্দেশে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর প্রধানগনও আমাদের এ অভিযানে শরিক হয়ে বেশ কিছুদিন সময় দিয়েছেন,এজন্য তাদেরকেও ধন্যবাদ জানাই।তাদের মধ্যে অন্যতম উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা বনি আমিন খান,এআরডিও শেখ জাহাঙ্গীর কবির,সহ শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম প্রধান।সর্বোপরি আমরা সাধ্যমত চেস্টা করেছি,আপনারও বিভিন্ন সময় পত্র পত্রিকায় লেখা লেখি করে আমাদের উৎসাহ যোগিয়েছেন।তবে সামগ্রীকভাবে আমি দেখেছি,আগেও জানি,যেহেতু জেলেদের নিয়েই আমার কাজ। এ অঞ্চলের প্রত্যেকটি জেলেই কোন না কোন এনজিওর কাছ থেকে লোন করে সাপ্তাহী কিস্তিকে তা পরিশোধ করছে। সরকার এসময় যে সাহায্য সহযোগিতা করে আসছেন,তার সাথে এই ২২ দিন ঐ সকল এনজিওরা যদি জেলেদের কাছ থেকে কিস্তিটা ওঠানো বন্ধ রাখেন,তবে এখন কিস্তির অজুহাতে লুকিয়ে লুকিয়ে যে দু’ চারটি জেলে ঝুকি নিয়ে নদীতে নামে,আমার মনে হয় সেটাও বন্ধ হবে।
জল মহলে সব চেয়ে বড় আতংকের নাম কোস্ট গার্ড। ব্যার্থতার গ্লানি তাদেরও কম নয়। সারা বছর নৌযানে ঘর সংসার করেও মাত্র ২২ টা দিন কেন জেলেদের নিয়ন্ত্রন করতে পারছেন না?  জনমনে প্রশ্ন,তাহলে কি তারাও জরিয়ে পরছেন দুর্নীতির বেড়াজালে? এমন প্রশ্নের জবাবে নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক একজন পেটি অফিসার বলেন, এটা আমাদের কোন ব্যার্থতা বা দুর্নীতির কোন বিষয় নয়। সারা বছরজুড়ে নদীতে থাকি ঠিকই,কিন্তু এক যায়গায় নয়,বিরামহীন আমাদের জাহাজ চালাতে হয়। কখনও সমুদ্রে আবার কখনও নদীতে। বুঝতেই পারছেন,নদীতে থাকলে সমুদ্র অরক্ষিত,আবার সমুদ্রে গেলে নদী হয় জেলেদের অভায়ারন্য।হাজার হাজার মাইল জুরেই আমাদের কাজ। তারপরও গায়ে পরে যদি কেউ কিছু বলে,আমাদের কিছু বলার নাই।