খালেদা জিয়ার আপিল আবেদন খারিজ হলে রায় আগামীকাল

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৭:০২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০১৮ | আপডেট: ৭:০২:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০১৮

খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচার চলবে- বলে বিচারিক আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে করা আপিল আবেদন খারিজ হলে -বিশেষ জজ ৫ এ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় সোমবার রায় ঘোষণা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

রোববার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মাহবুবে আলম বলেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা শুনানির সময় খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে প্রায় ৪০বার সময় নেয়া হয়েছে। তারপর যখন আসামি পক্ষের বক্তব্য শোনার জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হলো তখন তিনি প্রায় ৩২বার সময় নিয়েছেন। এরপর বেশ কিছুদিন তিনি জেল থাকাবস্থায় তিনি আদালতে যেতে পারেননি। বলা হলো তিনি অসুস্থ।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, তারপরে একটি তারিখে তিনি বলেছেন তিনি আদালতে যাবেন না। এই পরিস্থিতিতে বিজ্ঞ বিচারক তার অনুপস্থিতিতেই এই মামলার যুক্তিতর্কের শুনানির দিন ধার্য করেছেন। কিন্তু সেই সময়ও ওনার ১২৬ জন আইনজীবীর কেউ নেই আদালতে যাননি। এ অবস্থায় মামলাটিতে সোমবার রায় ঘোষণার জন্য ধার্য রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে উনারা খালেদা জিয়ার পক্ষে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়েছে এবং রোববার শুনানির পরে সোমবার আদেশের জন্য রাখা হয়েছে। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচারিক আদালত মামলার চলার যে আদেশ দিয়েছিলেন তার বিরুদ্ধে তারা হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেছিলেন। কিন্তু হাইকোর্টেও রায় উনার বিপক্ষে গেছে। তার বিরুদ্ধে রোববার আপিল বিভাগে এ মামলার শুনানি হলো।

মাহাবুবে আলম বলেন, যদি এ মামলায় আপিল কোনো রকম লিভ (নিয়মিত আপিল করার অনুমতি) দেওয়া হয় তাহলে বিচারিক আদালত কর্তৃক মামলার রায় প্রদান অনিশ্চিত হয়ে যাবে। আর যদি খালেদা জিয়ার আবেদনটি আপিল বিভাগে খারিজ হয়ে যায় তবে সোমবার রায় দেওয়া সম্ভব হবে।’

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, চ্যারিটেবল মামলায় তিনি বারবার সময় নিয়েছেন। এক পর্যায়ে তিনি আদালতে আসবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন। এ অবস্থায় আদালত তো বসে থাকতে পারে না। আদালতকে তো নিশ্চিত বিচার কার্যক্রমটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সেই হিসেবে আমি আশাবাদী বিচারিক আদালত মামলাটির বিচার শেষ করতে পারবে।

আসামিকে হাসপাতালে রেখে রায় দেওয়া হলে সেটি হবে নজিরবিহীন। খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে মাহবুবে আলম বলেন, আসামির সাক্ষী-সাবুদ সবই হয়েছে আসামির সামনে। তিনি নিজে বক্তব্য দিয়েছেন। এখানে আসামি যখন বলেন, তিনি আর আদালতে যাবেন না তখন আর আদালতের কিছু করার থাকে না। তাছাড়াও তার তো ১২৬জন আইনজীবী আছেন।

খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে রায় চ্যারিটেবল মামলার রায় ঘোষণা করা হবে কিনা জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, উনি যদি না যেতে চান তাহলে তো কোনো পথ থাকে না। তাছাড়া আগেই তো বলা হয়েছে উনার অনুপস্থিতিতে বিচার হবে। বিচারের অর্থ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন, বিচারের অর্থ রায় ঘোষণাও।