পরকীয়া কাণ্ডঃ প্রেমিকাকে গোপনে বিয়ে করে হাওয়া মাদ্রাসা অধ্যক্ষ

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৯:২২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০১৮ | আপডেট: ৯:২২:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০১৮

পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে মাদ্রাসার এক নারী অভিভাবককে পালিয়ে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে পঞ্চগড়ের দারুল উলুম মদিনাতুল ইসলাম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা এজাজ আহম্মেদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই মাদ্রাসার শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনায় মাদ্রাসা শিক্ষক এজাজের প্রথম স্ত্রী পঞ্চগড় সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মাওলানা এজাজ আহম্মেদের প্রথম স্ত্রী আকলিমা বেগম আখি জানান, তার বাবার বাড়ি বগুড়া জেলা সদরের চকসূত্রাপুর এলাকায়। বিয়ের পর তিনি তার স্বামী সন্তান নিয়ে সুখেই দিন কাটাচ্ছিলেন। ঢাকার বিক্রমপুরে স্বামীর বাড়িতে থাকতেন।

তারপর তিনি জানতে পারেন মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও পঞ্চগড় জেলা শহরের কামাতপাড়া এলাকার দুলাল ইসলামের স্ত্রী শরিফা আক্তার মুন্নীর (৩৮) সাথে এজাজ পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে তার ওপর নির্যাতন আরও বেড়ে যায়। এরপর পূর্বের নিয়মেই পরকীয়া প্রেমিকা শরীফা আক্তার মুন্নীকে (৩৮) দিয়ে তার সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করে স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করেন।

গত এক মাস আগে পরকীয়া প্রেমিকাকে গোপনে বিয়ে করে হাওয়া হয়ে যান মাওলানা এজাজ। মাওলানা এজাজ আহম্মেদ ওই নারীকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় ওই দুটি পরিবারের লোকজন তাদের সন্তানদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। এজাজ আহম্মেদের প্রথম স্ত্রী তার সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

দারুল উলুম মদিনাতুল ইসলাম কওমি মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা সাইফুর রহমান শাহীন জানান, একজন মাদ্রাসা শিক্ষকের এমন আচরণ আমাদের জন্য অত্যন্ত অসম্মানজনক। মাদ্রাসার পক্ষ থেকে তাকে এ বিষয়ে শোকজ করা হলেও তিনি কোন জবাব দেননি।

মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি হযরত আলী জানান, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠার পর তাকে শোকজ করা হয়েছে। আমরা মাদ্রাসার জন্য সকল হিসেব বুঝে দেওয়ার জন্য তাকে বলেছি। কিন্তু তিনি এক মাসের ছুটি নিলেও এখনো তার কোন খোঁজ নেই।

মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও পঞ্চগড় চেম্বারের সভাপতি আব্দুল হান্নান শেখ বলেন, আমরা অভিযোগ পাওয়ার পর ওই শিক্ষককে শোকজ করেছিলাম। তিনি শোকজের কোন জবাব দেননি। মাদ্রাসার হিসেব নিকেশও বুঝিয়ে দেননি। আমরা তাকে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছি। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে মাওলানা এজাজ আহম্মেদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার ব্যবহৃত নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।

  • টিবিটি