জলবায়ুর জন্য বরিশালের বার্ষিক ক্ষতি ৮০ কোটি টাকা

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৮:২৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০১৮ | আপডেট: ৮:২৯:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০১৮

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরিশাল শহরের বাৎসরিক (জীবন, জীবিকা ও সম্পদের) ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮০ কোটি টাকা। যা বরিশালের মোট মূল্য সংযোজন উৎপাদনের ৬ শতাংশ। ২০১৫ সালে জার্মানির কারিগরি সহায়তায় ‘বরিশাল শহরের দুর্বলতা বিশ্লেষণ ও সম্ভাব্যতা যাচাই’ শীর্ষক সমীক্ষা চালানো হয়। সেই সমীক্ষা প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে। বরিশালের এই ক্ষতি কাটাতে ১৩০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। 

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও বরিশাল সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে,  ভূসংস্থান, ভৌগোলিক অবস্থান এবং মানুষের অপরিকল্পিত কার্যক্রমের কারণে বরিশাল শহর জলবায়ু সম্পর্কিত ঝুঁকিতে রয়েছে। সাধারণত ঘূর্ণিঝড়, বন্যা,  সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, পানির লবণাক্ততা বৃদ্ধি, অতিমাত্রায় ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলন ইত্যাদি কারণে বরিশালের অধিবাসীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বরিশালের প্রধান সমস্যা হলো মূল শহরের এবং নদী তীরবর্তী বস্তি এলাকার জলাবদ্ধতা। ১৫ বছর আগেও এই সমস্যা বর্তমানের মতো এতটা প্রকট ছিল না। সে সময় শহর এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অংশ যেমন খাল ও পুকুরের পর্যাপ্ত বৃষ্টির পানি ধারণ ক্ষমতা ছিল। অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি খালগুলোর মাধ্যমে কীর্তনখোলা নদীতে নিষ্কাশিত হতো। বর্তমানে বিভিন্ন কারণে খাল ও পুকুর ভরাট এবং খালের পানি বর্জ্য ফেলার কারণে খালগুলো এই ক্ষমতা হারিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুসারে বরিশালে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত (জীবন, জীবিকা ও সম্পদের) ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বছরে প্রায় ৮০ কোটি টাকা। বরিশাল মহানগরীর শহরের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতির মাত্রা কমানো এবং অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মহানগরীর বসবাসরত ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য অবকাঠামো স্থাপনের মাধ্যমে জলবায়ু সহিষ্ণু সেবা প্রদানের লক্ষ্যে  বরিশাল শহরের জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজিত নগর উন্নয়ন প্রোগ্রাম সংক্রান্ত বিনিয়োগ প্রকল্পটি প্রণয়ন করা হয়েছে। গত ২০১৭ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জার্মান উন্নয়ন সহায়তা সংস্থার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের ফিন্যান্সিয়াল এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরিত হয়।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়,‘বরিশাল শহরের জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজিত নগর উন্নয়ন’ প্রোগ্রাম শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নে  প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩০ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) নিজস্ব তহবিল থেকে ১৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য বাবদ সংস্থা জার্মান উন্নয়ন সহায়তা সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া যাবে ৯৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা। স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২২ সাল নাগাদ প্রকল্পটি শতভাগ বাস্তবায়িত হবে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রকল্পটির ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে মোট ১৩০ কোটি ১৯ লাখ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় ধরে ২০২২ সালের ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ পুনর্গঠিত ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। এর আগে ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বরিশাল সিটি করপোরেশনের সদ্য বিদায়ী মেয়র আহসান হাবিব কামাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন,‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নগরের ভৌত অবকাঠামোর ক্ষতির মাত্রা কমানো এবং অভিযোজন সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে। বরিশাল মহানগরীতে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর জন্য অবকাঠামো স্থাপনের মাধ্যমে জলবায়ু সহিষ্ণু সেবা প্রদান করা যাবে।’

জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ৫০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ বাবদ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। ২০৪৮১.৪ ঘনমিটার ড্রেন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ করা হবে। ৮টি বস্তিতে পাইপের মাধ্যমে পানি সরবরাহ সিস্টেম স্থাপন করা হবে। ২০৬টি বন্যা কবলিত বাড়ি উঁচু করা হবে।  ২৪৭৯৪ বর্গ মিটার (৩ দশমিক ৪৮ কিলোমিটার) সড়ক উন্নয়ন করা হবে। বরিশালের কলাপট্টি বস্তিতে ২৮৩ ঘনমিটার ড্রেন উন্নয়ন ও ১০টি গণশৌচাগার নির্মাণ করা হবে। সাগরদী খাল ডেমোনেস্ট্রেশন করা হবে ২.৫ কিলোমিটার। ১ লাখ ১৪ হাজার ৪০০ ঘনমিটার খাল খনন ও পাড় সংরক্ষণ করা হবে ৭ কিলোমিটার। এছাড়াও অবকাঠামোগত মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত কাজসহ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

জানতে চাইলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, ‘বর্তমান সরকার উন্নয়নের সরকার। যেখানেই প্রয়োজন সেখানেই উন্নয়ন। তাই বরিশালেও উন্নয়ন হচ্ছে।’