প্রথমে প্রেম, প্রেম থেকে শারীরিক সম্পর্ক, আমার বপ্ন ভেঙে চুরমার করল সজল

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৭:৩৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০১৮ | আপডেট: ৮:৩৪:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০১৮

প্রথমে প্রেম, প্রেম থেকে শারীরিক সম্পর্ক। এরপর মুঠোফোনে অশ্লীল ছবি ধারণ। দুই দফায় বিচার বৈঠকে এসবের সমাধান না হওয়ায় স্ত্রীর অধিকার দাবি করে প্রেমিকের বাড়িতে দুইদিন ধরে অনশন করছেন প্রেমিকা।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের বৃন্দাবনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। প্রেমিক বৃন্দাবনপুর গ্রামের নীলমনি দাসের ছেলে প্রাবাসী সজল দাস। প্রেমিকা একই ইউনিয়নের বৈরাগীর চকের প্রদীর দাসের মেয়ে প্রিয়াঙ্কা দাস।

শুক্রবার সন্ধ্যায় অনশনে বসেন প্রেমিকা প্রিয়াঙ্কা। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই বাড়িতেই রয়েছেন তিনি। প্রেমিকের বাড়িতে এসে অবস্থান নেয়ায় প্রেমিকের পরিবার সদস্যরা প্রিয়াঙ্কাকে দুই দফায় মারধর করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের বৃন্দাবনপুর গ্রামের ওমান প্রবাসী সজল দাসের (২২) সঙ্গে বৈরাগীর চক গ্রামের প্রিয়াঙ্কা দাসের (১৯) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রিয়ঙ্কা যখন ৮ম শ্রেণিতে তখন সজলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক হয়। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে চলছিল তাদের প্রেম।

সম্প্রতি ওমান থেকে প্রেমিক সজল দেশে ফিরে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে দেখা করে। সেই সঙ্গে বিয়ের প্রলোভনে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ফোনে ধারণ করে। সেই ভিডিও বন্ধুদের দেখায় সজল। এ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে অভিযোগ করে প্রেমিকা প্রিয়াঙ্কা।

এ নিয়ে পতনঊষার ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান প্রকৌশলী তওফিক আহমেদ ও সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম আহমদ চৌধুরী এবং ইউপি সদস্যসহ এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে দুই দফায় সালিস ডাকা হয়। সালিসে বিষয়টি সমাধান না করে আত্মগোপনে যায় সজল। প্রতিবাদে স্ত্রীর অধিকার দাবিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় সজলের বাড়িতে অবস্থান নেয় প্রিয়াঙ্কা।

প্রিয়াঙ্কা দাসের বাবা প্রদীপ দাস অভিযোগ করে বলেন, মেয়ের সঙ্গে প্রতারণা করে সজল এসব ঘটনা ঘটিয়েছে। উপায় না পেয়ে স্ত্রীর অধিকার চেয়ে শুক্রবার রাতে মেয়ে ওই বাড়িতে অবস্থান নিলে দুই দফায় মারধর করে তারা। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

পতনঊষার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম আহমদ চৌধুরী ও পতনঊষার ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ কুদ্দুছ জানান, বিষয়টি সমাধানের জন্য বর্তমান চেয়ারম্যান তওফিক আহমেদ বাবু ও এলাকার গণ্যমান্যদের নিয়ে বৈঠকে বসা হয়। প্রথম বৈঠকে প্রেমিক সজল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। মোবাইলে এই সংক্রান্ত প্রমাণ থাকায় চেয়ারম্যান ফোনটি জব্দ করেছেন। পরবর্তীতে দ্বিতীয় বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। ওই বৈঠকে উভয়পক্ষ উপস্থিত হলেও প্রেমিক সজল দাস উপস্থিত হয়নি। তাই বিষয়টি সমাধান করা যায়নি।

পতনঊষার ইউপি চেয়ারম্যান তওফিক আহমেদ বলেন, ছেলেটি প্রথম পর্যায়ে অস্বীকার করলেও মোবাইলে থাকা ভিডিওতে বিষয়টি প্রমাণিত হয়। দ্বিতীয় বৈঠকে ছেলে উপস্থিত না হওয়ায় সমাধান হয়নি। তাই প্রিয়াঙ্কার পরিবারকে আইনের আশ্রয় নিতে বলেছি।

প্রিয়াঙ্কা দাস বলেন, স্ত্রীর অধিকার আদায়ে সজলের বাড়িতে অবস্থান নিলে আমাকে দুই দফায় মারধর করে তার পরিবার। তবুও আমি আমার অবস্থান ছাড়িনি। আমার ছয় বছরের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে সজল। বিয়ে না করা পর্যন্ত আমি সজলের বাড়ি ছাড়ব না।

এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। তবে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, বিষয়টি শুনার পর ওই মেয়েকে আমার অফিসে আসতে বলেছি। পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলে তাকে আদালতে মামলা করতে বলেছি।