চরফ্যাশনের ধর্মগুরু মজিদের বিরুদ্ধে জনতার বিক্ষোভ ॥ সন্ত্রাসীদের হামলা

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৬:৫৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০১৮ | আপডেট: ৬:৫৮:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০১৮

ইমতিয়াজুর রহমান।।

ভোলা প্রতিনিধি  : ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার তথা কথিত কালেমার জামাতের আমির প্রফেসর আবদুল মজিদ এর বিচারের দাবিতে এবং ইসলামী শরিয়ত বিরোধী কার্যক্রম পরিচালনাকারী তথা কথিত কালেমার জামাতের কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে চরফ্যাশনের ধর্মপ্রান মুসল্লিরা। শুক্রবার (২৬ অক্টোবর) জুমাবাদ চরফ্যাশন উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে আমিনাবাদ ইউনিয়নের তালুকাদার বাজার জামে মসজিদের সামনে স্থানীয় মুসল্লিরা জড়ো হয়। এসময় বিক্ষোভকারীরা ভন্ড প্রফেসর আবদুল মজিদের ফাঁসি সহ অনতি বিলম্বে তার আস্থানা বন্ধ, তার অপকর্মে সহযোগীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি করেন। মিছিলটি কুচিয়ামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে আসলে স্থানীয় কুলসুমবাগ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান মিঠু, ইউপি মেম্বার ইউসুফ সহ মজিদের অনুসারী সন্ত্রাসীরা মুসল্লিদের উপর হামলা চালায়। এতে কয়েক জন মুসল্লি আহত হয়। এসময় চ্যানেল ২৪ এর জেলা প্রতিনিধি  আদিল হোসেন তপু ও তার ক্যামেরা পার্সন আংকুর রায়ের উপর চড়াও হয় মজিদের গুন্ডা বাহিনী। এসময় তারা কর্তব্যরত সাংবাদিকদেরকে নিউজ কাভার করতে বাঁধা করে। এক পর্যায়ে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরে ঘটনাস্থলে চরফ্যাশন থানার পুলিশের একটি টিম এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। পরে ঘটনাটি থানা পর্যন্ত গড়ায়।

আবদুল মজিদ। প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক শওকত ওসমানের রচিত উপন্যাসের “লালসালু”র ভন্ড পীর মজিদের নামে তার নাম। যদিও তিনি একজন সাবেক বেসরকারি কলেজ শিক্ষক। কিন্তু এলাকাতে এবং তার মুরিদদের কাছে মজিদ প্রফেসর  বা প্রফেসর আবদুল মজিদ নামে পরিচিত। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রফেসর না হলেও প্রফেসর হিসেবে পরিচিত তিনি।  এক সময় তাবলীগ জামাতের সাথে জড়িত থাকলেও দীর্ঘ কয়েক বছর পূর্বে ১৯৯৭ সালে গঠন করেন কালেমার জামাত নামে একটি সংগঠন। যে সংগঠনের আমির বা কমান্ডার হলেন তিনি। আলেম ওলামাদের সাথে সম্পৃক্ত না থেকেও মনগড়া ও বির্তকিত ফতোয়া দেন তিনি। তার সংগঠনের সদস্যদের দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছদ্ধবেশে পাঠিয়ে তার কালেমার জমাতের প্রচার এবং সদস্য সংগ্রহের কাজ করে থাকে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সদস্য সংগ্রহ করে প্রাচীন, আদিম, অমানবিক এবং উগ্র, ও ভ্রান্ত পন্থায় প্রশিক্ষিত করেন তিনি। ২০০৫ সালের বাংলাদেশের ৬৩ জেলায় একযোগে বোমা হামলার ঘটনায় ভোলা জেলায় বোমা বিস্ফোরন মামলার শায়েখ আবদুর রহমান, আতাউর রহমান সানি সহ অন্যান্যদের মধ্যে ৫ নম্বর আসামী ছিলেন তিনি। যদিও অদৃশ্য কারনে আলোচিত সিরিজ বোমা হামলার মতো বড় মামলা থেকে খারিজ পেয়ে যান।

কালেমার জামাতের আমির প্রফেসর আবদুল মজিদের ইসলাম বিরোধী এবং রাষ্ট্রবিরোধী অনৈসলামিক কর্মকান্ড দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় সু- পরিচিত ছিল। ছাতু খাওয়া, ফেরিওয়ালাগিরি, কলব হাজির, নিজের ছোট ছেলেকে ঈসা ( আ:) দাবি করা, নিজেকে জমিনে আল্লাহ তাআলার বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করা, তার দরবার কুলসুম বাগ শরীফে শেষ নবী হযরত মোহাম্মদ (স:) ছাড়া সকল নবীদের রুহু হাজির করা সহ বিভিন্ন অনৈসলামিক কর্মকান্ডের জন্য এলাকায় সুপরিচিত। এছাড়াও একাধিক বিবাহ, বাল্যবিবাহে উৎসাহিত করন, তার মুরিদ বিবাহিত দম্পতিদের তালাকের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করন,মুরিদদের শিশুদের দত্তক দেওয়ার নামে শিশু পাচার,বিভিন্ন অপরাধীদের তার আস্থানায় আশ্রয়, শিশুদের বিদ্যালয়ে গমনের পরিবর্তে ভারী কাজে নিয়োজিত করা সহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয় তার নিজ ইউনিয়ন কুলসুমবাগকে মক্কা এবং আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নকে মদিনা হিসাবে আখ্যায়িত করেন। সে দেশের কোন আইন মানে না। নিজের মনগড়া আইনেই চলে তার আস্তানার কার্যক্রম ও তার মুরিদদের জীবন।  বিভিন্ন মহলে আবদুল মজিদের হাত থাকায় এলাকাবাসী তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারতোনা। প্রতিবাদকারীকে উল্টো প্রাননাশের শঙ্কায় থাকতে হয়।

আবদুল মজিদের এসব অনৈসলামিক, রাষ্ট্র বিরোধী  কার্যকলাপ বন্ধের দাবিতে এবং তাকে আইনের আওতায় আনতে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর আবেদন করে আবদুল মজিদের বড় ছেলে মো: ইসমাইল। এরপরে গত ১১ই জুন ২০১৮ সালে আইজিপি, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ানের মহা পরিচালক বরাবর অভিযোগ দাখিল করেন আবদুল মজিদের সাবেক শীষ্য তরিকুল ও মাহমুদ হাসান। বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে চ্যানেল ২৪ এর টিম সার্চলাইট। টিম সার্চলাইটের কাছে গোপনে ধরা পড়ে প্রফেসর আবদুল মজিদের রাষ্ট্রবিরোধী ও অনৈইসলামিক কর্মকান্ড। সার্চলাইটের কাছে নিজের অজ্ঞাতেই তার বিভিন্ন অপরাধের কথা শিকার করে ফেলেন তিনি। ২ পর্বের প্রতিবেদনটি প্রচারিত হলে সারাদেশে মুখোশ উন্মোচিত হয় আবদুল মজিদের। রাজধানী ঢাকা,সিলেট,চট্রগ্রাম সহ বিভিন্ন স্থানের সচেতন ও ধর্মপ্রান নাগরিকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন স্থানে ভন্ড আবদুল মজিদের বিচারের দাবী জানান। কিন্তু প্রশাসনের কোন কর্মতৎপরাতা না থাকায় এখনো বহাল তবিয়াতে আবদুল মজিদ।
নাম প্রকাশে অনুচ্ছুক এক ব্যাক্তি যিনি পূর্বে প্রায় ১০ বছর মজিদ প্রফেসরের কলেমার জামাতের অনুসারী ছিলেন তিনি জানান,মজিদ প্রফেসর অনৈসালমিক,রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ড ছাড়াও তার দরবার শরীফে দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা আশ্রিত আছে। ২০১১ সালের নভেম্বর মাসে নরসিংদী পৌরসভার জনপ্রিয় মেয়র লোকমান হত্যার অন্যতম আসামি শরীফ কুলসুমবাগে আশ্রয় নেয়। এসময় তার কাছ থেকে মেয়র লোকমান হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র আবদুল মজিদের হাতে জমা দেয়। পরবর্তীতে আবদুল মজিদ ঐ অস্ত্র আরেক সন্ত্রাসীদের কাছে ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে। শুধু শরীফ নয় নরসিংদীর আরেক সন্ত্রাসী কাওসার ও মজিদের আস্তানায় দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলো। মজিদের এক শীষ্য বাগেরহাটের তরিক মজিদের দল ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে গেলে কাওসার তরিককে হত্যার চেষ্টা করে। বেধব মারধরের পর মৃত মনে করে তরিককে ফেলে রাখে।

এসময় মজিদ প্রফেসরের সমর্থক কুলসুমবাগ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান মিঠুর কাছে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, মজিদ প্রফেসরের বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ তা ভিত্তিহীন। কিছু লোক ব্যক্তিগত শত্রুতা থাকার কারনে তার বিরুদ্ধে এই সমস্ত অভিযোগ করছে। তিনি আরো বলেন, মজিদ প্রফেসরের বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ রয়েছে,সরকার তার তদন্ত করে সত্যতা প্রমান পেলে তার বিরুদ্ধে যথাপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহন করুক। আর যদি প্রমান না পায় তাহলে তার কার্যক্রম স্বাভাবিক ভাবে চলার নিশ্চয়তা প্রদান এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগ কারীদের বিচারের আওতায় আনুক।