হারিয়ে যাচ্ছে ভেষজগুণ সম্পন্ন আকন্দ পাতা

প্রকাশিত: ২:৪৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০১৮ | আপডেট: ২:৪৫:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০১৮

গ্রাম বাংলার মেঠো পথে পা বাড়ালেই এক সময়ে রাস্তার দু’পাশে দেখা যেতো সারি সারি আকন্দ গাছ। এটিকে মূলতো কেউ চাষ করতো না। প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নিয়ে বড় হতো। মেঠো পথের পাশের বাড়ি অথবা সবজি ক্ষেতে বেড়া দেয়া কাজে ব্যবহৃত হতো এ আকন্দ গাছ। বয়স্কদের বাত ব্যাথা দেখা দিলে সরিষা তৈল গরম করে আকন্দ পাতা ছিড়ে আগুনে হাল্কা ছেকা দিয়ে হাড় জোড়ার ব্যথার স্থানে মালিশ (পালিশ) করলে উপশম হতো। কিছুক্ষনের মধ্যেই বাত ব্যথা কমে যেতো। এছাড়াও গাছ-গাছালির পাতাকে আমরা অনেকেই অবহেলা করি। কিন্তু এইসব গাছ-গাছালি আমাদের অনেক রকম উপকার করে থাকে। এমনই একটি রোগ হাঁপানি রোগ যে রোগে ওষুধের থেকে আকন্দ পাতা বেশি কার্যকরী। গ্রাম-বাংলার মানুষ হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আকন্দ পাতা ব্যবহার করে।
আয়ুর্বেদার্য শিবকালি ভট্ট্রাচাযের মতে, ১৪টি আকন্দ ফুলের মাঝখানে চৌকো অংশটি নিতে হবে। তারসঙ্গে ২১টি গুল মরিচ দিয়ে একসঙ্গে বেটে ২১টি বড়ি বানাতে হবে। প্রতিদিন সকালে জল দিয়ে ১টি বড়ি খেলে হাঁপানি রোগের উপশম হয়। এই ওষুধ খাওয়ার সময় পথ্য হিসেবে শুধু দুধ ভাত খেতে হয়। এতে শ্বাসকষ্ট কেটে যায়। আকন্দ গাছের মূলের ছাল শুকিয়ে চূর্ণ করে আকন্দের আঠা দিয়ে মুড়িয়ে বিড়ির মতো করে বানিয়ে সেটি ধরিয়ে ধোয়া টানলে হাঁপানি লাঘব হয়। হাঁপানি ছাড়াও আকন্দ পাতা ওষুধ হিসেবে ব্রণ ফাটাতে সাহায্য করে। আকন্দ পাতা দিয়ে ব্রণ চেপে বেঁধে রাখলে ব্রণ ফেটে যায়। বিছে কামড়ালে জ্বালা-পোড়া কমাতে আকন্দ পাতা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। শরীরের কোনো স্থানে দূষিত ক্ষত হলে সেই স্থানটিতে আকন্দ পাতা সেদ্ধ জল দিয়ে ধুয়ে দিতে হয়। এতে পুঁজ হয় না। বুকে সর্দি বসে গেলে ভালো করে পুরনো ঘি বুকে ডলতে হয়। ঘি মাখানো বুকে আকন্দের পাতা গরম করে ছেক দিলে সর্দি ভালো হয়। খোস-পাচড়া বা একজিমার ক্ষেত্রে আকন্দের আঠার সঙ্গে চার গুণ সরিষার তেল মিশিয়ে গরম করতে হয়। এই গরম তেলের সঙ্গে কাঁচা হলুদের রস মিশিয়ে খোস পাচড়ায় মাখলে তা ভালো হয়ে যায়। পা মোচকে গেলে প্রচন্ড ব্যথায় এই আকন্দ পাতা দিয়ে গরম ছেকা দিলে ব্যথা উপশম হয়।
ঝালকাঠি জেলায় আকন্দ গাছের কোন পরিসংখ্যান নেই বন বিভাগ এবং সদর হাসপাতালের ইউনানী বিভাগে। সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার (ইউনানী) ডা. এনিরুল ইসলাম ও স্থানীয় কবিরাজদের সাথে কথা বলে আকন্দ পাতার এসব গুণাগুণ জানাগেছে।