দুর্গাপূজা কেন্দ্র করে বন্ধুকে খুনের দৃশ্যটি আঁধারেই দাঁড়িয়ে দেখলো কিশোরী

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১২:৫০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০১৮ | আপডেট: ১২:৫০:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০১৮

আসন্ন দুর্গাপূজায় নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে আগের রাতে বিশু কুমার ধরকে ছুরিকাঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে বন্ধু শিমুল ধর ওরফে বাবু (৩০)। বিশুকে খুনের পর ঘটনাকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করতে শিমুল মোবাইল ফোনে কল করে তার বন্ধু রাজিবকে। ওই সময় রাজিবকে শিমুল জানায়, দুর্বৃত্তরা বিশু ও শিশুলের উপর হামলা করেছে। দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে ঘটনাস্থলে বিশু মারা গেছে।

তবে কোনোভাবে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেছে শিমুল। এরপর বন্ধু রাজিব শিমুলের শিখানো বুলিটি হুবহু শোনাতে থাকেন তাদের অপর সব বন্ধুদেরকে। কিন্তু রাত নয়টার দিকে যখন খুন করা হচ্ছিল, ঠিক তার অদূরে আঁধারে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক কিশোরী। তার চোখে আটকে যায় খুনের পুরো দৃশ্য।

আর সেই কিশোরীর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতেই পুলিশের কব্জায় আসে শিমুল। পরে পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে মন্দিরে দূর্গাপুজার নেতৃত্বদানকে কেন্দ্রকরে বিশুকে পরিকল্পিতভাবে খুন করার কথা স্বীকার করে শিমুল।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম শুক্রবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন খবরই জানালেন উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদেরকে।

তখন সেখানে বিশুর খুনি শিমুলকেও হাজির করা হয়। প্রদর্শন করা হয় খুনের কাজে ব্যবহৃত রক্তমাখা সেই ছুরি ও খুনের সময় শিমুলের পরনে থাকা জামা-কাপর। যেগুলোতে বিশুর রক্তের ছিটা লেগে আছে।

নগর পুলিশের কর্মকর্তা আমেনা বেগম আরো বলেন, পাহাড়তলী পূজা উদযাপন কমিটির অর্থ সম্পাদক ছিলেন বিশু কুমার ধর। এ পদটি চেয়েছিলেন বন্ধু শিশুল। তবে বিশু পেয়ে যাওয়ায় বিশুর সঙ্গে দ্বন্দ্ব শুরু হয় শিমুলের। শেষ পর্যন্ত এই পদ থেকে সরিয়ে দিতে পরিকল্পিতভাবে বিশুকে খুন করে শিমুল।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সিএমপির পাহাড়তলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল্লা আল হারুন বলেন, বিশু খুন হওয়ার পর শিমুল তার বন্ধু রাজিবকে মোবাইলে কল করে জানায় বাইন্যপাড়া শিব মন্দির বাই লেইনের পাশে বিশু ও তার উপর দুর্বৃত্তরা হামলা করেছে। দুর্বৃত্তের কবল থেকে শিমুল পালিয়ে বাঁচতে পারলেও বিশু তাদের ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারিয়েছে।

আবদুল্লা আল হারুন আরো বলেন, কিন্তু ঘটনাস্থলের অদূরে আঁধারে দাঁড়িয়ে থাকা এক কিশোরীর চোখে যে ওই খুনের দৃশ্যটি বন্দি হয়ে যায় তা সে টের পায়নি।

গ্রেফতারের পর শিমুল প্রথমে খুনের ঘটনা নিজেযে ঘটিয়েছে তা অস্বীকার করে। পরে ঠিকই স্বীকার করে পাহাড়তলী পূজা উদযাপন কমিটির অর্থ সম্পাদক পদটি নিজের করে নিতে এমনটা করেছেন। সেসময় যদি ওই কিশোরী না দেখতো তা হলে ঘটনার ভিন্ন রূপ দাঁড়িয়ে যেত।

এ ঘটনায় শিমুলকে এক মাত্র আসামি করে সিএমপির পাহাড়তলী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

এর আগে বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ৯টায় পাহাড়তলীর বাইন্যাপাড়া শিব মন্দির বাই লেইনের পাশে রাস্তার উপর থেকে বিশু কুমারের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

শিমুল পাহাড়তলীর দক্ষিণ কাট্টলীর বণিক পাড়ার ভগবান ধরের বাড়ির মৃত গোপাল কৃষ্ণ ধরের পুত্র। ঘটনার পর রাতে খুলশী থানার চক্ষু হাসপাতালের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।