মঠবাড়িয়ায় এক মন্ডপে ১৫৭ প্রতীমার দূর্গা পূজা

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৮:৪৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০১৮ | আপডেট: ৮:৪৫:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০১৮

মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি ঃ

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় রাজ মন্দির নামে এক পূজা মন্ডপে এবার ১৫৭ প্রতীমার দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলার গুলিসাখালী ইউনিয়নের কবুতরখালী গ্রামের হালদার বাড়িতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে সর্বাধিক প্রতিমার সমন্বয়ে এ দূর্গা পূজার আয়োজন ইতিমধ্যে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। উপকূলীয় বরিশাল অঞ্চলে সর্ববৃহৎ পূজার আয়োজন করা হয়েছে হালদার বাড়িতে এমনটাই দাবী করেছেন আয়োজকরা। আগামী ১৫ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে দূর্গা পূজা শুরু। চলবে টানা পাঁচদিন। পুজা উপলক্ষে রয়েছে মেলার আয়োজন।

 

প্রায় এক একর জমি জুড়ে স্থাপন করা হয়েছে ১৫৭টি প্রতিমা। চার হাজার বছরের পুরানো পৌরাণিক কাহিনীকে তুলে ধরা হয়েছে এ মন্ডপে দেব-দেবীর মূর্তিতে। শেষ মুহুর্তে চলছে প্রতীমার গায়ে রং তুলির শেষ আঁচর। প্রতিবছরই মন্ডপে প্রতিমার সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে সেই সাথে দুর্গোৎসবে ব্যতিক্রমী পূজামন্ডপ তৈরি করে থাকে।

 

মঠবাড়িয়া উপজেলা সদর হতে প্রায় চার কিলোমিটার দুরে কবুতরখালী গ্রামের হালদার বাড়ির রাজদীপ মন্দির সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পূজার বিশাল প্যান্ডেল জুড়ে বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। কয়েকটি সারিতে মূল প্যান্ডেলের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে প্রতীমা। প্রতীমার কারিগরগণ তাঁদের হাতের নিপুণ ছোঁয়া আর রং-তুলিতে অপরূপ সাজে প্রতিমা সাজাতে এখন মহা ব্যস্ত সময় পার করছেন। রংতুলির সাজসজ্জার কাজের পাশাপাশি অলংকার পরানো হয়েছে এসব প্রতিমার গায়ে। নানা বর্ণে বর্ণিল হয়ে উৎসবের আমেজ শুরু হয়েছে এলাকা জুৃড়ে। প্রতিদিন দুরদুরান্ত থেকে এখন থেকেই মানুষ প্রতীমা দর্শনে ছুটে আসছেন।

 

পূজার আগেই এই মন্দিরের প্রতিমা দেখতে আসা দর্শণার্থী গোপাল তালুকদার জানান, অসম্ভব সুন্দর কারুকাজ এখানকার প্রতিমার। এর আগে এতো বড় আয়োজন বরিশাল অঞ্চলের কেউ দেখেনি।

 

মন্ডপের প্রতিমার কারিগর খুলনা কয়রা উপজেলার শংকর পাল জানান, গত ৪০ বছর ধরে বংশানুক্রমে প্রতীমা নির্মাণ করে আসছি। ১০জন সহকারীকে সঙ্গে নিয়ে দুই মাসের টানা পরিশ্রমে দেব-দেবীর ১৫৭টি প্রতিমা তৈরি করেছি। এসব প্রতিমা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করবে বলে আমার বিশ্বাস।

 

হালদার বাড়ির দুর্গাপুজা উদ্যাপনের প্রধান আয়োজক অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্রী শৈলেশ্বর হালদার বলেন, সাধ্যমতো আকর্ষণীয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আড়ম্বরতার দিক থেকে বর্তমানে এটি এ অঞ্চলে বৃহৎ দুর্গা মন্ডপে রূপ নিয়েছে। এলাকার লোক এভাবে ধর্মীয় সংস্কৃতি উপভোগ করার সুযোগ কম পান। আমরা সে অভাব পূরণের চেষ্টা করছি। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে নারী-পুরুষসহ সকল মানুষের দেখা মিলবে এ মন্ডপে এমনটাই তিনি আশা করছেন।

 

মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম সরোয়ায়ার জানান, দুর্গোৎসব চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতিমধ্যেই কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। উপজেলার সব পূজামন্ডপে পুলিশ, আনসার, গ্রাম পুলিশ এবং কমিউনিটি পুলিশের সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন।