আ.লীগের প্রচারণায় উন্নয়ন বিএনপির গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার

একাদশ জাতীয় নির্বাচন

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০১৮ | আপডেট: ৯:৫৫:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০১৮
আ.লীগের প্রচারণায় উন্নয়ন বিএনপির গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুদলই সরগরম হয়ে উঠেছে ভোটের মাঠে। আওয়ামী লীগ ট্রামকার্ড হিসেবে সামনে রাখছেন গত দশ বছরের ব্যাপক উন্নয়ন। অন্যদিকে বিএনপি ট্রামকার্ড হিসেবে সামনে রাখছেন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার। আওয়ামী লীগ মনে করে গত দশ বছরে তারা যে উন্নয়ন করেছে দেশের জনগণ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগকে আবারো ভোট দেবে। অন্যদিকে বিএনপি মনে করে গত দশ বছরে আওয়ামী লীগ মানুষের ওপর যে অত্যাচার, অন্যায় এবং মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে মানুষ আওয়ামী লীগকে আর চায় না। বিএনপি মনে করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে জনগণ এবার ভোটের মাধ্যমে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনবে।

 

 

এছাড়াও দলটির প্রধান জেলে থাকায় ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও দলটির প্রধান কয়েক নেতার যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদণ্ড হওয়ায় দলটি উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে। তবে দলটি মনে করছে মানুষের যখন ক্ষমতা শেষ হয়ে আসে তখন সে মাতাল হয়ে যায়। আওয়ামী লীগও ক্ষমতা হারানোর ভয়ে বিএনপি তথা বিরোধী নেতাদের ওপর চড়াও হয়েছে। এ পাগলামির শেষ হবে। দেশের মানুষ এবার ভোট দিয়ে বিএনপিকে জয়যুক্ত করবে বলে তারা আশাবাদী। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ মনে করে বিএনপি দেশে যে অপকর্ম করেছে জনগণ তা দেখেছে। আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে তারা দেশ এবং জনগণের ভালো চায় না। তারা দুর্নীতি, হত্যা, বিশৃঙ্খলার বাবারে কিছু বোঝে না। দেশের মানুষের উন্নয়ন দরকার। সুতরাং আওয়ামী লীগ গত দশ বছরে যে উন্নয়ন করেছে এ ধারা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগকে আবারো ক্ষমতায় আনবে বলে দলটির একাধিক নেতা আমার সংবাদকে জানান। একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই ঢাকাসহ সারাদেশেই নিজের ভোটের পাল্লা ভারি করতে বাংলাদেশের দুটি প্রধান বড় দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলো মাঠে ময়দানে পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের প্রধান দুটি দলের জন্যই আগামী নির্বাচন খুব গুরুত্বপূর্ণ।

 

 

 

প্রধান দুটি দলই প্রার্থী বাছাইয়ে নিচ্ছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। দুটি দলই ক্লিন ইমেজের নেতা খুঁজছে। ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে এবার অনেক মন্ত্রীও মনোনয়ন পাবে না। গত দশ বছরে যারা ভালো কাজ করেছে তাদেরই মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যাদের মাধ্যমে দলের ইমেজ নষ্ট হয়েছে তারা এবার মনোনয়ন পাবে না বলে দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত। অন্যদিকে দলটির প্রধান নেতা জেলে থাকায় ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশের বাইরে থাকায় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে বেকায়দায় রয়েছে দলটি। অন্যদিকে শরিকদলের চাপ দিন দিন বাড়ছে। শরিকরাও চায় তাদের চাহিদামতো আসন। সব মিলিয়ে দলটি এখন চরম চাপের মুখে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন দলটির নেতারা। গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনতে বিএনপিকে ক্ষমতায় আসার দরকার বলে মনের করেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ। দলটি গত বুধবারে আদলতের রায়ের মাধ্যমে মানষিকভাবে অনেকটা ভেঙে পড়েছে। তবে এর মধ্য দিয়েই দলীয় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আগামী সপ্তাহে দলটির পক্ষ থেকে বড় ধরনের কর্মসূচি আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

 

বিএনপি নেত্রীর মুক্তি ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সকল নেতা-কর্মীদের মামলা প্রত্যাহারসহ ৭ দফা দাবির সাথে এবার যুক্ত হয়েছে নতুন রায়ের সাথে আইনি লড়াই। অন্যদিক ভোটের মাঠে জানান দিতে আন্দোলন-সংগ্রাম ও সভা সমাবেশ করার দরকার বলে মনে করেন অধিকাংশ নেতা। আওয়ামী লীগ ভোটারদের বোঝাতে চেষ্টা করছে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগকে আবারো ক্ষমতায় আসা দরকার। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ের দুর্নীতির চিত্র তোলে ধরছেন ভোটারদের সামনে। অন্যদিকে বিএনপি তুলে ধরছেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও দেশে গণতন্ত্রের অভাব। আদালতে প্রদান করা কয়েকটি রায়কে তারা বিতর্কিত বলে প্রচার করছেন সাধারণ মানুষের কাছে। দেশের মানুষ আজ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশের শত শত কোটি টাকা লোপাট হচ্ছে। ভোটারদের কাছে আওয়ামী লীগ সরকারে স্বেচ্ছাচারিতার কথা তুলে ধরছেন তারা। গণতান্ত্রিক সরকার স্থাপনে তারা জনগণের মন জয় করার চেষ্টা করছেন। এছাড়াও ছোট বড় মিলে প্রায় একশরও উপরে দল রয়েছে এদেশে। যারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বড় দলের সাথে পাল্লা দিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে ইসলামি ঘরানার দলগুলো।

 

 

পিছিয়ে নেই বামদলগুলো। সব মিলিয়ে এখন সব জায়গায় চলছে রাজনৈতিক আলাপ আলোচনা। হিসাব-নিকাশ হচ্ছে কে পাচ্ছে দলীয় মনোনয়ন। কাকে মনোনয়ন দিলে পাশ করার সম্ভাবনা রয়েছে এমনটি নিয়ে ভাবছেন নিজ দলের নেতারা। অন্যদিকে দলের অন্ধ ভক্তরা ভাবছেন নির্বাচনে নিজের দলের প্রার্থী অবশ্যই পাস করবেন। সাধারণ মানুষের সাথে তাল মিলিয়ে একই সুরে কথা বলছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি আমার সংবাদকে বলেন, দেশের মানুষ একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি তথা বিশ দলীয় জোট পাস করবে বলে তিনি আশাবাদী। দেশের আদালত যে রায় দিয়েছে তা দেশের মানুষ দেখেছে। আইনিভাবে লড়ার সাথে সাথে দেশের মানুষ এবার ব্যালটের মাধ্যমে এর জবাব দিবেন বলে মনে করেন বিএনপি নেতারা। আগামী দিনে আন্দোলন সংগ্রামের ইঙ্গিত দিয়ে এই নেতা বলেন, আমরা দাবি আদায়ের লক্ষে যে সিদ্ধান্ত নেয়ার দরকার তাই নেব। সিদ্ধান্ত কি হবে তা পরে জানানো হবে জানান এই নেতা। তবে নির্বাচনি কার্যক্রম নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

 

 

বিএনপি মনে করেন দেশে এখন সুষ্ঠু নির্বাচন হলে অবশ্যই তারা বিপুল ভোটে পাস করবেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করেন গত দশ বছরে আওয়ামী লীগ যে উন্নয়ন করেছে জনগণ এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগের বিকল্প কিছু ভাবছে না। এব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামিম আমার সংবাদকে বলেন, বিএনপির একের পর এক যে অপকর্ম প্রকাশ পাচ্ছে তা জনগণের কাছে এখন পরিষ্কার। যে দলের সর্বোচ্চ নেতারা আদালত থেকে যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদ- পায় জনগণ তাদের কেন ভোট দেবে? দেশের মানুষের প্রতি আস্থা হারিয়ে তারা এখন বিদেশিদের কাছে ধরনা দিচ্ছে। আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, বিএনপি যাই বলুক, দেশে সংবিধান মেনে শেখ হাসিনা সরকারের অধিনেই নির্বাচন হবে এবং সে নির্বাচনে আওয়ামী লীগই পাস করবে। বিএনপিনেতা খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল বলেন, সরকার প্রতিহিংসামূলক আচরণ করছে আমাদের সাথে। আমরা আমাদের দাবি যৌক্তিক না অযৌক্তিক সেটা আন্দোলনের মাধ্যমে প্রমাণ করব। দেশে রাজনৈতিক দল একশরও ওপর, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৪০টি যারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। এর বাইরে নাম শোনা এক দলের এক নেতা সম্বলিত দলের সংখ্যা অগুনতি। যা গণতন্ত্রের জন্য সুন্দর বার্তা। আর বহুদল বাঙালির জন্য শুভ পরিবর্তন অবশ্যই কাম্য, তবে বিএনপিকে এই প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে কোনোভাবেই বাংলাদেশে শুভ পরিবর্তন সম্ভব নয় বলে দাবি করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে কেউ কেউ মনে করেন, আওয়ামী লীগের ব্যর্থতা আছে, অস্বীকার করার উপায় নেই, তবে সফলতার পাল্লা তার চেয়ে ভারি।

 

 

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, নৌকাকে বিজয় করার জন্য তারা কাজ করে যাচ্ছে। নেত্রী যাকে ভোট দিবে তারা তার সাথেই কাজ করবেন। নেতারা বলেন, গণসংযোগ ও সমাবেশ করে সাধারণ মানুষের মাঝে নৌকার প্রতি যে ভালোবাসা লক্ষ্য করেছি, তার উপর ভিত্তি করে বলতে পারি আগামী নির্বাচনে সাধারণ মানুষ নৌকাকে ভোট দিবে। এবং নৌকার বিজয় কোনো শক্তিই ঠেকাতে পারবে না। বাংলাদেশের ১৮ কোটির অধিক জনগণকে নিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে। মোট ভোটের হিসাব নিয়ে নিশ্চয় নির্বাচনি জোট করেছেন। বর্তমানে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ৭০ শতাংশ ভোট নিয়ন্ত্রণ করে। জাতীয় পার্টি এবং জামায়াত নিয়ন্ত্রণ করে ১০ শতাংশ ভোট। বাকি ২০ শতাংশ ভাসমান ভোট যারা নির্ধারণ করে দেয় সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত। যুক্তফ্রন্ট বা জাতীয় ঐক্য আসলে কাদের নিয়ে, কি জন্য। তাদের যে দাবি দাওয়াগুলো আছে, বিএনপি জামায়াতও প্রায় সেই একই দাবি করছে। তাহলে নতুন জোটের প্রয়োজনীয়তা কী? এনিয়ে রয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। জাতীয় ঐক্য নিয়ে বিএনপি নতুন সমস্যায় জড়াচ্ছে। তাদের দাবি অনুযায়ী তারা ১ থেকে দেড়শ আসন চায়। যা দিলে বিএনপির আর কিছুই থাকে না। বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. এমাজ উদ্দিন আহমেদ মনে করেন, নির্বাচনমুখি দল ভোটের জন্য কাজ করবে এটাই স্বাভাবিক। তবে নির্বাচনে কোনো দল নির্বিঘেœ নির্বাচনি প্রচারণা করবে আর কোনো দল মামলা হামলায় থাকবে সেটা হয় না। তিনি বলেন, বর্তমানে বিএনপি নেতৃবৃন্দের নামে প্রায় ৮০ হাজার মামলা রয়েছে যে মামলাগুলোতে প্রায় ২০ লাখ আসামি রয়েছে। এ মুহূর্তে তারা দলীয় সরকারের অধিনে নির্বাচন করতে চাচ্ছে তাদের উদেশ্য ভালো না। তারা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো একটি নির্বাচন করে আবারও ক্ষমতায় আসার পাঁয়তারা করছেন বলে মনে করেন এই শিক্ষাবিদ।

 

 

গত বুধবারের রায় ওই নিল নকশারই একটা অংশ বলে মনে করেন তিনি। সাধ্যমতে ভোটারদের মন জয় করতে নিজস্ব গতিতে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন সব দলের নেতারা। খোঁজখবর নিচ্ছেন সাধারণ মানুষের। বিপদে পাশেও দাঁড়াচ্ছেন তাদের। এমনকি নিজস্ব অর্থায়নে রাস্তাঘাট করে দেয়াসহ সামাজিক কার্যক্রমে নিজেকে বিলিন করে দিচ্ছেন। দুদলই আগামী নির্বাচনে পাস করার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন কৌশলে। আওয়ামী লীগ মনে করেন দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে আনন্দের সাথে। অন্যদিকে বিএনপির মাঝে নির্বাচন নিয়ে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। তারা মনে করে তাদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই বিএনপির ওপর হামলা মামলাসহ প্রতিহিংসামূলক রায় দেয়া হচ্ছে। নির্বাচনের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ কামনা করেন তারা।