খালেদার নতুন ঠিকানা ডিলাক্স কেবিন ৬১২

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৭:৪৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৬, ২০১৮ | আপডেট: ৭:৪৮:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৬, ২০১৮
খালেদার নতুন ঠিকানা ডিলাক্স কেবিন ৬১২

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দোষের সাজা মাথায় নিয়ে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন সড়কে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দী হিসেবে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। পরিত্যক্ত এই কারাগারে একমাত্র বন্দী হিসেবে রয়েছেন ৭৩ বছর বয়সী সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী। কারাগারে নেয়ার পরপরই তার অসুস্থতার কথা জানিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবি উঠলেও সরকারের পক্ষ থেকে বিএসএমএমইউতে নেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। তবে বিএনপি যেমন এই প্রস্তাবে রাজি হচ্ছিল না, তেমনি খালেদা জিয়াও সেখানে যেতে অসম্মতি দেখিয়েছিলেন। অবশেষে হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী আজ শনিবার বিকেলে তাকে নেয়া হয়েছে বিএসএমএমইউতে। হাসপাতালের ডিলাক্স কেবিন-৬১২ এখন তার নতুন ঠিকানা।

 

সূত্রে জানা যায়, কারাবিধি অনুসারে খালেদা জিয়ার জন্য ‘ডিলাক্স কেবিন’ ইস্যু করা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া ৬১২ নম্বর কেবিনে থাকলেও তার জন্য পাশের ৬১১ নম্বর কেবিনটিও বরাদ্দ করা হয়েছে। ওই কক্ষে তার সহকারী বা কারা নিরাপত্তারক্ষীরা থাকতে পারবেন। এর আগে চলতি বছরের ৭ এপ্রিল বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য কারাগার থেকে বিএসএমএমইউতে নেয়া হয়েছিল। ওই সময় তাকে ৫১২ নম্বর কেবিনে রাখা হয়। তার ছয়মাস পর আজ তাকে আবারো চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউতে নেয়া হচ্ছে।

 

বিএসএমএমইউ সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের কেবিন ব্লকের ছয়তলার ৬১২ নম্বর কেবিনটি ডিলাক্স কেবিন হিসেবে পরিচিত। এসির ব্যবস্থা থাকা কেবিনটির ভেতরে দুটি খাট, টিভি ও অ্যাটাচড বাথরুম রয়েছে। রুমের পাশেই রয়েছে সোফাসেট। এছাড়া রুমের ভেতরে কলিং বেল রয়েছে যাতে করে রোগী প্রয়োজন হলে নার্স বা অন্য কাউকে ডাকতে পারবেন।

 

সূত্র আরো জানায়, বিকালে খালেদাকে আনার আগেই দুপুরে তার ব্যবহার্য জিনিসপত্র আনা হয় হাসপাতালে । খালেদা জিয়াকে হাসাপাতালে আনা হচ্ছে সংবাদ পেয়ে পর ৬১১ ও ৬১২ কেবিনটি ধুয়ে মুছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

গত বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দ্রুত ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি এবং তার চিকিৎসায় পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

 

বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের বেঞ্চ খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড পুনর্গঠনের নির্দেশও দেয়। খালেদার চিকিৎসায় গত সেপ্টেম্বরে সরকার যে মেডিকেল গঠন করে দিয়েছিল, তার তিন সদস্যকে বাদ দিয়ে নতুন তিনজনকে সেখানে দায়িত্ব দিতে বলেছেন আদালত।

 

হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী, বিএসএমএমইউর ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল জলিল চৌধুরী এবং ফিজিকাল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বদরুন্নেসা আহমেদ বোর্ডে থাকবেন। আর কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক হারিসুল হক, অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক আবু জাফর চৌধুরী এবং চক্ষু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তারেক রেজা আলীর বদলে নতুন তিনজনকে বোর্ডের সদস্য হিসেবে মনোনীত করে দেবে সরকার।

 

তবে এই তিনজনের কেউ কেন্দ্রীয় বা জেলা পর্যায়ে সরকারসমর্থক স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) বা বিএনপি সমর্থক ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) বর্তমান বা প্রাক্তন সদস্য কিংবা সমর্থক হতে পারবেন না।

 

আদেশে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়া তার পছন্দের ফিজিওথেরাপিস্ট, গাইনিকোলজিস্ট ও টেকনিশিয়ান নিতে পারবেন। বোর্ডের অনুমোদন সাপেক্ষে তিনি বাইরে থেকেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আনতে পারবেন।