মুক্তিযোদ্ধা কোটা পূর্ণ বহাল চাই রাজপথে নেমেছে নাতি- নাতনীরা

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৫:২৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৫, ২০১৮ | আপডেট: ৫:২৯:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৫, ২০১৮
মো.উমর ফারুক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
 ১ম ও ২য় শ্রেণী সরকারী চাকুরীতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পূর্ণবহালের দাবিতে আন্দোলন নেমেছে “বাংলাদেশ  মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম” সদস্যরা।এটি বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা নাতি-নাতনীদের প্রথম সংগঠন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়,বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের নাতি-নাতনীরা কোটা পূর্ণ বহালের দাবিতে আন্দোলন নেমেছে।
 জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় “বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম শাখা সভাপতি মাহফুজুর রহমান শাকিল বলেন,  সরকারী চাকুরীতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রেখে সন্তানদের পাশাপাশি নাতি- নাতনীদের সমান সুযোগ দিতে হবে। না হলে আমরা রাজপথ ছাড়বনা।  আমরা নাতিরা দাবি আদায়ের জন্য শুরু থেকে    আন্দোলন করে চলছি এবং সেটা অব্যহত থাকবে।
সংগঠনটির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ সম্পাদক মো.খালেদুজ্জামান বলেন,  সন্তানদের পাশাপাশি নাতি-নাতনী কোটার পূর্ণবহাল চাই। এজন্য রাজপথে নেমেছি। প্রধানমন্ত্রী  নাতি দের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কোটা সংস্কার আন্দোলন সময় কোন রাজাকার মুক্তিযোদ্ধা নাতি পরিচয়।দিয়ে  বলেছে নাতি কোটা চাই না। এজন্য আমরা একজনের কথার জন্য নাতিদের সুবিধা বাতিল হতে দেবনা। আমরা রাজপথে আছি এবং থাকবো।
সংগঠনটির রাবি শাখা সভাপতি মো.উমর ফারুক বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধা দের পুরষ্কার হিসেবে বঙ্গবন্ধু  কোটা প্রথা চালু করেন, ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত সে কোটা সঠিক বাস্তবায়ন হয়নি, মুক্তিযোদ্ধা সন্তানরা তাদের চাকুরী বয়স পার হয়ে গেছে, আবার অনেকে পড়াশোনা করেনি সে কথা বিবেচনা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্তানদের পপাশাপাশি নাতিদের জন্য কোটা চালু করেছেন। বর্তমানে রাজাকার বংশধরের উত্তরসূরীরা মেনে নিতে পারছে না। এজন্য কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু করেছিল। এজন্য সংসদে  প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিল করার ঘোষণা দেন। কোটা রাখা কিংবা সংস্কার করার জন্য একটি কমিটি দেয়া হয়েছিল,সে কমিটি কোটা বাতিলের সুপারিশ করে। সেটা গতকাল প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। আমরা এ সুপারিশ তীব্র নিন্দা জানাই। এজন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি, মুক্তিযোদ্ধা  সন্তানদের পাশাপাশি নাতিদের কোটা বহাল রাখতে হবে সেটা না হলে রাজপথ ছাড়ব না।
এ বিষয়ে “আমরা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড” কেন্দ্রীয় কমিটি কোষাধ্যক্ষ, আহমেদ রাছেল বলেছেন, কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন হওয়াতে আমরা খুবই কষ্ট পেয়েছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতি  আমরা আস্থশীল।তিনি মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও নাতিদের জন্য কোটা বহাল রাখবেন। দাবি আদায় না পর্যন্ত আমরা সারাদেশ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাবও।
 মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড রাবি সভাপতি তারিকুল হাসান বলেন,১ম ও ২য় শ্রেণীতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা সহ সকল কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন করেছে।আমরা এ প্রজ্ঞাপন মানিনা। সরকার কে কিছু উষ্কানীদাতা আমলারা এ কোটা বাতিলের পক্ষে পরামর্শ দিয়েছে। আমরা এ সুপারিশ মানি না। মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও নাতি -নাতনীদের জন্য মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনরায় ৩০%বহাল না হলে আন্দোলন চলবেই। অধিকার আদায় না করে আমরা রাজপথ ছাড়বো না।
আমাদের রক্ত কথা বলে, যদি রাজাকার প্রজন্মরা রাস্তা অবরোধ করে কোটা বাতিল করতে পারে। আমরা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও নাতিরা রাস্তা অবরোধ করে দেখিয়ে দিবে আমরাও পারি।
মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও প্রজন্মরা  দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরবে ইনশাআল্লাহ।
উল্লেখ্য, গত ১২ এপ্রিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে সরকারী চাকুরীতে কোন কোটা না রাখার ঘোষনা দেন।কোটা পদ্ধতি পর্যালোচনা জন্য মন্ত্রীপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে  একটি কমিটি  গঠন করা হয়।গত ১৭ সেপ্টেম্বর কোটা পর্যালোচনা কমিটি প্রধান মন্ত্রীপরিষদ সচিব ১ম ও ২য় শ্রেণীতে কোটা না রাখার সুপারিশ করেন।  এর প্রতিবাদে ঢাকা, রাজশাহী সহ সারা দেশে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও প্রজন্মরা আন্দোলন নামে। গত ৩ অক্টোবর মন্ত্রীপরিষদে কোটা বাতিলের সুপারিশ সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়।তার ফলশ্রুতিতে ৪ অক্টোবর কোটা বাতিল প্রজ্ঞাপণ জারি করা হয়। এর প্রতিবাদে সারা দেশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা পূর্নবহালের দাবিতে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও প্রজন্মরা আন্দোলনে নেমে পড়ে।