স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৫:১২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৪, ২০১৮ | আপডেট: ৫:১২:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৪, ২০১৮

শেরপুরে শ্রীবরদী উপজেলার স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে শাহজামাল নামে এক যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ভিকটিমকে প্রদানের আদেশ দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আসামির উপস্থিতিতে শেরপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আক্তারুজ্জামান এ রায় দেন। সাজাপ্রাপ্ত শাহজামাল ওরফে শাহ আলম সদর উপজেলার বাজিতখিলা ইউনিয়নের কুমরী তেঘরিয়া গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে।

মামলার অভিযোগ, ২০১১ সালের ২০ জুলাই সদর উপজেলায় বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার পথে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওই স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে শাহজামাল ওরফে শাহ আলম। এরপর নিজের মুদি দোকানে নিয়ে নেশাদ্রব্য খাইয়ে অচেতন করার পর ধর্ষণ করে। পরে ছাত্রীর মাথা ন্যাড়া করে ছেলেদের পোষাক পরিয়ে ঘটনার তিন দিন পর ছাত্রীটির বাড়ির পাশে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে আসে। এ ঘটনায় তোলপাড় শুরু হলে পুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা গ্রহণ করে ধর্ষক শাহআলমকে গ্রেফতার করে। কিন্তু পরবর্তীতে স্থানীয় প্রভাবশালীদের যোগসাজসে অপহরণ ও ধর্ষণ ঘটনাটিকে ধাপাচাপা দিতে ভুয়া সাক্ষ্য বানিয়ে তদন্তকারি পুলিশ কর্মকর্তারা আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। পরে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, শেরপুর জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ বাদী পক্ষের পাশে আইনগত সহায়তায় এগিয়ে এলে পুলিশের প্রতিবেদনে বিপক্ষে আদালতে নারাজি দেয়া হয়। একপর্যায়ে আদালতের নির্দেশে পুনঃতদন্তের পর পুলিশ শাহ আলমকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ৮ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার শাহআলমকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়া বুলু রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, নারীর ওপর পাশবিক নির্যাতনের ঘটনাটি পুলিশের অবহেলায় বিচার বঞ্চিত হতে চলেছিলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সত্যের জয় হয়েছ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, রায়ের বিপক্ষে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।