চৌগাছা ঝিকরগাছায় মনোনয়ন পাওয়ার আ’লীগেয় গাড্ডাহাড্ডি লড়াই !

প্রকাশিত: ৪:৩২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৮ | আপডেট: ৪:৩২:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৮

চৌগাছা ও ঝিকরগাছা উপজেলা নিয়ে যশোর-২ নির্বাচনী এলাকা।
এই আসন নিয়ে চলছে আ’লীগেয় ভীতর চরম দন্দ।স্বাধীনতার পর থেকে এই আসন থেকে এখনও পর্যন্ত কোন দলের এমপি হতে পারি নি চৌগাছা উপজেলায়।এ জন্য সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শুশিল সমাজ সবাই চাচ্ছে চৌগাছা থেকে এমপি নির্বাচন করতে।

দীর্ঘদিন ধরে এ আসনে আওয়ামী লীগের সাথে জামায়াতের লড়াই হয়ে আসছে। কখনও আওয়ামী লীগের, আবার কখনও জামায়াতের প্রার্থী জিতেছেন। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তেমনটি হতে পারে বলে দু’উপজেলার ভোটাররা বলছেন। এটি শেষ পর্যন্ত মহাজোট-২০ দলীয় জোটের লড়াইয়েও রূপ নিতে পারে বলেও অনেকে মনে করছেন।
তবে, তার আগেই মনোনয়ন পাওয়ার লড়াই শুরু করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। এ লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি যোদ্ধা ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগে। আওয়ামী লীগ থেকে নয়জনের নাম শোনা যাচ্ছে। বিএনপি থেকেও কম না। এক সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা বিএনপির টিকিট পেতে লড়াই শুরু করেছেন পাঁচজন।

এর বাইরে জামায়াত থেকে একজন এবং জাতীয় পার্টির দুইজন রয়েছেন।চৌগাছা-ঝিকরগাছা উপজেলা ভারত সীমান্তে অবস্থিত।১৯৭১ সালে মিএ বাহিনি  ভারতীয় সৈন্য এই অঞ্চল দিয়ে প্রবেশ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এই এলাকে স্বাধীনতার প্রবেশদ্বার বলা হয়। ১৯৭৭সালে দুইটি উপজেলা নিয়ে গঠিত হয় যশোর- ২ আসন।এই আসনে যারা প্রতিদন্দিতা করবেন তারা হলেন আওয়ামীলীগ থেকে চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্দা এস এম হাবিবুর রহমান,আওয়ামী লীগের নির্বাহি কমিটির সদস্য এ্যাড.এবি এম আহসানুল হক,বীর মুুুুক্তিযুদ্ধা ডা. মেজর     জেনারেল (অব:) নাসির উদ্দিন, বর্তমান সংসদ সদস্য আ্যড. মনিরুল ইসলাম মনির,সাবেক খনিজ সম্পদ প্রতিমন্রী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম,যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা আনোয়ার হোসেন,বিএন পির যুগ্ন সম্পাদক মিজানুর রহমান খঁঁান,চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহুরুল ইসলাম,ঝিকরগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান সাবিরা নাজমুল, জাতীয় পার্টির জনাব নূরুল কদর ও সেলিম রেজা।আর জামায়াত প্রার্থি মুহাদ্দিস আবু সাইদ।চৌগাছা উপজেলায় ১১ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। ইউনিয়নগুলো হচ্ছে, ফুলসারা, পাশাপোল, সিংহঝুলী, ধুলিয়ানী, চৌগাছা, জগদীশপুর, পাতিবিলা, হাকিমপুর, স্বরুপদাহ, নারায়ণপুর ও সুখপুকুরিয়া। এর বাইরে রয়েছে চৌগাছা পৌরসভা। এ উপজেলায় গ্রাম রয়েছে রয়েছে ১শ’৬৮ টি। মোট জনসংখ্যা ২ লাখ ৩১ হাজার ৩শ’ ৭০ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১ লাখ ১৫ হাজার ৯শ’ ৭ জন এবং মহিলা ১ লাখ ১৫ হাজার ৪শ’ ৬৩ জন। চৌগাছা উপজেলায় ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৩৪ হাজার ৭শ’ ৪৪ জন। এরমধ্যে পুরুষ ৬৬ হাজার ৫শ’ ১৩ জন ও মহিলা ভোটার ৬৮ হাজার ২শ’ ৩১ জন।

এ দিকে ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা গঠিত। ইউনিয়নগুলো হচ্ছে, গঙ্গানন্দপুর, মাগুরা, শিমুলিয়া, গদখালি, পানিসারা, ঝিকরগাছা, নাভারণ, নির্বাসখোলা, হাজিরবাগ, শংকরপুর ও বাঁকড়া। তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, এই উপজেলায় গ্রাম রয়েছে  ১শ’৭৮টি। জনসংখ্যা ২ লাখ ৯৮ হাজার ৯শ’৮জন। এরমধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৪৭ হাজার ১শ’ ২৭ জন এবং মহিলা ১ লাখ ৫১ হাজার ৭শ’ ৮১জন। ভোটারদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলছে কোন দল থেকে কে মনোনয়ন পেতে পারেন। কার সাথে কার লড়াই হতে পারে। সেই লড়াইয়ে বিজয়ের মালা কে পরতে পারেন ইত্যাদি। তবে, ভোটারদের এসব জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। কারণ রাজনৈতিক দলগুলো এখনও স্ব স্ব প্রার্থী বাছাইয়ের উদ্যোগ নেয়নি। সেটি করতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে বলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন।