ঘরের মধ্যে রক্তমাখা ছুরি-নূপুর, নিখোঁজ স্কুলছাত্রী

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১০:২৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৮ | আপডেট: ১০:২৯:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৮

ঘরের মধ্যে রক্তমাখা ছুরির পাশে নূপুরটাও পড়ে আছে, নেই শুধু মরিয়ম। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের পূর্ব আলীপুর গ্রামে নবম শ্রেণির ছাত্রী মরিয়মকে খুনের পর মরদেহ গুম করা হয়েছে বলে অভিযাগ উঠেছে।

মরিয়মের শোবার ঘর থেকে পুলিশ রক্তমাখা দুটি ছুরি, রশি, তার ব্যবহৃত পায়ের নূপুরসহ দুই টুকরো কাটা মাংস উদ্ধার করেছে। ঘরের মেঝে রক্তে লাল হয়ে আছে। কিন্তু ওই ছাত্রীর কোন হদিস মেলেনি।

ঘটনাটি বুধবার ভোরে টের পায় মরিয়মের পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, ধর্ষণ শেষে নৃশংসভাবে মরিয়মকে হত্যা করে মরদহ গুম করা হয়েছে।

নিখোঁজ মরিয়মের বাড়ি

মরিয়মের পারিবারের সদস্যরা জানান, মঙ্গলবার রাতের খাবার খেয়ে মৃত জেলে বাবুল মল্লিকের স্ত্রী নুরজাহান বেগম (৪০) শিশুছেলে হামিম (৩) ও মেয়ে মহিপুর কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মরিয়মকে (১৫) নিয়ে এক বিছানায় ঘুমাতে যান। ঘরের দোতলায় নুরজাহানের বড় মেয়ে রেশমা (১৯) ও জামাই মাঈনুল ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত তিনটার দিকে রেশমা প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে বাইরে যান। তখনও ঘরে ফেরার সময় ছোট বোন মরিয়মের সঙ্গে কথা হয় তার। এরপর ভোরে নুরজাহান বেগম ঘরের বিভিন্ন স্থানে রক্ত দেখে ও মরিয়মকে না পেয়ে চিৎকারে দেন। পরে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থলে যান মহিপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুবুর রহমানসহ একদল পুলিশ।

তিনি জানান, ঘরের মেঝেতে রক্তমাখা দুটি ছুরি, দুই টুকরো কাটা মাংস ও মরিয়মের নূপুর পাওয়া গেছে। তবে জীবিত বা মৃত কোনভাবেই মেয়েটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।

মাহবুবুর বলেন, ঘরের বেড়াসহ বিভিন্ন স্থানে রক্ত ছড়িয়ে পড়লেও পরিবারের কেউ টের না পাওয়ার বিষয়টি রহস্যজনক।

এদিকে সকালে পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. মঈনুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান, কলাপাড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জালাল উদ্দিনসহ উর্ধতন কর্মকর্তরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ সুপার মো. মঈনুল হাসান জানান, আলামত দেখে আপাতত এটাকে হত্যাকাণ্ড বলে মনে হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করা হবে।

  • সমকাল