তালায় শিক্ষা অফিসারকে বদলীর পায়তারায় শিক্ষকদের ক্ষোভ

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১০:৫২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮ | আপডেট: ১০:৫২:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮
তালায় শিক্ষা অফিসারকে বদলীর পায়তারায় শিক্ষকদের ক্ষোভ

সেলিম হায়দার :

সাতক্ষীরার তালা উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ অহিদুল ইসলামকে বদলীর জন্য উঠেপড়ে লেগেছে একটি চক্র। এ ঘটনায় শিক্ষককের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা অফিসারকে বদলী না করতে সহ¯্রাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছেন।

 

আবেদনের প্রেক্ষিতে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৪ আগস্ট তালা উপজেলায় যোগদান করেন দেশসেরা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ অহিদুল ইসলাম। তিনি ইতিমধ্যে দেশের সেরা শিক্ষা অফিসার হিসেবে ২০১২, ২০১৪ ২০১৫ সালে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন। তিনি যোগদানের পর থেকে তালা উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে চলেছেন।

 

মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, রফিকুল ইসলাম, আব্দুস সাত্তার, বন্দনা চন্দ, তাসলিমা খাতুন, আব্দুল গফ্ফারসহ কয়েকজন শিক্ষক জানান, শিক্ষা অফিসার অহিদুল ইসলাম তালায় যোগদানের পর থেকেই শিক্ষা অফিস থেকে দালাল মুক্ত, বদলী বাণিজ্য বন্ধ, শিক্ষকদের স্কুলে ও ক্লাসে উপস্থিতির হার বৃদ্ধি, মা সমাবেশ, ঝরে পড়া রোধসহ প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানের ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। এ মুহূর্তে শিক্ষা অফিসার বদলী হলে দালাল চক্র ফের সক্রিয় হবে এবং উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থাকে গ্রাস করতে মরিয়া হয়ে উঠেবে বলে তারা জানান। শিক্ষকরা আরও জানান, প্রাথমিক শিক্ষায় বিশেষ অবদান রাখায় ৩ বার জাতীয় পদকে ভূষিত হওয়া কর্মদক্ষ এ অফিসারকে যাতে বদলী করা না হয় তার জন্য ১ হাজার ৫০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা সাতক্ষীরা-০১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছেন।

 

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি ৮০ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম প্রহরী নিয়োগ নিয়ে স্থানীয় কতিপয় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। সেই দ্বন্দ্বের জের ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধের জন্য হাইকোর্টে রিট করে একটি পক্ষ। উক্ত নিয়োগ নিয়ে বলির পাঠা হতে যাচ্ছেন শিক্ষা অফিসার। এছাড়া সম্প্রতি ২৩ জন প্রধান শিক্ষকের উন্নীত বেতন স্কেল নিয়ে একটি চক্র কয়েক লাখ টাকা বাণিজ্য করে বলে অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদ করায় স্থানীয় ক’জন নেতা রুষ্ট হয় তার উপর। এছাড়া সম্প্রতি খলিলনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল কাশেম এবং লাউতাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফারুখ হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের তদন্ত করায় একটি চক্র জনপ্রিয় এ শিক্ষা অফিসারকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয় এবং কতিপয় নেতারা তাকে বদলীর মিশন নিয়ে মাঠে নামে। এদিকে শিক্ষা অফিসারকে বদলী না করার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবকসহ এলাকাবাসী।