একাদ্বশ জাতীয় সংসদে কে হবে দশমিনা-গলাচিপার অভিভাবক?

ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ আহমেদ

সিনিয়র রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১০:১৩ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৮ | আপডেট: ১০:১৩:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৮
পটুয়াখালী-৩ দশমিনা-গলাচিপা সংসদীয় আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। এ আসনে সংসদ সদস্য হিসাবে সামরিক শাসন ও ১৫ জানুয়ারীর বিএনপি’র বিতর্কিত নির্বাচন ছাড়া, সব কটি নির্বাচনেই আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। বর্তমান সাংসদের একঘেয়েমীর কারনে আওয়ামী দুর্গে গ্রুপিং সৃষ্টি হওয়ার ফলে দলটি বেশ দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পরেছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও প্রবীন নেতারা। তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নে আওয়মী লীগ কোন ভুল সিদ্ধান্ত  নিলে এবং বিএনপি যদি এলাকার ত্যাগী তরুন নেতাকে মনোনয়ন প্রদান করেন, তাহলে এ ফাঁককে কাজে লাগিয়ে আওয়মী দুর্গে আঘাত হানতে প্রস্তুত বিএনপি। আর এরকমই হওয়ার আশংকা রয়েছে বলে মনে করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই উপজেলার অনেক প্রবীন নেতা – কর্মী ও সমর্থরা। তা হলে আগামী নির্বাচনে কে হচ্ছেন এ দু’ উপজেলার কান্ডারী ? এ নিয়ে দু’উপজেলায় রাজনৈতিক মহলে চলছে আলোচনা সমালোচনার ঝড়।অনেক আগে থেকেই দৌড় ঝাপ শুরু হয়ে গেছে টপ টু বটম পর্যন্ত। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে
সামনে রেখে সভা-সমাবেশসহ দলগুলোর বিভিন্ন দিবসকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী এলাকায় সরব রয়েছেন আওয়ামী লীগ। পাশা পাশি বিএনপিও রয়েছেন সুযোগের অপেক্ষায়।
দেখাগেছে দশমিনা গলাচিপা উপজেলায় জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে  ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনায়ন প্রত্যাশীরা পোষ্টার,ব্যানার ও ফেষ্টুন টানিয়ে জনসাধারণকে জানান দিচ্ছেন। এবার আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন, এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও সাবেক বস্ত্র প্রতি মন্ত্রী আলহাজ্ব আখম জাহাঙ্গীর হোসাইন। তবে বার্ধাক্যজনিত কারনে আগামী একাদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় টিকেট না পাওয়াটাই মনে করছেন দলের অনেক নেতা কর্মী। তাদের দাবী  এখনই তরুন ও ত্যাগী নেতাদের সুযোগ না দিলে, ভবিষ্যতে দলের অনেক ক্ষতি হতে পারে।  তাই পরিবর্তনের আভাসও পাওয়া যাচ্ছে,অনেক পূর্ব থেকেই। সে ক্ষেত্রে মাইনাচ টু ফরমুলার দরুন আ,খ,ম জাহাঙ্গীর দলের নমিনেশন থেকে ছিটকে পড়লে, দলের সংকটময় মুহুর্তে দলের হাল ধরেন তরুন উদীয়মান নেতা এ্যাড, ইকবাল মাহামুদ লিটন। তাই দলীয় প্রার্থীকে যার একক প্রচেস্টায় দলের একেবারে নতুন মুখ প্রার্থী গোলাম মাওলা রনীকে প্রায় ৭০হাজার ভোটের ব্যাবধানে এমপি নির্বাচিত করারমত দুঃসাহস একজনই দেখিয়ে ছিলেন।
দশমিনা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য,সাবেক ছাত্র ও যুব নেতা এ্যাড,ইকবাল মাহামুদ লিটন। আর সেই থেকেই হয়ে ওঠেন এলাকায় কর্মী বান্ধব নেতা হয়ে। তাই তিনি নিজেই মনোনয়ন চেয়ে প্রায় দু’ বছর ধরে দশমিনা-গলাচিপায় ব্যাপক গন সংযোগ করে ত্যাগী নেতা কর্মীদের চাঙ্গা করে রেখেছেন।  এ্যাড, লিটন গলাচিপার উলানিয়া,বাজার,পানপট্টি,চরকাজল,গোলখালী, পাতাবুনিয়া, রনুয়া বাজার, কলাগাছিয়াসহ সংশ্লিস্ট এলাকা,দশমিনার রনগোপালদী,আউলিয়াপুর,পাতারচর চরঘুনী,চরবোরহান,চরশাহজালাল,চরহাদী,আরজবেগী,যৌতা বাজার,আলীপুরা,পশ্চিম আলীপুরা চাদপুরাবাজার,খলিসাখালী,গোপালদী,বেতাগী সানকিপুর,জমির মৃধা,বহরমপুর,আমতলা বাজার,নেহালগঞ্জ,মোল্লার হাট,বাঁশবাড়ীয়া,গছানী বাজার,হাজীর হাট, গোলাখালী,কাটাখালী,আরজবেগী বাজার,লক্ষীপুরসহ উপজেলার জনগুরুত্বপুর্ন স্থান সমুহে মটর সাইকেল ও প্রাইভেট কারের বহরে নিয়ে ওই সব এলাকায় দলীয় নেতা-কর্মী ও ভোটারদের সাথে কুশল বিনিময় করেনন এবং দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন। এসময় এ্যাড,লিটন এবং দলীয় নেতা- কর্মীরা বলেন,বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড জন সম্মুখ্যে তুলে ধরেন এবং বলেন, আমি আপনাদের কাছে আসছি নৌকার গণসংযোগ করার জন্য। ইনশাল্লাহ আপনাদের দোয়া ও আশির্বাদে আমি নৌকা প্রতিক পেলে আগামি একাদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যাবধানে জয় লাভ করবো।সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।
 মনোনয়ন প্রত্যাসীদের সারিতে আরো রয়েছেন, দশমিনা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাড. শাখাওয়াত হোসেন শওকাত, তবে এলকায় তার অবস্থানও রয়েছে নড়বরে। এ তালিকায় আরো রয়েছেন ১০ ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় মনোনয়ন চেয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের (ধর্ম বিষয়ক উপ কমিটির) সদস্য মোঃ হিরন আহমেদ। যুবলীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা
বিষয়ক সম্পাদক কামরান প্রিন্স মহাব্বাত শহিদ,ঢাকা মহানগন দক্ষিণ আ’লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. ফোরকান মিয়া, পটুয়াখালী জেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) কাজী আলমগীর হোসেন, রয়েছেন গোলাম মাওলা রনিও। এদিকে একরকম হঠাৎ করেই সিইসি’র ভাগ্নে পরিচয় দিয়ে এস এম শাহজাদা সাজু বেশ কিছু দিন ধরে আওয়ামীলী দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাসী বলে দাবী করছেন। তবে সরেজমিনে তার দলীয় কোন পরিচয় পাওয়া যায় নাই।  মনোয়ন পাওয়ার বিষয়ে তারা সকলেই নিজেদের শক্ত অবস্থানের কথা দাবি করছেন। এক্ষেত্রে সরেজমিন,দেখা গেছে, দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে এ্যাডভোকেট লিটন সব থকে এগিয়ে রয়েছে বলেও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশ। কারন হিসেবে এলাকার ত্যাগী নেতা কর্মীরা মনে করেন, লিটন দুই উপজেলায় একজন কর্মী বান্ধব নেতা হিসেবে পরিচিত।
অপর দিকে এ আসনে এখন পর্যন্ত বিএনপির সম্ভাব্য মনোনায়ন প্রত্যাশী তিন জনের নাম বেশ জোরে শোরে ই আলোচনায় আসছে। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছে নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান আল মামুন, সাবেক সংসদ সদস্য শাজাহান খান ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা। এই তিনজনই এলাকায় দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিচ্ছেন। নেতাকর্মীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে নিজের দলীয় মনোনয়নের পক্ষে জনমত তৈরির চেষ্টা করছেন তারা। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে জনপ্রিয়তার দিক থেকে এই তিন জনই এগিয়ে রয়েছে। হাসান মামুন ছাত্র রাজনীতি থেকে অবসর নেয়র পর বিএপি’র রাজনীতিতে গত ৭ বছর যাবৎ তিনি সক্রিয় রয়েছেন। হাসান মামুন গলাচিপা ও দশমিনার উল্লেখযোগ্য
সংখ্যক শিক্ষিত যুবকের কর্মসংস্থানেও বেশ অবদান রাখায় এর প্রভাব একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাখবে বলে দলের অনকে নেতা প্রকাশ আশা করছেন। তবে শাহজাহান খান তৃনমুলে ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি (শাহজাহান খান) ২০০৮ সালের
নির্বাচনের পর থেকে এখন পর্যন্ত মাঠেই আছেন।
বিএনপি যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন না হাসান মামুন এ প্রতিবেদদকে জানান, ‘আমি এলাকার মানুষের ভাগ্য-উন্নয়নে কাজ
করছি। দল থেকে আমাকে মনোনায়ন দেয়া হলে নির্বাচনে আমি বিপুল ভোটে জয়ী হবো।বিএনপির মনোনয়ন বিষয়ে আলোচনার টেবিলে আরেক নাম শাহজাহান খান। তিনি ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এমপি হয়েছিলেন। এ ছাড়া বেশ কয়েকবার বিএনপির টিকেটে নির্বাচন করলেও জিততে পারেননি কখনো। তিনিও মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে বেশ আশাবাদী। এ আসনে ইতিপুর্বে যাহারা এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন- বাংলাদেল স্বাধীনেরর পরে  ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামী থেকে আ. বারেক মিয়া, জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বিএনপি থেকে আবদুল বাতেন তালুকদার, এরশাদের সময়কালে ১৯৮৬ সালে এ্যাড. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, ৮৮ সালে ইয়াকুব আলী চৌধুরী, ৯১ সালে আওয়ামী লীগের আখম জাহাঙ্গীর হোসাইন, ‘৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিতর্কিত নির্বাচনে বিএনপি’র শাহজাহান খান, একই বছরে সবদলের অংশগ্রহনে ফের নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের আখম জাহাঙ্গীর হোসাইন। এ সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে বস্ত্র মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্তীর দায়িত্ব দেন। ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আবার আখম জাহাঙ্গীর হোসাইন জয়লাভ
করেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনে দলীয় টানপোড়নে আখম জাহাঙ্গীর হোসাইন মনোনয়ন থেকে ছিটকে পড়েন। আওয়ামী লীগ দলের প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দেয়া হয় এলাকায় একেবারেই অপিরিচিত নতুন মুখ গোলাম মাওলা রনিকে। ইলোকট্রনিক মিডিয়ার টক শো এবং বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সরকার বিরোধী বানোয়াট বক্তব্য রাখার জান্য জাতীয়ভাবেও বিতর্কিত হয়ে পড়েন তিনি। সর্বশেষ ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সংবাদকর্মীদের মারধর করার অপরাধে তাকে জেলে যেতে হয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে আবার আখম জাহাঙ্গীর হোসাইন নির্বাচনে জয়লাভ করেন।