ভারতে খ্রিস্টান বিশপের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে আন্দোলন করছেন সন্ন্যাসিনীরা

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১১:২৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮ | আপডেট: ১১:২৭:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮

ভারতে রোমান ক্যাথলিক চার্চের একজন নান বা সন্ন্যাসিনী ঐ চার্চেরই একজন বিশপের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তোলার পর তাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে নান-রা আন্দোলন শুরু করেছেন। কেরালার কোচিতে বেশ কয়েকজন নান এই দাবি নিয়ে পথে নামলেও অভিযুক্ত যাজককে গ্রেপ্তার তো দূরের কথা, পুলিশ তার বিরুদ্ধে এখনও কোনও ব্যবস্থাই নেয়নি।

 

ইতিমধ্যে ওই বিশপ বিবিসির কাছে দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।ভারতের জাতীয় মহিলা কমিশন ও নারীবাদী অ্যাক্টিভিস্টরা অবশ্য আন্দোলনকারী নান-দের পাশেই দাঁড়াচ্ছেন। ভারতে ধর্ষণের বিরুদ্ধে আইন এখন এতটাই কড়া যে কোনও ধর্ষিতা নারী পুলিশে অভিযোগ করা মাত্র অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে আইনত বাধ্য।অথচ রোমান ক্যাথলিক চার্চের একজন নান বেশ কিছুদিন আগে জলন্ধরের বিশপ ফ্রাঙ্কো মুল্লাক্কালের বিরুদ্ধে টানা দুবছর ধরে তাকে অন্তত ১৩বার ধর্ষণ করার মারাত্মক অভিযোগ আনলেও পুলিশ এখনও ঐ যাজককে আটক করেনি।বিশপকে গ্রেপ্তারের দাবিতে কোচিতে কেরালা হাইকোর্টের কাছেই গতকাল মঙ্গলবার থেকে ধরনায় বসেছেন সন্ন্যাসিনীরা।

 

সিস্টার অনুপমা নামে একজন নান বলছিলেন, “আমরা ন্যায় বিচার চাই – আর তাই বিশপকে গ্রেপ্তার করতে হবে। যারা দোষী, তাদের শাস্তি পেতেই হবে – আমরা শুধু এটুকুই বলছি।””আমরা আমাদের চার্চে সিস্টার রেজিনার মতো সিনিয়র নানদের কাছেও বোন-সুলভ বা মাতৃ-সুলভ সহানুভূতি পাইনি, তারাও চার্চের পুতুলের মতো ব্যবহার করছেন। এখন আমাদের দাবি আদায়ে যতদূর যেতে হয় আমরা যাব।”

 

যে সন্ন্যাসিনী ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন, ইতিমধ্যে তার চরিত্র নিয়ে চার্চ কর্তৃপক্ষ নানা কুৎসা প্রচার করছেন বলেও বলা হচ্ছে।কেরালার একজন স্বতন্ত্র খ্রিষ্টান এমএলএ সাংবাদিক বৈঠক করে ঐ নানকে যৌনকর্মী বলেও গালাগাল দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড়ও উঠেছে।জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রধান রেখা শর্মা যেমন বলছেন, “দেশের যে আইন প্রণেতাদের নির্যাতিতা নারীদের পাশে দাঁড়ানোর কথা, তারা যখন এ ধরনের মন্তব্য করেন তখন আমাদের লজ্জায় মাথা কাটা যায়।”

 

প্রবীণ বামপন্থী নেত্রী সুভাষিণী আলিও আন্দোলনকারী নানদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।মিজ আলির কথায়, “সন্ন্যাসিনীরা যখন এভাবে নিজের সংগঠনের বিরুদ্ধেই অভিযোগ তোলেন, তার জন্য আসলে অনেক সাহস লাগে। এটা বুঝতে হবে – একদিন নয়, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর ধরে তারা চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেই আজ তারা নিজেদের চার্চের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন।”

 

তবে মিজ আলির দল সিপিএমই এখন কেরালার ক্ষমতায়, কিন্তু কেরালার প্রভাবশালী ক্যাথলিক খ্রিষ্টান লবির চাপেই তারা অভিযুক্ত বিশপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করছে – এই অভিযোগও উঠছে। এদিকে এই মুহূর্তে পাঞ্জাবে থাকা অভিযুক্ত যাজক বিবিসির কাছে দাবি করেছেন তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ।

 

বিশপ ফ্রাঙ্কো মুল্লাক্কাল বলছেন, “এই অভিযোগ সর্বৈব মিথ্যা, বানোয়াট ও এমনভাবে সাজানো যাতে লোকে বিশ্বাস করে।””কিন্তু এরকম কিছুই কখনও ঘটেনি – ওই নানকে কেন, আমি পৃথিবীর কোনও নারীকেই ধর্ষণ করিনি একথা আমি বাইবেল ছুঁয়ে বা নিজের বিবেক স্পর্শ করেও বলতে রাজি। কেউ যদি আমায় ধর্ষণকারী বলে প্রমাণ করতে পারে তাহলে আমি ফাঁসিতে ঝুলতেও রাজি!”

 

তবে নানরা কোচির রাজপথে নেমে আন্দোলন শুরু করায় যে পুলিশ-প্রশাসনের ওপর প্রবল চাপ তৈরি হয়েছে সন্দেহ নেই, আর তার মুখে আজ বুধবার জলন্ধরের ওই বিশপকে জেরার জন্য সমন করা হতে পারে বলেও জানা যাচ্ছে।