আওয়ামী পরিবারের সন্তান রাজীব আহসান ছাত্রদলের সভাপতি!

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৮:৫১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৮ | আপডেট: ১০:৩০:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮
আওয়ামী পরিবারের সন্তান রাজীব আহসান ছাত্রদলের সভাপতি!

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বরিশালে মেহেন্দীগঞ্জের আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান রাজীব আহসান। জিনি বিএনপি’র ভ্যানগার্ড খ্যাত ছাত্রদলের সর্বোচ্চ পদে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

 

ছাত্রদলের মেয়াদ উত্তির্ণ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হলেও পারিবারিক রাজনৈতিক পিছুটান রয়ে গেছে তার মধ্যে। ছাত্রদলের মত একটি শক্তিশালী সংগঠনের কমিটি নিয়ে আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নের অভিযোগ উঠেছে রাজিব আহসানের বিরুদ্ধে।

 

যার একটি বড় প্রমান সদ্য ঘোষিত বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কমিটি। বিশেষ করে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের কমিটি গঠন সরকার দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের একটি বড় উদাহরন বলে মনে করছেন বঞ্চিত ও ত্যাগী নেতারা। সংগত করনেই নিজ জেলায় অবাঞ্চিত হতে হয়েছে আওয়ামী পরিবারের উত্তস্যুরি রাজীব আহসানকে।

 

এদিকে শুধুমাত্র বরিশাল জেলাতেই নয়, অবৈধ ভাবে টানা চার বছর সভাপতির পদে থাকা রাজীব আহসানের বিরুদ্ধে সারা দেশ ব্যাপী ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে অনিয়ম এবং বানিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।

 

যার আরেকটি প্রমান কুমিল­া জেলা ছাত্রদল। আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও অর্থের বিনিময়ে ঘোষনা হওয়া ওই কমিটি নিয়ে তুমুল হট্টোগোল সৃষ্টি হয়। অবশ্য কমিটি দিয়ে বির্তক এবং ছাত্রদলকে ধ্বংসের চুড়ায় নিয়ে গেলেও আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন তিনি। বিরোধী দলের আমলে থেকেও বিলাশবহুল জীবনযাপন এবং অঢেল সম্পদের মালিক বনে যান রাজীব আহসান।

 

এসব কারনেই বর্তমানে শুধুমাত্র বরিশাল জেলাতেই নয়, বরং কেন্দ্রীয় পর্যায়েও তার বিরুদ্ধাচারণ শুরু করেছে কেন্দ্রের বিশাল একটি অংশ। সপ্রতি তারা ছাত্রদলের মেয়াদ উত্তির্ণ ওই কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের জোর দাবী জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী’র কাছে।

 

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, বরিশাল জেলার বৃহত্তর মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা পৌর এলাকার বাসিন্দা রাজীব আহসান। তার বাবা মিজান মাস্টার। যিনি নিজ এলাকায় এক নামে পরিচিত। এর পেছনের সবটুকু অবদান মিজান মাস্টার নিজেরই। কেননা বিগত ৮০ এর দশকে আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন তিনি। তৎকালিন আমলে উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের এসএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন মিজান মাস্টার। ওই উপজেলার প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন একই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা আনিস চৌধুরী। তার সাথেই রাজনৈতিক অঙ্গনে ওঠা-বসা ছিলো মিজান মাস্টারের।

 

 

এমনকি আওয়ামী তৎকালিন উপজেলা চেয়ারম্যান আনিস চৌধুরীর বাড়িতেই বসবাস ছিলো তার। সেখানে থেকে আওয়ামী দলীয় সকল ধরনের কর্মসূচিতে সক্রিয় অবস্থান ছিলো মিজান মাস্টারের। সেই সুবাধে উপজেলার শিক্ষক সামাজের নিয়ন্ত্রক ছিলেন তিনি। উপজেলা চেয়ারম্যানের লোক হওয়ায় বদলীর হয়রানিতে পরতে হয়নি তাকে।

 

এসএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান এবং সেখান থেকেই অবসর গ্রহন করেছিলেন মিজান মাস্টার। মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র একজন প্রভাবশালী নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মিজান মাস্টার আওয়ামী পরিবারের লোক। তিনি তৎকালিন উপজেলা চেয়ারম্যানের লোক হিসেবে আওয়ামী লীগের সকল কর্মসূচিতেই অংশগ্রহন করে। শুধু তাই নয়, বাবার সাথে আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে দেখা মেলে তার ছেলে রাজীব আহসানের।

 

যিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির বর্তমান সভাপতি। ছাত্রদলের সর্বোচ্চ পদে থাকলেও পারিবারিক কারনে রাজীব আহসানের আওয়ামী লীগ প্রীতি রয়েই গেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি’র ওই নেতা। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্বে থাকা এক শীর্ষ নেতা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ এক বছর। কিন্তু‘ বর্তমান কমিটির মেয়াদ উত্তির্ণ হয়ে চার বছরে দাড়িয়েছে। সরকার বিরোধী আন্দোলন, নির্বাচন এবং নেত্রী’র মুক্তি দাবীর আন্দোলনের অজুহাতে ছাত্রদলের মেয়াদ উত্তির্ণ কমিটি বহাল রয়েছে।

 

 

তিনি বলেন, বর্তমান কমিটির সভাপতি এবং সম্পাদকের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী কমিটি নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। হামলা-মামলা এবং ত্যাগী নেতাদের বঞ্চিত করে নিস্ক্রিয়দের নিয়ে কমিটি করেছে সে। আবার অনেককে নেতা বানানো হয়েছে যারা পদ-পদবী পেয়ে ছাত্রলীগ থেকে ছাত্রদলে জায়গা করে নিয়েছে। মোট কথা সাংগঠনিক এবং ত্যাগ নয়, বরং ভোগের মূল্যায়নই বেশি বর্তমান কমিটির কাছে। বিশেষ করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সভাপতি রাজীব আহসানের বিতর্কিত কার্যক্রমে বিব্রত বিএনপি’র শীর্ষ নেতারাও।

 

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ওই নেতা বলেন, শুধুমাত্র বরিশাল জেলাতেই নয়, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের কারনে সারা দেশে ছাত্রদলের মধ্যে একই অঅবস্থা বিরাজ করছে। এতে করে ছাত্রদল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে ছাত্র নেতারা। এতে সাংগঠনিক অস্থিরতা দেখা দিলেও নিজের আখের গুছিয়ে নিয়েছেন কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সম্পাদক।

 

অপরদিকে বরিশালে পদবঞ্চিত জেলা ও মহানগর ছাত্রদল নেতারা বলেন, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাজীব আহসান আওয়ামী লীগের এজেন্টা বাস্তবায়ন করেছে। মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির নেতা’র ভাই বরিশাল দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এইচ এম তছলিম উদ্দিন ও উত্তর জেলা যুবদলের সাধারন সম্পাদক ঐ উপজেলা চেয়ারম্যানের আত্মীয় সালাউদ্দিন পিকলু। তার মাধ্যমে মহাজোটের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেই জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ঘর জামাই খ্যাত ও একসময় পাসপোর্ট অফিসের দালাল কামরুল আহসানকে।

 

তারা বলেন, যাদের নিয়ে ছাত্রদলের কমিটি করা হয়েছে তাদের মুল লক্ষ্যই ছিলো পদের। অর্থ এবং লবিং ক্ষমতায় নিজের অবস্থান নিশ্চিত করায় দলীয় কর্মসূচিতে ড্যাম কেয়ার তারা। এতে ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র নেতাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে সরকার বিরোধী আন্দোলনে থেকে হামলা-মামলার শিকার এবং একাধিকবার কারাবরণকারী ত্যাগী ছাত্র নেতাদের কমিটিতে জায়গা করে দিলে আর প্রশ্নের সৃষ্টি হতো না। তাছাড়া নবগঠিত কমিটির কারনে বরিশাল ছাত্রদল ধ্বংস হয়ে গেছে। বর্তমান এই কমিটি বরিশালে ভবিস্যৎ আন্দোলন সংগ্রামেও বিরুপ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন তারা।