যুক্তরাষ্ট্রের আইটি বিশেষজ্ঞ গালিব বাংলাদেশের অহংকার

প্রকাশিত: ২:৫৩ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮ | আপডেট: ২:৫৩:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮

বরিশালের সন্তান শেখ গালিব রহমান। মাত্র ১৭ বছর বয়সী কিশোর গালিব ২০০৭ সালে প্রবাসী হয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। এরপর মাত্র ১১ বছরের মধ্যে একজন মেধাবী আইটি টেকনোলজিষ্ট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে পেয়েছেন ব্যাপক পরিচিতি।

আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। নিজে যেমনি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের গুরুত্বপূর্ন পদে চাকুরি করছেন অন্যদিকে আইটি সেক্টরে অসংখ্য বাংলাদেশি তরুণকে করে দিয়েছেন যথাপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগও।

মাত্র ত্রিশ বছর বয়সেই অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ার টিমের ম্যানেজার হিসাবে কর্মরত গালিব সুনিপুণ দক্ষতা ও সফলতার মাধ্যমে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন অনেকের চোখেই।

Image may contain: 17 people, including Sheikh Galib Rahman, people smiling, people sitting and indoor

যুক্তরাষ্ট্রের বাঙালি কমিউনিটি ও মূলধারার রাজনীতিবিদদের কাছে ‘মি: শেখ রহমান’ হিসেবে খুবই পরিচিত তার নাম।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের ইউনাইটেড ষ্টেটস সিটিজেনশীপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসের আইটির ম্যানেজার হিসেবে সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রেসিডেন্টের এক্সিকিউটিভ অফিসের আইটি পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় একটি ব্যাংকের আইটি ক্ষেত্রেও মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি।

এখন প্রায় জন ত্রিশেক ইঞ্জিনিয়ারের একটি অটোমেশন দলের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ‘ট্রান্সফোটেক’র স্বপ্নদ্রষ্টা গালিবের টিমের বেশির ভাগ সদস্যই বাংলাদেশি।

Image may contain: 9 people

জ্যামাইকায় ১৭৩ স্ট্রিট-এ অবস্থিত ‘ট্রান্সফোটেক’-এর মাধ্যমে ইনফরমেশন টেকনোলজির (আইটি) আধুনিক শিক্ষায় গড়ে তুলছেন বাংলাদেশিসহ নানা দেশের অসংখ্য তরুণকে। এখানে তরুণদের বহু কাঙ্খিত স্বপ্নকে বাস্তব করে তুলছেন নতুন প্রজন্মের এই কারিগর।

শিক্ষার্থীরা আইটি জগতে তাদের একজন পথ প্রদর্শক হিসেবে দেখছেন গালিব রহমানকে।

শুধু তাই নয়, প্রশিক্ষণ শেষে এই প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারী এবং কর্পোরেট হাউজে চাকরিও নিশ্চিত করা হচ্ছে। এভাবে অসংখ্য পরিবারের কাছে গালিব রহমান একজন আলোকিত মানুষ হিসেবে পরিচিতি।

Image may contain: 2 people, people sitting

আমেরিকা, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন মিডিয়া তাকে নিয়ে প্রচারিত হয়েছে বেশ কিছু ইন্টারভিউ।

Image may contain: 10 people, including Sheikh Galib Rahman, people smiling

শুরুর গল্প সর্ম্পকে জানা যায়, ইউএসএ আসার পর দু:সর্ম্পকের এক চাচা ‘ডানকিন ডনেট’-এ কাজের ব্যবস্থা করে দেন। মাত্র ৮ ডলার দিয়ে সেই যাত্রা শুরু।

এখানে আসার পর থেকেই ইনফরমেশন টেকনোলজির উপর আমার আগ্রহ সৃষ্টি হয় এবং পড়াশুনা করি। অত্যন্ত দক্ষতার সাথে আমি একটি বড় এবং শক্তিশালী মেধাবী বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ারিং টিমের নেতৃত্ব দিচ্ছি। এটা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের এবং আনন্দের।

গালিব আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির বিভিন্ন প্রজেক্টে শতশত বাংলাদেশি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করছে। শুধু হোমল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের ইউনাইটেড ষ্টেটস সিটিজেনশীপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসে প্রায় ষাট থেকে সত্তরজন বাংলাদেশি কাজ করছে।

আমি যে কোম্পানির হয়ে কাজ করছি সেই কোম্পানি থেকে প্রায় ত্রিশজন বাংলাদেশি কাজ করছেন’।

Image may contain: 2 people, people smiling, people standing and outdoor

বরিশালের ঝালকাঠি জেলার সন্তান গালিব রহমানের বাবা এস এম সিদ্দিকুর রহমান দেশের একজন খ্যাতিমান ব্যাংকার। তার মা মাহিনূর ইয়াসমিন একজন শিক্ষিকা।

শিক্ষকতার মতো এক মহান পেশায় জড়িয়ে আছে গালিব রহমানের পুরো পরিবার। তার নানা, মা, ফুফু, খালাসহ অনেকেই মানুষের জন্য অকাতরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে চলেছেন যুগযুগ ধরে। সমাজে মানুষ গড়ার মতো এক মহৎ পেশাকে তাঁরা বেছে নিয়েছেন।

নানা মালেক তালুকদার এলাকায় শুধু শিক্ষার আলো ছড়িয়েই থেমে থাকেননি। তিনি একজন দানবীর হিসেবে পরিচিত। তার এই খ্যাতি নিজ জেলা ঝালকাঠির বাইরে গোটা বরিশালে ছড়িয়ে আছে।

গালিবের দাদা অ্যাডভোকেট আশরাফ আলী বরিশাল অঞ্চলের একজন খ্যাতিমান আইনজীবী হিসেবে পরিচিত। যার যশ, খ্যাতি, প্রাচুর্যের কোন কমতি ছিল না। গালিব ছোট বেলায় স্বপ্ন দেখতেন দাদার মতো বড় মাপের একজন আইনজীবী হবেন।

সে লক্ষ্যে এক বছর ঢাকায় আইন বিষয়ে পড়াশোনাও করেন।

Image may contain: Sheikh Galib Rahman, sitting, living room and indoor

দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি রয়েছে তার গভীর টান। যেমনটাই বলছিলেন, ‘আমি একজন বাংলাদেশি। আমি বাংলাদেশকে ভালবাসি। বাংলাদেশেই আমি জন্মগ্রহন করেছি। আমার যখনই কোন সুযোগ আসে আমি তখনই বাংলাদেশিদের নিয়োগ প্রদান করি’।

শুধু এটুকুই নয়। এই স্বপ্নবাজ তরুণের ভাবনা জুড়ে শুধু বাংলাদেশ। এদেশের যুবদের আইটি সেক্টরে একটি ভালো অবস্থানে নিয়ে যাওয়াই তার একমাত্র ব্রত।