হাজারোধিক ইয়াবা উদ্ধার, মামলা ৩ পিসের

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১০:৫৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০১৮ | আপডেট: ১০:৫৮:অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০১৮
হাজারোধিক ইয়াবা উদ্ধার, মামলা ৩ পিসের

বরিশালের উজিরপুরে বিপুল পরিমাণে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার হয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন উপজেলার জল্লা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক মিঠু হাওলাদার ওরফে লেংড়া মিঠু (৩০) ও সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মিজানুর রহমান (৪০)

অভিযোগ উঠেছে, তাদেরকে গত বৃহস্পতিবার (৩০ আগস্ট) রাতে উপজেলার ধামুড়া বাজার এলাকা থেকে ধামুড়া পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) হুমায়ন কবির কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিয়ে আটক করে। এ সময় তাদের দেহ তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করলে স্থানীয় লোকজন সেখানে ভিড় করেন। তবে গ্রেপ্তারকালে যে পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় তার নামেমাত্র জব্দ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এমনকি রহস্যজনক কারণে ঘটনাস্থল দেখানো হয়েছে ভিন্নভাবে। এতে পুলিশের দ্বিমুখী বানিজ্য ও ইয়াবা গায়েবসহ নানা প্রশ্নের উদ্ভব হয়েছে স্থানীয়দের মাঝে। অভিযোগের কিছু সত্যতাও মিলেছে অনুসন্ধানে।

এ ঘটনায় পুলিশ বলছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে ৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৮ গ্রাম গাঁজাসহ মধ্য ধামুড়া মাহমুদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সামনের রাস্তা থেকে মিঠু ও মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক স্থানীয়রা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ৩ পিস না, সেদিন আনুমানিক রাত ১২টার দিকে ধামুড়া বাজার এলাকা থেকে হাজার পিসের বেশি ইয়াবাসহ ছাত্রলীগ নেতা মিঠু ও সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মিজানকে গ্রেপ্তার করেন ধামুড়া পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) হুমায়ন কবির ও তার সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা। পরে উজিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শেখ ফরিদ হোসেন ঘটনাস্থলে এসে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারকৃতদের নিয়ে যায় মধ্য ধামুড়া মাহমুদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সামনে। সেখানে উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেটগুলো গনণা করা হয়। যার পরিমাণ ১ হাজার ২’শ পিস বলে বেশ কয়েকজন স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন।

এ ঘটনায় রাতেই উজিরপুর মডেল থানার এসআই শেখ ফরিদ হোসেন বাদী হয়ে মিঠু ও মিজানের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছেন। মামলা নম্বর ২২। জব্দ হিসেবে তালিকায় দেখানো হয়েছে তিন পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও আট গ্রাম গাঁজা। অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে ধামুড়া পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই হুমায়ন কবির ও মামলার বাদী এসআই শেখ ফরিদ হোসেন এই প্রতিবেদককে বলেন, ওই দুজনের কাছ থেকে ৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৮ গ্রাম গাঁজাই উদ্ধার করা হয়েছে, যা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের শুক্রবার আদালতে চালান দিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। তবে ১ হাজার ২’শ পিস ইয়াবা উদ্ধার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা এসব তথ্য দিচ্ছে তারা মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে।

জল্লা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মামুন শাহ বলেন, আমি খবর পেয়ে থানায় গিয়ে জানতে পারি, মিঠু ও মিজানকে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক করা হয়েছে। পুলিশ তাদের নিকট থেকে কত পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছিল তা জানা নেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জল্লা ইউনিয়নের একজন জনপ্রতিনিধি বলেন, গ্রেপ্তারকৃত মিঠু ও মিজান মাদকসেবী নয়। তবে তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইয়াবার বড় ধরনের সিন্ডিকেট চালাচ্ছেন। এদের নেপথ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ হালদার নান্টু জড়িত রয়েছে । উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিশির কুমার পাল বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে ধামুড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ক্যাম্প পুলিশ সদস্যরা ৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৮ গ্রাম গাঁজাসহ ওই দু’জনকে গ্রেপ্তার করে। আটক ইয়াবার (১ হাজার ২’শ) চেয়ে কম ইয়াবা দেখিয়ে মামলা করা হয়েছে এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের কিছু হওয়ার সুযোগ নেই।