ব্লাউজের ব্যবহার মূলত শেরশাহর আমল থেকে শুরু হয়

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১১:০৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০১৮ | আপডেট: ১১:০৩:অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০১৮
ব্লাউজের ব্যবহার মূলত শেরশাহর আমল থেকে শুরু হয়

খুব বেশি কাল আগের কথা নয় ; ভারতবর্ষের নারীরা তাদের বক্ষ উন্মুক্ত রাখতেন। আসলে শাড়ির ব্যবহার ততদিনে প্রচলিত হলেও শাড়ির নিচে ঊর্ধাংশে কী পরবে তা ঠিক তারা জানত না। রানি ভিক্টোরিয়ার আমলেও, বিশেষ করে বাংলায়, কোনো কোনো নারী তাদের শাড়ির নিচে ছোট্ট ব্লাউজ পরত না, তখন তাদের বক্ষ উন্মুক্ত থাকত। এটা ঠিক রানি ভিক্টোরিয়ার পচ্ছন্দ ছিল না। তার ইচ্ছে অনুযায়ীই তৈরি হয় নারীর জন্য শাড়ির নিচে পরার পোশাক যা ব্লাউজ নামেই পরিচিত। বাংলায় ব্লাউজের প্রচলন ও তার ব্যবহার বিধি নিয়ে এবারের অঁভোগ আয়োজন…

ব্লাউজ মূলত ইংরেজি শব্দ। এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে ঢোলা বহির্বাস। ব্লাউজের ব্যবহার মূলত শেরশাহর আমল থেকে শুরু হয়। বর্তমানে চাকমাদের মতো করে তখন এক টুকরো কাপড় বুকে বেঁধে রাখা হতো। সে-সময় একে কাঁচুলি বলো হতো। আবার অনেকে বক্ষবন্ধনীও বলতেন।Anuhya Reddy Tamil Actress and Model Hot Body Moves Photos

ভারতবর্ষে ব্যাপকভাবে ব্লাউজের ব্যবহার শুরু হয় ইংরেজ আমলে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যখন উপমহাদেশে ব্যবসা করতে এলো তখন তাদের সঙ্গে ইংরেজ মেয়েরাও এ-দেশে আসে। ইংরেজ মেয়েরা উপরে ছেলেদের শার্টের মতো ব্লাউজ এবং নিচে লং স্কার্ট পরত। তাদের এ-পোশাক দেখে ভারতবর্ষের মেয়েরা আকৃষ্ট হতো। এরই সূত্র ধরে রবীন্দ্রনাথের ভাতিজি শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজ পরার প্রচলন শুরু করেন। ধীরে ধীরে ধনিক শ্রেণির মহিলাদের মধ্যে ব্লাউজ পরার প্রচলন শুরু হয়।

ইতিহাসে আছে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী জনদানন্দিনী দেবীকে শাড়ির নিচে নগ্ন বক্ষের কারণে ব্রিটিশ রাজের আমলে ক্ল¬াবে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এখন যেভাবে ব্লাউজ পরা হয় এটা তার ধারণা থেকেই তৈরি। ১৮৯০ সাল থেকে অল্প-স্বল্পভাবে মহিলাদের ফ্যাশন হিসেবে ব্লাউজের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। ১৮৯০ সালে একটি ব্লাউজ এবং একটি প্লেন স্কার্ট ছিল উঠতি বয়সী তরুণীদের আদর্শ পোশাক। ১৯০০-১৯১০ সাল থেকে সামাজিক পরিবর্তনের পাশাপাশি ব্লাউজে স্টাইলেও আসতে শুরু হয় নানা পরিবর্তন।Sruthi Hariharan Glamorous Hot Beautiful Actress in Half Saree Black Choli Blouse

জনপ্রিয় কিছু ব্লাউজের মধ্যে রয়েছেঃ

হল্টারনেক:
হাতাছাড়া এ ধরনের ব্লাউজে শুধু কলার থাকে। দুই কাঁধের ফিতা ঘাড়ের পেছনে কলারের মতো জুড়ে থাকে। যাদের দৈহিক গড়ন সুন্দর, তারা গলা, কাঁধ ও পিঠের সৌন্দর্য প্রকাশ করতে এ ব্লাউজ পরতে পারেন।

টিউব চোলি:
এই ব্লাউজে কোনো শোল্ডার বা স্লিভ থাকে না। মাপজোখ হতে হবে নিখুঁত। এর প্রধান অংশ ব্লাউজের। সেটা পেছনে বা সামনেও হতে পারে। গলার মাপ খানিকটা বড় হবে।
কলার স্টাইল। এ ব্লাউজে হাতা থাকে না, তবে কাঁধের অংশ খানিকটা চওড়া হয় আর কলার থাকে। সবাইকেই এ ব্লাউজে ভালো মানাবে।

সিঙ্গল শোল্ডার:

যাদের কাঁধ বড়, এ ব্লাউজ তার জন্য উপযোগী। এতে একটিমাত্র শোল্ডার বা ফিতা থাকে, আর কাঁধ কিছুতা খোলা রাখা থাকে। শারীরিক গঠন বেশ ভালো হলে এ ধরনের ব্লাউজ বেশ আকর্ষণীয় লাগে।

বিকিনি

অনেকটা বিকিনির মতো এই ব্লাউজ। গলার ফিতা বা কাটে পাথর ও মুক্তা বসিয়ে ডিজাইন করা হয়। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য এর দুই জোড়া ফিতা। এক জোড়া গলায় এবং অন্য জোড়া থাকে কোমরে।Merina Abraham Indian South Beautiful Hot Model in Black Blouse and Red Paint

একজন রুচিশীল নারী হিসেবে তাই জেনে নিন কীরকম ব্লাউজ পরিধান করা উচিত।

১। শাড়ির সঙ্গে কেমন ব্লাউজ মানাবে বিষয়টি নির্ভর করবে পাড়ের ডিজাইন এবং কোন অনুষ্ঠানে শাড়ি পরা হবে তার ওপর।
২। শাড়ির ডিজাইন যাই হোক না কেন ব্লাউজের রঙটা হবে কন্ট্রাস্ট।
৩। স্থূলকায় হলে হাতাকাটা বা ছোট হাতার ব্লাউজ পরা ঠিক নয়।
৪। বেশি ক্ষীণকায় হলেও হাতাকাটা ব্লাউজ ভালো দেখাবে না।
৫। পিঠে দাগ থাকলে বন্ধগলার ব্লাউজ পরাই ভালো।
৬। শাড়ি ও ব্লাউজ দুটোই জমকালো হলে চলবে না।
৭। ব্লাউজের ডিজাইন কেমন হবে তা শাড়ির কথা মাথায় রেখে নির্ধারণ করুন।
৮। ব্লাউজের কাজ বেশি হলে শাড়ির কাজ কম হবে, একইভাবে বিপরীত নিয়ম
৯। মেনে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।
১০। শারীরিক গঠনের সঙ্গে মিলিয়ে ব্লাউজ তৈরি করুন।
১১। শাড়ি ও ব্লাউজে যে ধরনের উপাদান ব্যবহার করা হবে, গয়নাতেও একই মিল রাখার চেষ্টা করুন।
১২। ব্যাগের মধ্যেও কাজটি যেন শাড়ি ও ব্লাউজের সঙ্গে মানানসই হয়।
১৩। কাজ করা দামি ব্লাউজগুলো আলমারিতে হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখুন।