সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধে সকলের সদিচ্ছা প্রয়োজন

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১২:৫৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০১৮ | আপডেট: ৪:০৩:অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০১৮

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি ও এআরই,বুয়েট এর তথ্যমতে, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত মোট সড়ক দুর্ঘটনা ২৮৬০ টি ,নিহতের সংখ্যা ৩০২৬ এবং আহতের সংখ্যা ৮৫২০ জন।রাজধানীতে নিহতের ৭২ % পথচারী ।প্রতিদিন গড়ে মারা যায় ২০ জন ।আর আর্থিক ক্ষতি বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার মত ।এছাড়া ১৬ আগস্ট প্রকাশিত প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্টগুলোর মাধ্যমে জানতে পারি প্রতিদিন ঢাকায় ৫০ লাখ কর্মঘন্টা নষ্ট হয় ,প্রতিঘন্টায় গড় গতি ৫ কিঃমিঃ এবং এরককম চললে ২০২৫ সালে গিয়ে গতি দাঁড়াবে ৪ কিঃমিঃ এ, যা মানুষের হাঁটার গতির চেয়ে কম।

 

এছাড়া ফিটনেসবিহীন গাড়ির সংখ্যা ৫ লাখের মত ।আর ভুয়া চালক ৬ লাখের মত । যা আমাদের জন্য খুবই দুংখজনক ।তাই এ সমস্যার অতি দ্রুত সমাধান হওয়া দরকার,নইলে আদৌ সত্যিকারের সোনার বাংলা এবং উন্নতশীল বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয় ।আমরা দেখেছি নিরাপদ সড়ক চাইয়ের দাবিতে আন্দোলন চলাকালীন সময়ে ,পুলিশ সপ্তাহ চলাকালীন সময়ে ও অনেক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে।কোনো পরিবর্তন হয়নি,স্বাভাবিকভাবেই আছে।স¦ভাবত আমার মনে প্রশ্ন জাগে তাদের (নিহতদের পরিবারের ব্যাপারে) ব্যাপারে প্রশাসন এবং শ্রমিক সংগঠন কি ব্যবস্থা নিয়েছে ?এক এক জন কে কত লাখ টাকা করে দিয়েছে ?গত ১৪ আগস্ট ২০১৮, একসাথে ৭ বরযাত্রী নিহত কত টাকা দিয়েছে?টাকা দিয়ে কি মানুষকে হত্যা করা যায়?টাকার বদলে কি জীবন পাওয়া যায়?নাকি জীবনের কোনো মূল্য নেই ?নাকি আন্দোলন ছাড়া কিছু পাওয়া যায়না?নাকি সাধারণের বাণী পৌছায় না?চোখের জল কেউ দেখে না?আহজারি শুনেনা?যা হোক প্রশ্ন গুলো একান্ত ব্যক্তিগত বাস্তবতাকে অবলোকন করে।তবে আমরা কি আশার আলো দেখব না কভু?নিরাপদে বাড়ি ফিরব না? অবশ্যই নিরাপদে পথ চলতে চাই ।

 

আর এ জন্য আমরা কিছু কাজ করতে পারি এবং করা আবশ্যক যাত্রী থেকে শুরু করে পুলিশ-প্রশাসন,ভিআপি,এমপি-মন্ত্রী সবাই, তাহলে হয়ত আমরা নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারব যদি মেনে চলি বিষয়গুলি এবং কার্যকর করি ,আমাদের যার উপর যে বিষয়টি বর্তায়ঃ *সবাইকে আইনের চোখে সমান রাখা । সে যে ই হোক না কেন।আইনের চোখে যে সবাই সমান নয় তা আমরা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বেশ ভালো করে বুঝেছি।*লাইসেন্সবিহীন এবং ফিটনেসবিহীন সকল গাড়ি রাস্তায় চলাচল বন্ধ করে দেয়া ,এ ধরনের কোনো গাড়ি পেলে মোটা অংকের জরিমানাসহ থানায় আটকে রাখা।*ট্রাফিক আইন যথাযথ মানা ,না মানলে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জেল এবং জরিমানার ব্যবস্থা করা ।*রাস্তার এক পাশ দিয়ে এক সাথে পাশাপাশি কতটি গাড়ি চলাচল করতে পারবে সেটি নিশ্চিত করে লেনের ব্যবস্থা করা এবং লেন ছাড়া ইচ্ছামত গাড়ি চালালে ব্যবস্থা নেয়া।*ট্রাফিক পুলিশদের নিয়মিত সরকারি পদক্ষেপে যে কোনো রোগের ফ্রি চিকিৎসা দেয়া এবং শরীরে চেক আপ করানো এবং পুলিশ চৌকি গুলোতে ওয়াশরুম ,টয়লেটের ব্যবস্থা করা ।*চালক ,হেলপার,কন্ডাক্টরদের সাথে ভালো আচরণ ও ভদ্র ব্যবহার করা।

 

*নিয়মিত বিভিন্ন সেমিনারের আয়োজন করে চালক এবং তার সহযোগীদের প্রশিক্ষিত করে গড়ে তোলা ,পাশাপাশি মাদকের ভয়াবহতা এবং ক্ষতির দিক তুলে ধরে সচেতন করা।*ফুটপাত দখল করে যেসকল দোকানপাট গড়ে উঠে সবগুলো উঠিয়ে দেয়া ,দু কিংবা একশত টাকা পকেট মানির জন্য পুলিশের খাতির না করা,কথা না শুনলে ফুটপাত না ছাড়লে বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া ।*ঝুঁকিপূর্ণ এবং গুরুত্ব পূর্ণ মোড় গুলো কিংবা স্থানে স্প্রিড ব্রেকার এবং ফুটওভার ব্রিজের ব্যবস্থা করা ।*সকল পথচারীর ফুটওভার ব্রীজ ব্যবহার করা এবং রাস্তা পারাপারের সময় ফোনে কথা না বলা কিংবা হেডফোন ব্যবহার না করা।*ফুটপাতে কোনো মটরসাইকেল কিংবা রিক্সা উঠালে সাথে সাথে ব্যবস্থা গ্রহন করা ।*প্রতিদিন চালকের মালিককে যে টাকা পরিশোধ করতে হয় সে টাকার পরিমাণ কমিয়ে দেয়া।দ্রুত গাড়ি চালানোর এ ও একটি উওল্লখযোগ্য প্রধান কারন ।কেননা মালিকদের টাকা পরিশোধের পরই চালক,হেলপার,কন্ডাক্টরের এবং তেলের পয়সা জুটে ।

 

তাই ঘুম-নিদ্রা বাদ দিয়ে মরিয়া হয়ে ফাঁকা পেলেই দ্রুত চালিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী তোলা এবং সামনের যাত্রী নিজের গাড়িতে তোলার জন্য বাম,ডান নেই যেখান থেকে ইচ্ছা ওভারটেক করার চেষ্টা করা।ফলে দুর্ঘটনা ঘটে ।*দুতলা বাস বেশি পরিমানে চালু করা করা একতলা বাসগুলো বাদ দিয়ে ।কারন ঢাকার রাস্তায় জ্যামের অন্যতম কারন রাস্তার তুলনায় গাড়ির পরিমাণ বেশি ।অনেকে হয়ত বলবেন তাহলে তো গাড়ি ফাঁকা থেকে যাবে এত বড় গাড়ি অথবা গাড়ির ফাঁকা জায়গা পুরণের জন্য বেশি সময় বিভিন্ন জায়গায় দাঁড়িয়ে আরো জ্যাম বাঁধাবেন।না এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম থাকতে হবে কত সেকেন্ড বা কত মিনিট একটি মোড়ে দাঁড়াতে পারবেন ।*প্রতি সপ্তাহে যদি একদিন ভিআপি,এমপি-মন্ত্রীরা বিদেশের মত লোকাল বাসে চড়ার সৌভাগ্য অর্জন করতেন তাহলে সড়ক দুর্ঘটনা শূন্যের কোটায় নেমে যেত।কারন বাস্তবতা পরখ করার মজাই আলাদা ।

 

*এক সিজনে সমগ্র এলাকার রাস্তায় খোঁড়াখুড়ি না করা ।খোঁড়াখুড়ির কারনে রাস্তায় সারাদিন জ্যাম লেগে থাকা ,ফলে একটু ফাঁকা জায়গা পেলেই দ্রুত বেগে গাড়ি চালানো,এলোপাতাড়ি গাড়ি রাখা পিছনের গাড়িকে সামনে উঠতে না দেয়ার জন্য ,যেখান থেকে পারা যায় ওভারটেকের জন্য দাপাদাপি করা ফলে দুর্ঘটনা ঘটা (মিম এবং রাজিব(২)দের বেলায় যা ঘটেছে)।কোন এলাকায় কতগুলো রিক্সা চলাচল করতে পারবে তা নির্দিষ্ট করে দেয়া । *টাকার চেয়ে জীবনের মূল্য বেশি এ বিষয়টি সম্পর্কে সকলে অবগত থাকা ,লোভ মোহ দূরে রাখা।সর্বোপরি সকলের সচেতনতা এবং সদিচ্ছা,বিশেষ করে প্রশাসনের(যারা দায়িত্বে নিয়োজিত) সদিচ্ছাই পারে আমাদের জীবনের নিরাপত্তা দিতে এবং দেশকে পারে আর্থি ক ক্ষতির হাত থেকে মুক্তি দিতে |

 

লেখকঃ মুহাম্মদ হাসান মাহমুদ ইলিয়াস

শিক্ষার্থী,দর্শন বিভাগ ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়