যশোরের বেনাপোলে গরু শূন্য খাটালগুলো

প্রকাশিত: ১২:২০ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০১৮ | আপডেট: ১২:২০:পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০১৮
যশোরের বেনাপোলে গরু শূন্য খাটালগুলো

যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশে কড়াকড়ির কারণে সীমান্তের খাটালগুলো খাঁ খাঁ করছে। তবে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে খামারিদের গরুতে জমজমাট হয়ে উঠেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ হাট শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া সাতমাইল পশুর হাট।

 

গরু ব্যবসায়ীরা বলছেন, বেনাপোল থেকে শার্শার রুদ্রপুর পযন্ত সীমান্তের ইছামতি নদীর অংশটুকু বাদে বেশিরভাগ স্থানজুড়ে কাঁটাতারের বেড়া। পাশাপাশি সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে রয়েছে বিজিবি-বিএসএফের যৌথ নজরদারি । ফলে এই সীমান্ত দিয়ে গরু নিয়ে আসা এখন কঠিন ব্যাপার।

 

অবৈধপথে গরু আনার পর শার্শা উপজেলার বেনাপোলের পুটখালী, দৌলতপুর ও শার্শা উপজেলার অগ্রভূলোট এবং গোগা এই চারটি খাটালে গরু গুলো রাখা হয়। বর্তমানে গরু না আসায় খাটালগুলো খাঁ খাঁ করছে। নাভারণ পশু শুল্ক করিডোরে এসব পশুর ভ্যাট আদায় করা হয়।

 

নাভারন পশু শুল্ক করিডোরের শুল্ক বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, গত বছর প্রতিদিন গড়ে ১৭০টির মত গরু বাংলাদেশে আসলেও এবার সে সংখ্যা ৩৫ এ দাঁড়িয়েছে। তবে ঈদকে সামনে রেখে তা আরও কমে ২০/২২ এ দাঁড়িয়েছে।

 

তিনি বলেন, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই পর্যন্ত) ভারত থেকে বাংলাদেশে আসা পশুর সংখ্যা সাত হাজার ৫২৬টি। এ থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। অথচ গত বছর একই সময়ে ভারত থেকে ৩৫ হাজার ৬৭৮টি পশু আসে । সরকার ওই সময় এক কোটি ৭৮ লাখ টাকা ৩৯ হাজার টাকার রাজস্ব আয় করে।

 

পুটখালী খাটালের ইজারাদার নাসিম রেজা পিন্টু জানান, বিএসএফ এবার তাদের সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে থাকা সব হাট সরিয়ে নিতে বলেছে। ফলে উত্তর চব্বিশ পরগনার পাঁচপোতা, নদীয়ার হাকনাবাড়ি, মালদার পাপুয়াহাট, মুর্শিদাবাদের কৃষ্ণপুর, ধনিরামপুর আর ধুলিয়ান হাটে এবার গরু আসেনি। মূলত এসব হাট থেকেই প্রতি বছর কোরবানির আগে সীমান্তের এপাড়ের খাটালগুলোতে গরু আসত।

 

অগ্রভুলোট খাটালের ইজারাদার আব্দুর রশিদ বলেন, ভারতীয় গরু না আসায় এবার খাটালগুলো খাঁ খাঁ করছে। আগে দেশের নানা জায়গা থেকে ব্যবসায়ীরা কোরবানির আগে খাটালে এসে গরুর দরদাম করত। এখন খাটালে গরুই নেই। ব্যবসায়ীরা তাই এদিকে খুব একটা আসেন না।

 

কয়েকদিন আগে অগ্রভুলোট ও গোগা সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফের প্রতি পাথর ছুড়ে আত্রমণ করে বাংলাদেশি চোরাকারবারিরা। এরপর ‘আক্রমণ হলেই গুলি’- বিএসএফের এমন হুঁশিয়ারির কারণে সতর্ক রয়েছে বিজিবি।

 

খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মেজর সৈয়দ সোহেল আহমেদ জানান, ভারত থেকে গরু তেমন আসছে না। গরু আনতে কোনো বাংলাদেশি রাখালকে ভারতে যেতে দেয়া হচ্ছে না। বেনাপোল ও শার্শা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশি গরুর রাখালরা যাতে অবৈধভাবে ভারতে গরু আনতে না যায় সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে জনসচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা করা হয়েছে।

 

নাম না প্রকাশ করার শর্তে কয়েকজন রাখাল বলেন, দুই দেশের শূন্য রেখায়, যেখানে কাঁটাতারের বেড়া নেই সেই পথ দিয়ে কিছু গরু আসছে। অবশ্য তার সংখ্যা খুবই কম। ভারতীয় রাখালরাই সীমান্তের শূন্য রেখায় এসে গরু গুলো দিয়ে যায়।

 

ভারতীয় গরু না আসায় কোরবানিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না জানিয়ে যশোরের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ভবতোষ কান্তি সরকার বলেন, জেলার প্রায় ১১ হাজার খামারে কোরবানির জন্য ৩৬ হাজার গরু,৩২ হাজার ছাগল ও ভেড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। অথচ কোরবানির জন্য যশোরের চাহিদা ২৭ হাজার গরু ও ২০ হাজার ছাগল।