বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি পায়ে পিষে শোক পালন! (ভিডিও)

প্রকাশিত: ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০১৮ | আপডেট: ১:১৭:পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০১৮

শোক না উৎসব!

শোক র‌্যালিতে বিএম কলেজের শিক্ষক কাইয়ুম হোসেনের হাসি নিয়ে তোলপাড় সোস্যাল মিডিয়ায়। 

১৫ই আগস্ট বাঙালি জাতির কাঁদার দিন। ১৯৭৫ সালে কালরাত্রে জাতির আশার মুখে ছাই দিয়ে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে কুলাঙ্গার ঘাতকেরা। প্রতিবরই এই দিনটিতে শোকাবহ পরিবেশে গোটা জাতি বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে পরম শ্রদ্ধায়।

কিন্তু এবারকার শোক দিবসের কর্মসূচিতে বরিশালে চোখে পরেছে শোকের বদলে উৎসবের ছাপ। নীরব শোকের বদলে মাইক, হাততালি দিয়ে মিছিল শোডাউন আর চর্তুদিকে বিরিয়ানির মৌ মৌ গন্ধ। কোথাও জাতিরজনক ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি পায়ে মারিয়ে কনসার্ট করতেও দেখা গেছে।

তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে শোক র‌্যালিতে হাসাহাসি কওে বির্তকের মুখে পড়েছেন বিএম কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাইয়ুম হোসেন। এমনিতেই সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনা শুনে অট্টহাসি দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন আভ্যন্তরীন নৌ যোগাযোগ মন্ত্রী শাজাহান খান।

 

তার এক হাসিতেই কেঁপে উঠে ছিল বাংলাশে। অনেকেই এ হাসিকে তুলনা করেছিলেন পাষন্ডের হাসির সাথে। যার ফলশ্র“তিতে দেখা দিয়েছিল নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরে এক স্বতস্ফুর্ত আন্দোলন।

মন্ত্রী শাজাহান খানের মত হাসাহাসি করে এবর বির্তকের মুখে পড়েছেন শিক্ষক নেতা কাইয়ুম হোসেন। যা নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে অর্ন্তজাল দুনিয়ায়।

গতকাল রাইসুল ইসলাম অভি নামের একজন বির্তক সংগঠক সোস্যাল মিডিয়া ফেসবুকে বিএম কলেজে শোকর‌্যালীর একটি ছবি পোস্ট করেন। যেখানে ক্যাপশন লেখা হয় ‘ শোক র‌্যালিতে কাইয়ুম স্যার হাসছেন।’

পোস্ট হতে না হতেই তা ভাইরাল হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে। যওি ছবিটিকে এবছরের নয়, গতবছরের বলে দাবি করে পার পাওয়ায় চেষ্টা করছেন শিক্ষক কাইয়ুম।

 

তবে অ্যাকটিভিস্ট মহল বলছে কখনোই শোক বিস আনন্দও হতে পারেনা। যারা উৎসব পালন করে তারা কখনোই মুজিবের চেতনা লালন করেনাএবং বাংলাদেশকে ধারণ করে না।

অনাকাঙ্খিতভাবে শোক দিবসে উৎসবমুখর পরিবেশ হওয়ায় আনেকেই ক্ষোভ ঝেড়েছেন সোস্যাল মিডিয়ায়।

সেই আলোচিত ছবিতে সাইদ বারী লিখেছেন, ‘শোক বড় কথা নয়। বড় কথা হলো হাসি মাখা ছবি। মুন্না লিখেছেন, ‘এদের মত কিছু শিক্ষিত বোধহীন মানুষদের কারণে ল ও নেতার বনাম হয়। শোক র‌্যালী ও আনন্দর‌্যালীর পার্থক্যটা বোঝার মতো বোধটাই তাদের নেই’।

 

জাকির হোসেন লিখেছেন, ‘ওহ মাই গড! এরা আবার প্রফেসর!!’ শাহারিয়ার বিপ্লব লিখেছেন, ‘কাইউম স্যারের অনেক রকম চেহারা! এটা তারই একটা অংশ।’

বিএম কলেজে ২৪ হাজারের মত ছাত্র ছাত্রী থাকলেও গুটিকতেক শিক্ষার্থী নিয়ে দায়সারা শোক র‌্যালি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জিয়া শাহিন।

নাসিমুল হক লিখেছেন, শুধু কাউয়ুম স্যার কেন, তার সাে ব্যানারের সামনে থাকা ছাত্রীরা কেউ সেলফি তুলে, মিসকি হাসে, ফোনে কথা বলছে..।’

হাসান আল হাসিব লিখেছেন, ‘কেউ সেলফি তোলে, কেউ হাসে, কেউ আবার মোবাইলে কথা বলে!! হায়রে শোক। ইথিক্স বলতে এখন আর কিছু নেই।’

পলাশ চৌধুরী লিখেছেন, এটা দেখে মনে হচ্ছে, পহেলা বৈশাখ এর বর্নাঢ্য র‌্যালি। এদের লজ্জা থাকা উচিত।’

মুর্তাজা জুয়েল লিখেছেন, কাইয়ুম স্যারের পাশের মেয়েরাও শোক র‌্যালী বেশ এনজয় করছে।

নিকুঞ্জ বালা পলাশ লিখেছেন, শুধু কাইউম স্যারই নয়, ছবির অনেকের মুখে হাসি..কি আর বলবো। জাতির জনক এসব দেখে লজ্জা পাচ্ছেন।’

 

এমডি শিবলু মোল্লা লিখেছেন, খালি হাসাহাসি আর হাসাহাসি। শোক র‌্যালিতে হাসি কেন?

এমন প্রশ্নই করেছিলাম বরিশাল মহানগর আ’লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলালের কাছে।

প্রতিউত্তরে তিনি বলেন, ‘শোক পালন যার যার রুচির ব্যাপার। শোক শোকই। শোক পালনের ক্ষেত্রে এর মার্ধুযতা ও ভাবগার্ম্ভীয ধরে রাখা উচিত। যারা শোককে উৎসবমুখর খেতে চাচ্ছে তারা এটা ভুল করেছে। যা অনুচিত এবং অত্যন্ত নিন্দনীয়। জাতীয় শোক দিবসকে অপমান করা অর্থাৎ শোক দিবসের শোকর‌্যালীতে হাসাহাসি করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অপমানিত করছেন।’

যারা শোক দিবসকে আননন্দে পরিণত করেছেন তাদের বিরুদ্ধে এ আ’লীগ নেতা কোন ব্যবস্থা নেয়ার ইঙ্গিত না দিলেও তাদের সাংগঠিক ক্যারিয়ার তদন্তের আওতায় আনা দাবি করেছেন অনেকেই।

এদিকে বিএম কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাইয়ুম হোসেন জানান, ‘ছবিটি গতবছরের। আর শোক র‌্যালিতে হাসা যাবেনা এমন কি কোন নিয়ম আছে? এমন পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন।

এসময় তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, ‘আমি কে তা ভালো করে জেনে নেন।