পটুয়াখালীর পাঁচ রাজাকারের মৃত্যুদণ্ড

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৩:৩২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০১৮ | আপডেট: ৩:৩২:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০১৮
পটুয়াখালীর পাঁচ রাজাকারের মৃত্যুদণ্ড

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পটুয়াখালীর পাঁচ রাজাকারের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

 

 

সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিচারপতি মো. শাহীনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ রায় দেন। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় দেন ট্রাইব্যুনাল।

এ সময় পাঁচ আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন- পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের গিলাবুনিয়া গ্রামের এছাহাক শিকদার, বল্লভপুর গ্রামের সোলায়মান মৃধা, গলাচিপা গ্রামের আবদুস সাত্তার পেদা, আবদুল গণি হাওলাদার এবং মো. আউয়াল ওরফে মৌলভী আবদুল আউয়াল। সবাই গ্রেফতার হয়ে কারাগারে ছিলেন।

 

গত ৩০ মে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। এটি ২০১০ সালে গঠিত ট্রাইব্যুনালের ৩৪তম রায়।

 

২০১৭ সালের ৮ মার্চ এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যা ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশন পক্ষ জানিয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনার অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ১৫ নারীকে ধর্ষণ ও ১৭ জনকে নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে ৮ জন বীরাঙ্গনা এখনও বেঁচে আছেন। এ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে একাত্তরের ৪ মে স্থানীয় ১৫টি বাড়ি ভাংচুরের অভিযোগ রয়েছে।

 

তারা আরও জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১১ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ছয়জন সাক্ষী মুক্তিযুদ্ধের সময় এই আসামিদের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। আর তদন্ত কর্মকর্তা ছাড়া বাকি সাক্ষীরা ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য।

 

ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে ২০১৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিজ নিজ এলাকা থেকে আসামিদের গ্রেফতার করে পুলিশ। ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবে যুদ্ধাপরাধে জড়িত হওয়ার অভিযোগ এনে এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। প্রসিকিউশনের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, পাঁচ আসামির সবাই একাত্তরে ছিল মুসলিম লীগ সমর্থক। আর ২০১৫ সালে গ্রেফতার হওয়ার সময় তারা স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত ছিল।