সাতক্ষীরায় স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামী-শ্বশুরের মৃত্যুদণ্ড

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৩:৩১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৭, ২০১৮ | আপডেট: ৩:৩১:অপরাহ্ণ, আগস্ট ৭, ২০১৮
সাতক্ষীরায় স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামী-শ্বশুরের মৃত্যুদণ্ড

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় স্ত্রী আমেনা খাতুনকে (১৮) পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্বামী ওমর আলী ও শ্বশুর দ্বীন মোহাম্মদ গাজীকে মৃত্যুদাণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার আরেক আসামি ওমর আলীর মা আনোয়ারা বিবিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকালে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সাদিকুল ইসলাম তালুকদার আদালতে এ রায় প্রদান করেন। রায়ের সময় আসামি ওমর আলী ও দ্বীন মোহাম্মদ গাজী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওসমান গনি।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের নভেম্বরে কলারোয়া উপজেলার চান্দুড়িয়া গ্রামের দ্বীন মোহাম্মদ গাজীর ছেলে ওমর আলীর সঙ্গে বিয়ে হয় একই উপজেলার গোয়ালপোতা গ্রামের আব্বাস উদ্দীনের মেয়ে আমেনা খাতুনের। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে ওমর আলী তার স্ত্রীকে প্রায়ই মারধর করতো। এরই জের ধরে ২০১৭ সালের ৬ জানুয়ারি রাত ৯টার দিকে ওমর আলী তার বাবা দ্বীন মোহাম্মদের সহযোগিতায় স্ত্রী আমেনা খাতুনকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে লাশ চান্দুড়িয়া গ্রামের উত্তর পাশে ইছামতি নদীতে ফেলে দেয়।

পরদিন সকালে ওমর আলী তার শ্বশুর বাড়িতে খবর দেয় তাদের মেয়েকে পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে। এর একদিন পর স্থানীয়রা ইছামতি নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ গায়ে ক্ষত চিহ্ন ও গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় লাশটি উদ্ধারের পর আমেনার বাবা-মাকে খবর দিলে তারা তাদের মেয়েকে শনাক্ত করে।

এরপর ১০ জানুয়ারি আমেনার বাবা আব্বাস উদ্দীন বাদী হয়ে আমেনার স্বামী ওমর আলী, শ্বশুর দ্বীন মোহাম্মদ ও শ্বাশুড়ি আনোয়ারা বিবিসহ ৫ জনের নামে কলারোয় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামি ওমর আলী প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করে।

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সোলায়মান আক্কাস ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি দীর্ঘ তদন্ত শেষে আসামি ওমর আলী, দ্বীন মোহাম্মদ ও আনোয়ারা বিবির নামে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

মামলার নথি ও ৭ জন স্বাক্ষীর জবানবন্দি পর্যালোচনা শেষে বিচারক আজ মঙ্গলবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।