খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৫:২৭ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৫, ২০১৮ | আপডেট: ৫:২৭:পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৫, ২০১৮

আন্দোলন ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রশ্নে তৃণমুল বিএনপির মতামত নিতে দুই দিন চলা ঘরোয়া বৈঠক শেষ হয়েছে শনিবার। বিএনপির দশ সাংগঠনিক বিভাগ ও ৭৮ জেলার তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা মতামত দিয়েছে যে, দলের চেয়ারপারসন কারাবন্দী খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবি আদায়ে কঠোর আন্দোলনে যেতে হবে। তার মুক্তি ছাড়া নির্বাচন বয়কট করতে হবে।

দু’দিনে মোট চার দফায় তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে এ বৈঠক হয়। যেখানে দলের তৃণমূল নেতারা তাদের কথা সিনিয়র নেতাদের সামনে তুলে ধরেন। বৈঠকে উপস্থিত সিনিয়র নেতারা তাদের কথা নোট নেন। মাঠ নেতাদের ভাষ্য হলো, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে, বিএনপির পক্ষে বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনে যাওয়া উচিত হবে না। খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচনে গেলে কোনো লাভ হবে না, বরং সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোর মতো অবস্থা হবে। কাজেই এখন নির্বাচনের প্রস্তুতি নয়, প্রস্তুতি একটাই, সেটা হচ্ছে, খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করা। তখন আগামী সেপ্টেরের মধ্যে কঠোর আন্দোলনের ডাক আসতে পারে বলে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে তৃণমূল বিএনিপকে প্রস্তুতি নিতেও বলা হয়।

লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল খায়ের ভুইয়া জানান, তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতাদের বৈঠকের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে, আগামী দিনে আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করা। তৃণমূল নেতারা সবাই খালেদা জিয়ার মুক্তির ইস্যুতে আন্দোলন গড়ে তুলতে মতামত দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় নেতারাও মনে করেন, খালেদা জিয়াকে ছাড়া বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হবে না। সেই লক্ষ্যে সবাইকে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেন সিনিয়র নেতারা। বিএনপির প্রথম এজেন্ডা হচ্ছে চেয়ারপারসনের মুক্তি এবং সেই আলোকেই আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনকে জোরালো করতে সাংগঠনিকভাবে সকল জায়গায় কমিটি দেওয়ার বিষয়ে আমরা কথা বলেছি। আন্দোলনে ভিন্নতা চেয়েছি আমরা।

ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপি’র সভাপতি নাজিম উদ্দিন বলেন, জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলাম নিয়ে নেতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তবে সব কিছু ছাপিয়ে দলের প্রধানের মুক্তির বিষয়টি বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। তৃণমূলের থাকা সাংগঠনিক নানা দুর্বলতা নিয়েও বেশ আলোচনা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিশোরগঞ্জের একজন তৃণমূল বলেন,আমরা প্রায় সময়ই ৩০০ সংসদীয় আসনে ৯০০ জন নেতার নাম দেখতে পাই। তাহলে কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি অনুরোধ, আমাদের আগামী দিনের আন্দোলনের জন্য সেই সকল নেতাদের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হোক, যারা আন্দোলনে ভূমিকা রাখবে। তাদেরকে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হোক যারা আন্দোলনের কথা শুনলেই অসুস্থতার অজুহাতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন, এমনকি কেউ আত্মগোপন কেউ আবার বিদেশে পাড়ি দেন—তাদেরকে পরিহার করতে হবে। জোট সম্প্রসারণের প্রয়োজনে জাতীয় ঐক্য করা হলেও সেটা আলোচনা সাপেক্ষে হলে ভালো। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে দলের সাংগঠনিক পর্যায়ের ধারাবাহিকতায় ভিন্ন অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের কমিটি ঘোষণা করা হয়, অথচ তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজনও অনুভব করে না। আমরা জানিও না, কমিটি ঘোষণা করা হচ্ছে, ঘোষিত কমিটি আবার বিলুপ্তিও করা হচ্ছে। কাজেই এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে নজর দিতে হবে, নতুবা এর পরিণতি দলের জন্য হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তৃণমূল নেতাদের উদ্দেশ্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন নেতা বলেন, আপনারা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিন। সাংগঠনিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হোন। কবে ও কীভাবে আগামী দিনে আন্দোলন হবে, সে বিষয়ে স্থায়ী কমিটিসহ বিএনপির সদস্যরা ও হাইকমান্ড সিদ্ধান্ত নিয়ে জানিয়ে দেবে।

শনিবার সকালে ও বিকালে দুই দফায় বৈঠকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সভাপতিত্ব করেন। কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি জেলা ও মহানগর কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সিনিয়র সহ-সভাপতি, যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

  • ইত্তেফাক