রাজীবকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল দুই বোনের

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৯:১৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১, ২০১৮ | আপডেট: ৯:১৬:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১, ২০১৮

ছোটবেলায় বাবা নুরুল ইসলামকে হারান আব্দুল করিম রাজীব। এর পর মা আর বোনদের কাছেই মানুষ হন তিনি। ঢাকায় এনে তার দুই বোন তাকে খালাতো ভাই মেহরাজের দক্ষিণখানের বাসায় রাখেন। সেখানে থেকেই পড়াশোনা করে আসছিলেন রাজীব। ভাইকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল দুই বোনের। সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল সড়কে ভাইয়ের করুণ মৃত্যুতে।

দুই ভাই আর দুই বোনের মধ্যে রাজীব তৃতীয়। তার মা গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়ায় বসবাস করেন। ছেলের মৃত্যু সংবাদ তখনও গ্রামে থাকা মাকে জানাননি স্বজনরা। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রাজীবের দুই বোন কুলসুম ও নাজমা বিলাপ করছিলেন আর বলছিলেন- ‘এমন জানলে তোরে ঢাকায় আনতাম না রে ভাই! এখন মাকে কী বলে সান্ত্বনা দেব?’ রাজীবকে সেনা কর্মকর্তা বানানোর স্বপ্ন ছিল তার পরিবারের।

রাজীবের দুই বোনকে সান্ত্বনা দিতে এগিয়ে যান তার সহপাঠীরা। এ সময় রাজীবের দুই বোন আরও ভেঙে পড়েন। বলেন, ‘তোদের সঙ্গে তো আমার ভাই ছিল! কীভাবে তোরা ওকে হারালি? বোনের আদর আর বাবার ভালোবাসা দিয়ে রাজীবকে বড় করেছি। ভাইকে নিয়ে কত স্বপ্ন ছিল আমাদের!’ এ সময় ঘাতক বাসচালকের দৃষ্টান্তমূলক সাজা দাবি করেন তারা।

রাজীবের খালাতো ভাই মেহরাজ বলেন, রাজীবের লেখাপড়ার খরচ তিনিই বহন করে আসছিলেন। শনিবার অনেক রাত পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলা দেখে ঘুমিয়ে পড়ে রাজীব। সকালে তাড়াহুড়ো করে ঘুম থেকে উঠে কলেজে যায়। কলেজ থেকে এসে একসঙ্গে বের হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জীবিত আর ফেরা হলো না তার!

কুর্মিটোলা হাসপাতাল থেকে যখন রাজীবের দুই বোন বাসায় ফিরছিলেন, তখন তার ভাইয়ের সহপাঠীদের দেখে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন। কয়েকজনকে জড়িয়ে তাদের সান্ত্বনা দিতে গেলে শুরু হয় হৃদয়বিদারী বিলাপ।

রাজীবের বন্ধু ফয়সাল আহমেদ ও ফারুক নাহিদ বলেন, ‘রাজীবের মতো এমন মিশুক ছেলে তাদের ক্লাসে কম ছিল। কারও বিপদ শুনলে সবার আগে এগিয়ে যেত সে। কলেজ ছুটি হওয়ার পর বাসায় ফিরতে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিল রাজীব।’ বন্ধুর এমন মৃত্যু কোনোভাবে তারা মেনে নিতে পারছিলেন না।